রবিবার,  ২০শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ,  ৬ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ,  সন্ধ্যা ৭:২৫

শরীয়তপুরে কলেজ ছাত্রীকে পালাক্রমে ধর্ষণ, গ্রেফতার ১

জুলাই ৩, ২০১৯ , ১৮:০৪

স্টাফ রিপোর্টার
শরীয়তপুরের আন্তঃজেলা পরিবহনের চার শ্রমিকের বিরুদ্ধে জাজিরার একটি স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রীকে দলবেঁধে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। আর সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে রাকিব মন্ডল (২২) নামে একজন শ্রমিককে আটক করেছে পালং মডেল থানার পুলিশ।

২ জুলাই মঙ্গলবার রাতে সদর উপজেলার উত্তর মধ্যপাড়া গ্রামের একটি বাড়িতে অভিযুক্ত চার শ্রমিক ওই ছাত্রীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে।
স্থানীয়রা শরীয়তপুর বনবিভাগের পুকুরঘাট থেকে ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করে তার পরিবারের কাছে পৌঁছে দেয়।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে মঙ্গলবার রাতে পালং মডেল থানায় একটি মামলা করেন। সেই মামলার প্রেক্ষিতে চালক রাকিব মন্ডল (২২) নামে একজনকে আটক করেছে পালং মডেল থানার পুলিশ।

পালং মডেল থানা ও স্থানীয় সূত্র জানায়, জাজিরা উপজেলা সদরের একটি স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রীর বাড়ি নড়িয়া উপজেলায়। গত বছর নদী ভাঙ্গনে গৃহহীন হয়ে জাজিরা উপজেলার একটি গ্রামে আশ্রয় নেয় তার পরিবার।

রোববার বিকেলে ওই ছাত্রী তার এক আত্মীয়র বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার জন্য শরীয়তপুর জেলা শহরের বাস টার্মিনালে আসেন। তখন সেখানে দেখা হয় পূর্ব পরিচিত পরিবহন শ্রমিক ইসলাম ফকিরের সাথে। ইসলাম ফকির ওই ছাত্রীকে তার আত্মীয়র বাড়িতে পৌঁছে দেয়ার কথা বলে তার বন্ধু রাকিব মন্ডল, সবুজ রাড়ী এবং ইকবালের সঙ্গে অটোরিকশায় তুলে দেয়।

রাকিব মন্ডল, সবুজ রাড়ী এবং ইকবাল মেয়েটিকে নিয়ে শরীয়তপুর সদর উপজেলার মনোহর বাজারে যান। সেখানে কিছু খাওয়া দাওয়ার পর মেয়েটিকে রাকিবের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে মেয়েটির মুখ বেঁধে রাকিব মন্ডল, সবুজ রাড়ী এবং ইকবাল প্রথম দফায় ধর্ষণ করেন। এরপর সন্ধ্যায় ওই বাড়ি যায় ইসলাম। রাতে ইসলাম ওই মেয়েটিকে ধর্ষণ করেন। পুণরায় ধর্ষণ করা নিয়ে ইসলামের সঙ্গে রাকিব মন্ডল, সবুজ রাড়ী এবং ইকবাল কথা কাটাকাটি হয়। তখন ইসলাম ফকির মেয়েটিকে তাদের বাড়ির পাশের শরীয়তপুর বনবিভাগের পুকুর ঘাটে নিয়ে যায়। পুকুর ঘাটে নিয়ে ইসলাম ফকির মেয়েটিকে পুণরায় ধর্ষণ করে।

পরে স্থানীয় এক অটোরিকশা চালক তাদের দেখতে পেয়ে এগিয়ে গেলে ইসলাম ফকির মেয়েটিকে বিয়ে করবে এমন প্রতিশ্রুতি দিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যায়। পরে ওই অটোরিকশা চালক বিষয়টি পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের জানান এবং মেয়েটিকে তার পরিবারের সদস্যদের কাছে পৌঁছে দেন। পরিবহন শ্রমিকরা অপরাধীদের বিচার করবেন এমন প্রতিশ্রুতি দিয়ে মেয়েটির পরিবারকে থানায় যেতে নিষেধ করেন।

মঙ্গলবার শরীয়তপুর আন্তঃজেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ফারুক চৌকিদার অভিযুক্ত রাকিব মন্ডলকে বাস টার্মিনালে দেখতে পান এবং তাকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেন। রাতে ওই স্কুল ছাত্রীর বাবা পালং মডেল থানায় মামলা করেন।

ওই ছাত্রী বলেন, “ইসলাম ফকির, রাকিব মন্ডল, ইকবাল এবং সবুজ রাড়ী আমাকে কয়েক দফায় ধর্ষণ করেছে। এখন আমি কিভাবে সমাজে মুখ দেখাব? আমি তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

পালং মডেল থানা হাজতে আটককৃত রাকিব মন্ডল বলেন, “আমি ওই মেয়েটির সাথে কিছু করিনি। ইসলাম ফকির, সবুজ রাড়ী এবং ইকবাল তাকে ধর্ষণ করেছে। তারাই ওই মেয়েটিকে আমার বাড়িতে নিয়ে গিয়েছিল। ইসলাম ফকির, সবুজ রাড়ী এবং ইকবাল কোথায় আছে তা আমি জানি না”।

শরীয়তপুর সদরের পালং মডেল থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আসলাম উদ্দিন বলেন, “চারজন মিলে একটি মেয়েকে ধর্ষণ করেছে এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে একজন শ্রমিককে আটক করা হয়েছে। ভিকটিম অর্থাৎ মেয়েটির বাবা চারজনকে আসামি করে একটি মামলা করেছে। মামলার বাকি আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। আসামিদের সবার বাড়ি শরীয়তপুর পৌরসভার উত্তর মধ্যপাড়া গ্রামে”।

Total View: 603

    আপনার মন্তব্য





সারাদেশ

কক্সবাজার

কিশোরগঞ্জ

কুড়িগ্রাম

কুমিল্লা

কুষ্টিয়া

খাগড়াছড়ি

খুলনা

গাইবান্ধা

গাজীপুর

গোপালগঞ্জ

চট্টগ্রাম

চাঁদপুর

চাঁপাইনবাবগঞ্জ

চুয়াডাঙা

জয়পুরহাট

জামালপুর

ঝালকাঠী

ঝিনাইদহ

টাঙ্গাইল

ঠাকুরগাঁও

ঢাকা

দিনাজপুর

নওগাঁ

নড়াইল

নরসিংদী

নাটোর

নারায়ণগঞ্জ

নীলফামারী

নেত্রকোনা

নোয়াখালী

পঞ্চগড়

পটুয়াখালি

পাবনা

পিরোজপুর

ফরিদপুর

ফেনী

বগুড়া

বরগুনা

বরিশাল

বাগেরহাট

বান্দরবান

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ভোলা

ময়মনসিংহ

মাগুরা

মাদারীপুর

মানিকগঞ্জ

মুন্সিগঞ্জ

মেহেরপুর

মৌলভীবাজার

যশোর

রংপুর

রাঙামাটি

রাজবাড়ী

রাজশাহী

লক্ষ্মীপুর

লালমনিরহাট

শরীয়তপুর

শেরপুর

সাতক্ষীরা

সিরাজগঞ্জ

সিলেট

সুনামগঞ্জ

হবিগঞ্জ

Flag Counter