বৃহস্পতিবার,  ২১শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ,  ৭ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,  রাত ৪:৩২

শরীয়তপুরে পৌর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চলছে মনোনয়নের লড়াই

ডিসেম্বর ১৫, ২০২০ , ০৯:২১

এম.এ ওয়াদুদ মিয়া
তফসিল ঘোষণার পূর্ব থেকেই শরীয়তপুর পৌরসভা নির্বাচনের মৃদু বাতাস বইতে শুরু করে ছিলো। তফসিল ঘোষণার পর থেকে সে বাতাস আরো জোরে সোরে বইতে শুরু করেছে। দ্বিতীয় ধাপে শরীয়তপুর পৌরসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছেন নির্বাচন কমিশন।
সেই ঘোষণার প্রেক্ষিতে আগামী ১৬ জানুয়ারি শরীয়তপুর পৌরসভার ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। মনোয়নপত্র জমাদানের শেষ তারিখ ২০ ডিসেম্বর। তারই ধারাবাহিকতায় সম্ভাব্য প্রার্থীরা ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে দোয়া প্রার্থনা করার পাশাপাশি হরেক রকমের পোষ্টার, ফেস্টুন লাগিয়ে দোয়া চাইছেন। কোন কোন সম্ভাব্য প্রার্থীরা ভোটারের বাড়ি গিয়ে উঠান বৈঠক করছেন। দিচ্ছেন বিভিন্ন ধরণের প্রতিশ্রুতি। আবার অনেকে নিজের শক্তি জানান দিতে শোডাউন করছেন।
এদিকে পাড়া মহল্লার হোটেল বা চায়ের দোকানে চলছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা। চলছে চুল চেরা হিসেব নিকাশ। প্রশ্ন একটাই, কে হচ্ছেন পরবর্তী পৌর পিতা।
এদিকে ভোটাররা বিগত বছরে পৌর এলাকায় উন্নয়নে কে কী ভূমিকা রেখেছে তার হিসাব-নিকাশ কষতে শুরু করেছেন। তারা মনে করছেন, সুষ্ঠ ভোট হলে, কোন প্রার্থী নির্বাচিত করলে, জনগণের উন্নয়ন হবে, জনগণ পৌরসভার কাছ থেকে কী নাগরিক সুবিধা পাবে, এসব বিষয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
অপরদিকে রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা মনোনয়ন লাভের আশায় লবিং শুরু করছেন। ইতিমধ্যে সরকার দলীয় সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীরা দলীয় মনোনয়ন পেতে ফরম সংগ্রহ করেছেন। তবে কেন্দ্রের দিকে তাকিয়ে আছেন সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী এবং তৃণমূলের কর্মী সমর্থকরা।
আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন, বর্তমান মেয়র ও ম্যাবের সাধারণ সম্পাদক, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রফিকুল ইসলাম কোতোয়াল, শরীয়তপুর পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতি এমএম জাহাঙ্গীর মৃধা, শরীয়তপুর জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাবেক ছাত্রলীগ নেতা নুরুল আমিন কোতোয়াল, সাবেক জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিদ্দিকুর রহমান পাহাড়, বর্তামান প্যানেল মেয়র ও শরীয়তপুর বাস মালিক সামতির সাধারণ সম্পাদক বাচ্চু বেপারী এবং এ্যাডভোকেট পারভেজ রহমান জন।
বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে শরীয়তপুর জেলা বিএনপি’র দপ্তর সম্পাদক এ্যাডভোকেট মোহাম্মদ কামরুল হাসান ও পৌর বিএনপির সভাপতি এ্যাডভোকেট লুৎফর রহমান ঢালীর নাম শোনা যাচ্ছে। আর জাতীয় পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে জেলা জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক সাহিদ সরদারের নাম শোনা যাচ্ছে।
তৃণমূল থেকে উঠে আসা জেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি ও পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতি এমএম জাহাঙ্গীর মৃধা বলেন, ছাত্রজীবন থেকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জিবিত হয়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতে যুক্ত হয়েছি। শত বাধা বিপত্তি, জুলুম-নির্যাতন বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকে বিচ্যুত করতে পরেনি। রাজনীতির পাশাপাশি মানুষের জন্য সাধ্যমত কাজ করতে চেষ্টা করেছি। বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানুষের পাশে থেকেছি। তাই পৌর সভায় মেয়র পদে দলীয় মনোয়ন প্রত্যাশী হয়েছি। দল যদি আমাকে মনোনয়ন দেয় তাহলে বিপুল ভোটের ব্যবধানে মেয়র পদটি প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দিতে পারব।
শরীয়তপুর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এবং শরীয়তপুর সরকারী কলেজের সাবেক ভিপি ও শরীয়তপুর জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল আমিন কোতোয়াল বলেন, ছাত্রজীবন থেকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ছাত্রলীগের বিভিন্ন গুরুত্বর্পূণ দায়িত্ব পালন করেছি। কখনো কোন লোভ-লালসা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি। আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে আমরা বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অত্যাচার অবিচার জুলুম-নির্যাতন সহ্য করে দলকে শক্তিশালী করতে ভূমিকা রেখেছি। চারদলীয় জোট সরকারের জুলুম-নির্যাতনের বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে ১৯টি মামলায় আসামি হয়েছে। দুইবার কারাবরণ করেছি। ১৫ ফেব্রুয়ারি প্রহসনের নির্বাচনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে জেল খেটেছি। আমি মনোনয়ন পেলে বিপুর ভোটে বিজয়ী হবো এবং অবহেলিত শরীয়তপুরকে একটি শান্তির নগরী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করবো।
শরীয়তপুর পৌরসভার বর্তমান প্যানেল মেয়র এবং শরীয়তপুর বাস মালিক সামতির সাধারণ সম্পাদক বাচ্চু বেপারি বলেন, আমি শরীয়তপুর পৌরসভায় প্যানেল মেয়র হিসেবে জনগণের চাহিদা মোতাবেক এলাকায় ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ করেছি। যে কারণে আমার দল ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন মনোনয়ন বোর্ড আগামী নির্বাচনে আমাকে মনোনয়ন দিলে নৌকার প্রার্থী হিসেবে আমি বিজয়ী হব।
শরীয়তপুর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান পাহাড় বলেন, আন্দোলন সংগ্রামে অগ্রভাগে থেকে নেতৃত্ব দেয়ার কারণে বিএনপি-জামাত জোট সরকারের আমলে একাধিক মিথ্যা মামলার আসামি হয়েছি আমি। ২০০৬ সালে কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে নির্বাচন অফিস ঘেরাও করতে গেলে পুলিশ আমাদের উপর লাঠিচার্জ করে ও গুলিবর্ষণ করে। সে ঘটনায় দায়ের করা মিথ্যা মামলায় আমাকে ১নং আসামি করা হয়েছিল। বেশ কয়েক বার কারাভোগ করেছি। তবুও বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকে বিচ্যুত হইনি।
শরীয়তপুর পৌরসভাকে আধুনিক ডিজিটাল মডেল পৌরসভা হিসেবে গড়ে তোলাই আমার লক্ষ্য। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে নৌকা প্রতীক দিলে আমি বিপুল ভোটের ব্যবধানে শরীয়তপুর পৌরসভা মেয়র নির্বাচিত হবো।

Total View: 124

    আপনার মন্তব্য





সারাদেশ

কক্সবাজার

কিশোরগঞ্জ

কুড়িগ্রাম

কুমিল্লা

কুষ্টিয়া

খাগড়াছড়ি

খুলনা

গাইবান্ধা

গাজীপুর

গোপালগঞ্জ

চট্টগ্রাম

চাঁদপুর

চাঁপাইনবাবগঞ্জ

চুয়াডাঙা

জয়পুরহাট

জামালপুর

ঝালকাঠী

ঝিনাইদহ

টাঙ্গাইল

ঠাকুরগাঁও

ঢাকা

দিনাজপুর

নওগাঁ

নড়াইল

নরসিংদী

নাটোর

নারায়ণগঞ্জ

নীলফামারী

নেত্রকোনা

নোয়াখালী

পঞ্চগড়

পটুয়াখালি

পাবনা

পিরোজপুর

ফরিদপুর

ফেনী

বগুড়া

বরগুনা

বরিশাল

বাগেরহাট

বান্দরবান

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ভোলা

ময়মনসিংহ

মাগুরা

মাদারীপুর

মানিকগঞ্জ

মুন্সিগঞ্জ

মেহেরপুর

মৌলভীবাজার

যশোর

রংপুর

রাঙামাটি

রাজবাড়ী

রাজশাহী

লক্ষ্মীপুর

লালমনিরহাট

শরীয়তপুর

শেরপুর

সাতক্ষীরা

সিরাজগঞ্জ

সিলেট

সুনামগঞ্জ

হবিগঞ্জ

Flag Counter