বুধবার,  ২৭শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ,  ১৩ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,  সন্ধ্যা ৭:৫৮

শরীয়তপুরে প্রধান শিক্ষকের অনৈতিক আচোরণের কারণে ৭ পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত

ডিসেম্বর ৭, ২০১৭ , ১৭:২১

আবদুল বারেক ভুইয়া

শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলার হালইসার নন্দনসার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ শহিদুর রহমানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। তার অনিয়মের কারণে ৭জন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। আর বিদ্যালয়ের উন্নয়নের নামে বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মাসিক বেতনের টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এদিকে উক্ত বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা নিয়মিত বেতন না পেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
শুধু তাই নয়, তার বিরুদ্ধে সরকারী নিয়মের বাইরে এস.এস.সি’র ফরম পূরণ বাবদ অতিরিক্ত টাকা নেয়ার অভিযোগও রয়েছে।
৬ ডিসেম্বর বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টায় সরেজমিনে হালইসার নন্দনসার উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে জানা যায়, অত্র বিদ্যালয়ের ৪জন ছাত্রী তার দ্বারা আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
এ ব্যাপারে কেন্দ্র সচিব এবং পন্ডিতসার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ মোছলেম উদ্দিন মৃধা বলেন, গত ১ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জে.এস.সি’র বাংলা ১ম পত্র পরীক্ষা চলাকালিন ৭জন ছাত্রীকে তিনি গত বছরের পুরানো প্রশ্ন দিয়ে ছিলেন। যা আইনত অপরাধ। এ অপরাধের জন্য কেন্দ্র সভাপতি এবং নড়িয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা তাকে বহিস্কার করেছেন। এ ৭জন ছাত্রীর মধ্যে তার বিদ্যালয়ের ৪জন এবং আমার বিদ্যালয়ের ৩জন ছাত্রী রয়েছে। তার এ অপকর্মের কারণে এই ৭জন ছাত্রীর ফলাফল খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

হালইসার নন্দনসার উচ্চ বিদ্যালয়ের জমিদাতা সাইদুর রহমান বেপারী বলেন, এই বিদ্যালয়ে ১৫/২০ বছর পূর্বে এক বার ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন হয়েছিলো। এরপরে আর নির্বাচন হয়নি। প্রধান শিক্ষক তার ইচ্ছে মতো কমিটি করে নিয়েছেন। আমাকে কিছু জানায় না। কবে কখন মিটিং হয় আমি জানি না। প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়টিকে তার পৈত্রিক সম্পত্তি মনে করছেন। শুনেছি শিক্ষকদের বেতনও ঠিকমতো দেন না।
স্থানীয় মনির মৃধা বলেন, হালইসার নন্দনসার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ শহিদুর রহমান বিদ্যালয়টিকে নিজের সম্পত্তি বানিয়ে ফেলেছেন। এ বিদ্যালয়ে দীর্ঘ ২০ বছর যাবৎ কোন নির্বাচন হয় না। প্রধান শিক্ষক শহিদুর রহমান তার নিজের মতো করে একটি পকেট কমিটি বানিয়ে বিদ্যালয়ের সমস্ত টাকা আত্মসাৎ করছেন। তিনি এস.এস. সি পরীক্ষার ফরম পূরণের নাম করে সরকারী বিধি বিধানের বাইরে ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ হতে অতিরিক্ত টাকা আদায় করছেন। তিনি স্থানীয় দুইজন লোককে বিদ্যালয়ে চাকুরী দেয়ার নাম করে ৩ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা নিয়েছেন। কিন্তু দীর্ঘদিন উত্তীর্ণ হলেও তাদেরকে কোন চাকুরী না দিয়ে সে টাকা তিনি নিজেই আত্মসাৎ করেছেন। শুধু তাই নয়, বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতনের টাকা দিয়ে বিদ্যালয়ের উন্নয়নের নাম করে সে টাকা নিজেই আত্মসাৎ করছেন। তার কাছে সমস্ত শিক্ষকরা জিম্মি হয়ে আছেন। এদিকে শিক্ষকরা বেতন না পেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। এ ব্যাপারে প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ করা হলেও প্রশাসন কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।


নাম প্রকাশ না করার শর্তে অত্র বিদ্যালয়ের কয়েকজন এস.এস.সি পরীক্ষার্থীরা বলেন, এ বছর এস.এস.সি পরীক্ষার ফরম পূরণ করতে সর্বনি¤œ ৩ হাজার ৫শ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৫শ টাকা নিয়েছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে হালইসার নন্দনসার উচ্চ বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক বলেন, আমাদের প্রধান শিক্ষক মোঃ শহিদুর রহমান বিদ্যালয়টিকে তার পৈত্রিক সম্পত্তি বানিয়ে ফেলেছেন। তিনি আমাদেরকে নিয়মিত বেতন দিচ্ছেন না। আমাদের বেতনের টাকা দিয়ে বিদ্যালয়ের উন্নয়নের নাম করে সে টাকা তিনি নিজেই আত্মসাৎ করছেন। তিনি বিদ্যালয়ে অবৈধ ভাবে সকাল ৮টা থেকে ১০ পর্যন্ত একটি কিন্টার গার্ডেন পরিচালনা করছেন। যার প্রধান শিক্ষক হচ্ছেন আমাদের বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা বীনা ম্যাডাম। তিনি বিদ্যালয়ের টাকা আত্মসাৎ করে উচ্চাভিলাসী জীবন যাপন করছেন আর আমরা সারাদিন পরিশ্রম করে মানবেতর জীবন যাপন করছি। আমরা কিছু বলতে গেলেই আমাদেরকে চাকুরীর ভয় দেখায়।
এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক মোঃ শহিদুর রহমান বলেন, বিদ্যালয়ে এস.এস.সি ফরম পূরণের জন্য ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে বেশী টাকা নেয়া হয়নি। শিক্ষকদের বেতনের টাকা দিয়ে বিদ্যালয়ের উন্নয়ন মূলক কাজ করা হচ্ছে। আর বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি রয়েছে।
এ ব্যাপারে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির সাথে আলাপ করতে চাইলে তাকে পাওয়া যায়নি। পরে তার মুঠোফোনে কল দিলে মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
শরীয়তপুর শিক্ষা প্রকৌশলী বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী বাবুল কুমার মালো’র সাথে আলাপ করতে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। পরে শিক্ষা প্রকৌশলী বিভাগের উপ সহকারী প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলামের সাথে আলাপ কালে তিনি বলেন, আমরা সাধারণত কলেজ, মাদ্রাসা এবং উচ্চ বিদ্যালয়ের যে ভবন রয়েছে তার উন্নয়ন কল্পে কাজ করি। সেক্ষেত্রে হালইসার নন্দনসার উচ্চ বিদ্যালয়টি আমার তত্ত্বাবধানে রয়েছে। গত বছর উন্নয়নের জন্য আমাকে ডাকা হয়েছিল। এ বছরে কি হচ্ছে আমি তা জানি না।
এ ব্যাপারে ৭ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় শরীয়তপুর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আবদুল হেলিম ফকিরের সাথে আলাপ কালে তিনি বলেন, সে যে কাজ গুলো করেছে তা অবশ্যই আইন বিরোধী। শিক্ষকের বেতনের টাকা দিয়ে বিদ্যালয়ের উন্নয়ন কাজ করার কোন বিধান নেই। বিদ্যালয়ের যদি কোন উন্নয়ন করতে হয় তাহলে তা করবে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর। আমি ব্যাপারটি অবশ্যই দেখবো।

Total View: 2029

    আপনার মন্তব্য





সারাদেশ

কক্সবাজার

কিশোরগঞ্জ

কুড়িগ্রাম

কুমিল্লা

কুষ্টিয়া

খাগড়াছড়ি

খুলনা

গাইবান্ধা

গাজীপুর

গোপালগঞ্জ

চট্টগ্রাম

চাঁদপুর

চাঁপাইনবাবগঞ্জ

চুয়াডাঙা

জয়পুরহাট

জামালপুর

ঝালকাঠী

ঝিনাইদহ

টাঙ্গাইল

ঠাকুরগাঁও

ঢাকা

দিনাজপুর

নওগাঁ

নড়াইল

নরসিংদী

নাটোর

নারায়ণগঞ্জ

নীলফামারী

নেত্রকোনা

নোয়াখালী

পঞ্চগড়

পটুয়াখালি

পাবনা

পিরোজপুর

ফরিদপুর

ফেনী

বগুড়া

বরগুনা

বরিশাল

বাগেরহাট

বান্দরবান

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ভোলা

ময়মনসিংহ

মাগুরা

মাদারীপুর

মানিকগঞ্জ

মুন্সিগঞ্জ

মেহেরপুর

মৌলভীবাজার

যশোর

রংপুর

রাঙামাটি

রাজবাড়ী

রাজশাহী

লক্ষ্মীপুর

লালমনিরহাট

শরীয়তপুর

শেরপুর

সাতক্ষীরা

সিরাজগঞ্জ

সিলেট

সুনামগঞ্জ

হবিগঞ্জ

Flag Counter