শনিবার,  ২৪শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ,  ৮ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,  দুপুর ২:৫৪

শরীয়তপুরে বিএনপি’র প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের হামলা, আহত ৩০

সেপ্টেম্বর ১, ২০১৮ , ২১:০৮

স্টাফ রিপোর্টার

শরীয়তপুরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র ৪০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কতিপয় আওয়ামী ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ সময় উভয় গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও ইট পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে জেলা বিএনপি’র যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদ টিপু, পৌরসভা বিএনপি’র সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম নয়ন সরকার সহ উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছে।

এ ঘটনায় বিএনপি’র কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এবং জেলা বিএনপি’র সভাপতি আলাহাজ্ব শফিকুর রহমান কিরন, জেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক এবং আহমেদ গ্রুপের চেয়ারম্যান সাঈদ আহমেদ আসলামসহ ৩ শতাধিক নেতাকর্মী তিন ঘন্টা অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। তিন ঘন্টা পর পুলিশের সহায়তায় বিএনপি’র নেতাকর্মীরা সভাস্থল থেকে বের হওয়ার সময় পূণরায় হামলার শিকার হন। এরপর বিএনপি’র নেতাকর্মীদের উপর হামলাকারীরা কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি’র নেতাকর্মীরা। তবে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের দাবী তাদের মিছিলে বিএনপি’র নেতাকর্মীরা হামলা করেছে। এ ঘটনায় শহরে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

পালং মডেল থানা, আহত মাহবুব মোর্শেদ টিপু, নজরুল ইসলাম নয়ন সরকার এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পূর্ব নির্ধারিত সময় অনুযায়ী শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় বিএনপি’র ৪০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক সরদার নাসির উদ্দিন কালুর ধানুকাস্থ রানী মহল চত্বরে আলোচনা সভার কার্যক্রম শুরু হয়। অনুষ্ঠান শেষের দিকে দুপুর ১টার সময় জেলা যুবলীগের দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর মাদবরের নেতৃত্বে কতিপয় যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মী মিছিল করে তাদের দলীয় শ্লোগান দিতে দিতে বিএনপি”র অনুষ্ঠাস্থলে গিয়ে নেতাকর্মীদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। এক পর্যায়ে উভয় গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।
এ সময় জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদ টিপু, পৌরসভা বিএনপি’র সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম নয়ন সরকার, জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক মাহবুব আলম খায়ের, জেলা জাসাসের সহ-সভাপতি নিপা আকতারসহ অন্তত ২৫ জন বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলের নেতাকর্মী আহত হয়। একই ঘটনায় জেলা যুবলীগের দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর মাদবর, শরীয়তপুর পৌরসভা ছাত্রলীগের আহবায়ক প্রকাশ বন্দুকছি, রিয়াদ মাল, জয় মোল্যা, সবুজ মাদবর আহত হয়েছে।

আহতদের শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল ও স্থানীয় প্রাইভেট ক্লিনিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। গুরুতর আহত বিএনপি নেতা নয়ন সরকারসহ কয়েকজনকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সংবাদ পেয়ে পালং মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে নেয়ার চেষ্টা করে। এ সময় বিএনপি’র কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এবং জেলা সভাপতি আলহাজ্ব শফিকুর রহমান কিরন এবং জেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক ও আহমেদ গ্রুপের চেয়ারম্যান সাঈদ আহমেদ আসলাম সহ বিভিন্ন উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপি’র সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ প্রায় ৩ শতাধিক নেতাকর্মী সভাস্থলে প্রায় ৩ ঘন্টা অবরুদ্ধ থাকেন।

পরে বেলা আনুমানিক ৩টার জেলা বিএনপি’র সভাপতি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাবেক এমপি শফিকুর রহমান কিরন ও জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আহমেদ গ্রুপের চেয়ারম্যান সাঈদ আহমেদ অসলাম সহ নেতাকর্মী পুলিশের সহায়তায় সভাস্থল থেকে বের হয়ে তাদের গন্তব্যে যেতে চেষ্টা করলে আওয়ামী যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা পুণরায় ধাওয়া করে। এ সময় বিএনপি’র নেতাকর্মীরা নাসির উদ্দিন কালুর বাসায় আশ্রয় নেয়। পরে কতিপয় আওয়ামী যুবলীগ-ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা পর পর কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ত্রাস সৃষ্টি করে করে বলে অভিযোগ বিএনপি নেতাকর্মীদের। পরে পুলিশ তাদের ধাওয়া করে।

দীর্ঘ প্রায় ৩ ঘন্টা অবরুদ্ধ থাকার পর বেলা অনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে জেলা বিএনপি’র সভাপতি সফিকুর রহমান কিরণ ও সাংগঠনিক সম্পাদক সাঈদ আহম্মেদ আসলাম সহ নেতাকর্মীরা পুলিশের সহায়তায় বের হয়ে নিরাপদে চলে যায়। এ ঘটনায় শহরে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

জেলা যুবলীগের দপ্তর সম্পাদক আহত জাহাঙ্গীর মাদবর বলেন, আমরা যুবলীগ ও ছাত্রলীগ মিছিল করে যাচ্ছিলাম। এ সময় বিএনপি’র নেতাকর্মীরা যুবলীগের মিছিলে হামলা করে। আমিসহ কমপক্ষে ৫/৬ জন আহত হয়।

জেলা বিএনপি’র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদ টিপু বলেন, জেলা বিএনপি’র প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী অনুষ্ঠান চলাকালে বেলা অনুমানিক সাড়ে ১২টায় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কতিপয় নেতাকর্মীরা লাঠিসোটা নিয়ে মিছিল করে তাদের দলীয় শ্লোগান দিয়ে আমাদের শান্তিপূর্ণ অনুষ্ঠানে হামলা করে। আমরা শান্তিপূর্ণ ভাবে আমাদের অনুষ্ঠান পরিচালনার চেষ্টা করি। হামলার ঘটনায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ২৫ জন নেতাকমী আহত হয়। এরপর পুলিশের উপস্থিতিতে আওয়ামীগের নেতাকর্মীরা ককটেলের বিস্ফোরন ঘটিয়ে ত্রাস সৃষ্টি করে।

জেলা বিএনপি’র সভাপতি সফিকুর রহমান কিরণ বলেন, আমাদের পূর্ব নির্ধারিত ও শান্তিপূর্ণ অনুষ্ঠানে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা অতর্কিত হামলা করে কমপক্ষে ২৫ জন নেতাকর্মীকে আহত করেছে। আমি ৩ ঘন্টা অবরুদ্ধ থাকার পরে পুলিশের সহায়তায় নেতাকর্মীদের নিয়ে কোন রকমে এলাকা ত্যাগ করি।

পালং মডেল থানার ওসি মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মিছিলে কিছু সংখ্যক বিএনপি’র নেতাকর্মী হামলা করে। এ নিয়ে উভয় গ্রুপে সংঘর্ষ হয়। এতে ৫/৭জন আহত হয়। জেলা বিএনপি’র সভাপতি সহ অন্যান্য নেতাকর্মীতের নিরাপদে স্থান ত্যাগ করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এ বিষয়ে এখনো কোন মামলা হয়নি।

Total View: 890

    আপনার মন্তব্য





সারাদেশ

কক্সবাজার

কিশোরগঞ্জ

কুড়িগ্রাম

কুমিল্লা

কুষ্টিয়া

খাগড়াছড়ি

খুলনা

গাইবান্ধা

গাজীপুর

গোপালগঞ্জ

চট্টগ্রাম

চাঁদপুর

চাঁপাইনবাবগঞ্জ

চুয়াডাঙা

জয়পুরহাট

জামালপুর

ঝালকাঠী

ঝিনাইদহ

টাঙ্গাইল

ঠাকুরগাঁও

ঢাকা

দিনাজপুর

নওগাঁ

নড়াইল

নরসিংদী

নাটোর

নারায়ণগঞ্জ

নীলফামারী

নেত্রকোনা

নোয়াখালী

পঞ্চগড়

পটুয়াখালি

পাবনা

পিরোজপুর

ফরিদপুর

ফেনী

বগুড়া

বরগুনা

বরিশাল

বাগেরহাট

বান্দরবান

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ভোলা

ময়মনসিংহ

মাগুরা

মাদারীপুর

মানিকগঞ্জ

মুন্সিগঞ্জ

মেহেরপুর

মৌলভীবাজার

যশোর

রংপুর

রাঙামাটি

রাজবাড়ী

রাজশাহী

লক্ষ্মীপুর

লালমনিরহাট

শরীয়তপুর

শেরপুর

সাতক্ষীরা

সিরাজগঞ্জ

সিলেট

সুনামগঞ্জ

হবিগঞ্জ

Flag Counter