শনিবার,  ২৪শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ,  ৮ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,  বিকাল ৫:১৩

শরীয়তপুরে বিচি তুলতে গিয়ে কানের পর্দা তুলে নিলেন চিকিৎসক !

মার্চ ২১, ২০১৯ , ০০:২৮

স্টাফ রিপোর্টার
শরীয়তপুর সদর আধুনিক হাসপাতালের নাক, কান ও গলা বিভাগের বিশেষজ্ঞ ও সার্জন ডাঃ মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে তাছমিয়া নামে এক ৩ বছরের শিশুর কানের পর্দা তুলে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, এ ব্যাপারে কোন বাড়াবাড়ি করলে বড় ধরণের ক্ষতি করবেন বলে হুমকি দিয়েছে শিশুটির পরিবারকে।

এদিকে ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নাক, কান ও গলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডাঃ আবদুল্লাহিল কাফি বলেন, শিশুটির কানের পর্দা তুলে নেয়ার কারণে তার শ্রবন শক্তি চিরতরে নষ্ট হয়ে গেছে।

এ ঘটনায় ২০ মার্চ বুধবার শিশুটির পিতা এ্যাডভোকেট মোঃ সানাল মিয়া বিজ্ঞ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আমলী আদালতে মামলা দায়ের করলে বিজ্ঞ আদালত মামলাটি পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে মামলা হিসেবে নথিভূক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন।

১২ মার্চ মঙ্গলবার শরীয়তপুরের চৌরঙ্গীতে অবস্থিত হাজী শরীয়তুল্লাহ হাসপাতাল এন্ড ডায়াবেটিক সেন্টারে এ ঘটনাটি ঘটে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, শরীয়তপুর সদর উপজেলার তুলাসার গ্রামের বাসিন্দা এ্যাডভোকেট মোঃ সানাল মিয়ার তিন বছরের মেয়ে তাসমিয়া বাড়ির উঠানে খেলা করাছিল। এ সময় খেলার ছলে তার ডান কানের মধ্যে সিমের বিচি ঢুকে যায়। তখন শিশুটির পরিবার শিশুটিকে নিয়ে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের নাক, কান ও গলা বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডাঃ মিজানুর রহমানের কাছে নিয়ে যান। তখন ডাঃ মিজানুর রহমান হাসপাতালে এ ধরণের চিকিসার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি না থাকার ধোঁয়া তুলে শিশুটিকে তার প্রাইভেট চেম্বার হাজী শরীয়তল্লাহ জেনারেল হাসপাতাল এন্ড ডায়াবেটিক সেন্টারে নিয়ে যেতে বলেন।

সেখানে শিশুটিকে নেয়ার পরে ডাঃ মিজানুর রহমান কোন মেডিকেল যন্ত্রপাতি ছাড়াই লোহার একটি সরু লম্বা শালাকার মাধ্যমে কানের ভিতর থেকে সিমের বিচি বের করার চেষ্টা করেন। কিন্তু সেখানে তিনি ব্যার্থ হন। পরবর্তীতে তিনি চিমটা দিয়ে বিচি আনতে গিয়ে, বিচির পরিবর্তে কানের পর্দা ছিড়ে নিয়ে আসেন। শুরু হয় রক্তক্ষরণ। তাৎক্ষণিক ভাবে শিশুটির উন্নত চিকিৎসার জন্য ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তখন ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নাক, কান ও গলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডাঃ আবদুল্লাহিল কাফি দেখে বলেন, ভুল চিকিৎসা পদ্ধতির মাধ্যমে কানের পর্দা তুলে নেয়ার তার শ্রবন শক্তি চিরতরে নষ্ট হয়ে গেছে।

এ ব্যাপারে শিশুটির পিতা এ্যাডভোকেট মোঃ সানাল মিয়ার সাথে আলাপ কালে তিনি বলেন, মিজান ডাক্তারের ভুলের কারণে আমার মেয়ের কান সারা জীবনের জন্য নষ্ট হয়ে গেলো। ডাক্তার বলেছেন, সে আর কখনো কান দিয়ে শুনতে পাবে না। আমার অবুঝ শিশুর জীবন নষ্ট করার জন্য আমি মিজান ডাক্তারকে দায়ী করছি। তাই ডাক্তারের বিচার চেয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেছি।

এ ব্যাপারে ডাঃ মিজানুর রহমানের সাথে মুঠোফোনে আলাপ কালে তিনি বলেন, আমি এম.এস করা ই.এন.টি’র বিশেষজ্ঞ ডাক্তার। আমার চাকুরী জীবনে হাজার হাজার এই ধরণের কেইচ ফেইচ করেছি। আমি চিকিৎসার জন্য যে ব্যবস্থাপত্র দিয়েছি, সেই মোতাবেক তারা শিশুটিকে ঔষধ খাওয়ায়নি। তারা আমাকে রেখে ডাঃ রাজেশ মজুমদারকে দেখিয়েছে। ডাঃ রাজেশ মজুমদার আমার ঔষধ বাদ দিয়ে অন্য ঔষধ দিয়েছেন। কানের ইনজ্যুরীতে কোন ড্রপ ব্যবহার করা যাবে না। ড্রপ ব্যবহার করলে কানের বড় ধরণের ক্ষতি হবে। কোন ডাক্তারই চায় না তার রোগীর ক্ষতি হোক। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।

এ ব্যাপরে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে তত্ত্বাবধায়ক মোঃ আবদুল্লাহ’র সাথে আলাপ কালে তিনি বলেন, ডাঃ মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে আমাদের কাছে কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পালং মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মনিরুজ্জামানের সাথে মুঠোফোনে আলাপ কালে তিনি বলেন, এ্যাডভোকেট মোঃ সানাল মিয়া কর্তৃক দায়ের করা একটি মামলা নথিভূক্ত করার জন্য আদালত নির্দেশ দিয়েছেন। সেই মোতাবেক একটি মামলা নথিভূক্ত করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শরীয়তপুরের সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ খলিলুর রহমানের সাথে মুঠোফোনে আলাপ কালে তিনি বলেন, ডাঃ মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়েছে এ কথাটি আমি শুনেছি। যেহেতু ব্যাপারটি আদালতে চলে গেছে, সেহেতু আদালত যে রায় দিবে সেটাই আমাদেরকে মেনে নিতে হবে। কিন্তু ডাঃ মিজানুর রহমান ই.এন.টি’র এম.এস করা বিশেষজ্ঞ ডাক্তার। আমার মনে হয় না তিনি এ ধরণের ভুল করবেন।

Total View: 971

    আপনার মন্তব্য





সারাদেশ

কক্সবাজার

কিশোরগঞ্জ

কুড়িগ্রাম

কুমিল্লা

কুষ্টিয়া

খাগড়াছড়ি

খুলনা

গাইবান্ধা

গাজীপুর

গোপালগঞ্জ

চট্টগ্রাম

চাঁদপুর

চাঁপাইনবাবগঞ্জ

চুয়াডাঙা

জয়পুরহাট

জামালপুর

ঝালকাঠী

ঝিনাইদহ

টাঙ্গাইল

ঠাকুরগাঁও

ঢাকা

দিনাজপুর

নওগাঁ

নড়াইল

নরসিংদী

নাটোর

নারায়ণগঞ্জ

নীলফামারী

নেত্রকোনা

নোয়াখালী

পঞ্চগড়

পটুয়াখালি

পাবনা

পিরোজপুর

ফরিদপুর

ফেনী

বগুড়া

বরগুনা

বরিশাল

বাগেরহাট

বান্দরবান

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ভোলা

ময়মনসিংহ

মাগুরা

মাদারীপুর

মানিকগঞ্জ

মুন্সিগঞ্জ

মেহেরপুর

মৌলভীবাজার

যশোর

রংপুর

রাঙামাটি

রাজবাড়ী

রাজশাহী

লক্ষ্মীপুর

লালমনিরহাট

শরীয়তপুর

শেরপুর

সাতক্ষীরা

সিরাজগঞ্জ

সিলেট

সুনামগঞ্জ

হবিগঞ্জ

Flag Counter