মঙ্গলবার,  ১১ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ,  ২৮শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ,  সকাল ৭:০৫

শরীয়তপুরে ২শ ২৮ জন প্রবাসীকে রাখা হয়েছে হোম কোয়ারেন্টাইনে

মার্চ ১৪, ২০২০ , ২১:০৬

স্টাফ রিপোর্টার
ইতালি থেকে শরীয়তপুরে ফিরে আসা ২শ ২৮ জন প্রবাসীকে রাখা হয়েছে হোম কোয়ারেন্টাইনে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শরীয়তপুরের সিভিল সার্জন ডাঃ এস.এম. আব্দুল্লাহ্ আল মুরাদ। ইতালিতে করোনাভাইরাস মহামারি আকার ধারণ করায় নানা শঙ্কা আর দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন শরীয়তপুরের ইতালি প্রবাসীদের পরিবার পরিজন।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, শরীয়তপুরের অন্তত ১ লাখ ৬২ হাজার মানুষ প্রবাসে থাকেন। তাদের অধিকাংশই ইতালিতে বসবাস করেন। এর মধ্যে নড়িয়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের রয়েছেন প্রায় ৭২ শতাংশ। ইতালি প্রবাসীরা নিয়মিত নড়িয়ায় যাতায়াত করছেন। তবে সম্প্রতি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে এসব প্রবাসীদের নিয়ে উদ্বিগ্ন তাদের পরিবার ও এলাকাবাসী।

ইতালির বিভিন্ন শহর থেকে নড়িয়ায় এসেছেন এমন কয়েক জনের সাথে কথা বলে জানা যায়, ইতালিতে করোনা ভাইরাস ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া ও দু’জন ইতালি ফেরত ব্যক্তির বাংলাদেশে এসে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবরে ইতালিতে বসবাসরত প্রবাসীদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা গেছে। দেশে এসেও এলাকায় বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়ছেন এসব প্রবাসী।

নড়িয়া উপজেলার ফতেজঙ্গপুর ইউনিয়নের শামীম খালাসী বলেন, আমি ইতালির তুরিন শহরে থাকি। ২ দিন আগে আমি দেশে এসেছি। তবে আমার শরীর ভালো আছে। বিমানবন্দরে আমাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে। কিন্তু গ্রামে আসার পর কিছুটা বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছি। আমি এসেছি জেনে কোনো আত্মীয় স্বজন ও বন্ধুবান্ধব দেখা করতে আসেনি। বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়াতে বেশির ভাগ সময়ই বাড়িতে থাকছি।

ইতালী প্রবাসীদের পরিবারের এক সদস্য হালিমা বেগম বলেন, আমার ছেলে ইতালিতে আছে। কিন্ত কোন কাজকর্ম করতে পারছে না। বাসা থেকে বের হতে দিচ্ছে না। যার কারণে না খেয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে। ইতালিয়ান খাবার খেতে পারছে না। তারা সুস্থ আছে, কিন্তু না খেয়ে থাকলে তো অসুস্থ হয়ে পড়বে।

শরীয়তপুর সদর উপজেলার দক্ষিণ বালুচড়া এলাকার ইতালী প্রবাসী সৈয়দ আলমগীর ইতালি থেকে মোবাইল ফোনে জানান, করোনা ভাইরাসের কারণে ইতালির সড়ক গুলো বেশিরভাগ সময়ই ফাঁকা থাকে। ইতালি প্রবাসী বাঙ্গালিরা বেকার হয়ে পরছে। এ রকম চলতে থাকলে আমাদের না খেয়ে মরতে হবে।

এ সংকট কাটাতে ইতালিতে বসবাসরত বাঙ্গালিদের পাশে দাঁড়াতে সরকারে যথাযথ পদক্ষেপ কামনা করেছেন প্রবাসীদের পরিবারের সদস্যরা। এদিকে শরীয়তপুরে করোনা ভাইরাস আক্রান্তদের জন্য আইসোলেশন ওয়ার্ড খোলা হয়েছে। তবে এখনও পাওয়া যায়নি করোনা ভাইরাস শনাক্তকরণ যন্ত্র। সপ্তাহ খানেক আগে করোনা ভাইরাস শনাক্তকরণ যন্ত্র চেয়ে আবেদন করেছে শরীয়তপুর সিভিল সার্জন ডাঃ এস.এম. আব্দুল্লাহ্ আল মুরাদ।

সিভিল সার্জন ডাঃ এস.এম. আব্দুল্লাহ আল মুরাদ বলেন, সম্প্রতি ইতালি থেকে শরীয়তপুরে ফিরে আসা ২শ ২৮ জন প্রবাসীকে রাখা হয়েছে হোম কোয়ারেন্টাইনে। কোনো ব্যাক্তি করোনায় আক্রান্ত হলে বা উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত তাকে চিকিৎসার আওতায় নেয়ার জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে পাঁচ শয্যার ও প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঁচ শয্যার করে আইসোলেশন ওয়ার্ড খোলা হয়েছে। এছাড়া কোয়ারেন্টাইনে রাখার জন্য ১শ শয্যা প্রস্তুত করার কাজ চলছে।

তিনি বলেন, ইতালি থেকে শরীয়তপুরে যারা এসেছেন তাদের সঙ্গে আমরা কথা বলছি। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা তাদের খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে। এছাড়া আক্রান্ত লোকজনের আইসোলেশনে রাখার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, জেলায় ৬টি উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে ৩টি ওয়ার্ড রয়েছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে রেজিস্ট্রার রাখা হয়েছে যারা বিদেশ থেকে আশা লোকজনের তালিকা তৈরি করছে।

Total View: 276

    আপনার মন্তব্য





সারাদেশ

কক্সবাজার

কিশোরগঞ্জ

কুড়িগ্রাম

কুমিল্লা

কুষ্টিয়া

খাগড়াছড়ি

খুলনা

গাইবান্ধা

গাজীপুর

গোপালগঞ্জ

চট্টগ্রাম

চাঁদপুর

চাঁপাইনবাবগঞ্জ

চুয়াডাঙা

জয়পুরহাট

জামালপুর

ঝালকাঠী

ঝিনাইদহ

টাঙ্গাইল

ঠাকুরগাঁও

ঢাকা

দিনাজপুর

নওগাঁ

নড়াইল

নরসিংদী

নাটোর

নারায়ণগঞ্জ

নীলফামারী

নেত্রকোনা

নোয়াখালী

পঞ্চগড়

পটুয়াখালি

পাবনা

পিরোজপুর

ফরিদপুর

ফেনী

বগুড়া

বরগুনা

বরিশাল

বাগেরহাট

বান্দরবান

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ভোলা

ময়মনসিংহ

মাগুরা

মাদারীপুর

মানিকগঞ্জ

মুন্সিগঞ্জ

মেহেরপুর

মৌলভীবাজার

যশোর

রংপুর

রাঙামাটি

রাজবাড়ী

রাজশাহী

লক্ষ্মীপুর

লালমনিরহাট

শরীয়তপুর

শেরপুর

সাতক্ষীরা

সিরাজগঞ্জ

সিলেট

সুনামগঞ্জ

হবিগঞ্জ

Flag Counter