সোমবার,  ১৮ই জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ,  ৪ঠা মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,  রাত ১২:১১

শরীয়তপুর এখন মাদক মুক্ত শহর!

জুন ২৫, ২০১৮ , ১৮:১৫

 

স্টাফ রিপোর্টার
শরীয়তপুরকে এখন মাদক মুক্ত শহর বললে হয়তো ভুল হবে না। অতি সম্প্রতি মাদক বিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে গোসাইরহাট উপজেলার নাগেরপাড়া ইউনিয়নের ভদ্রচাপ গ্রামের মাদক সম্রাট রুহুল আমিন বাঘা পুলিশের সাথে বন্দুক যুদ্ধে নিহত হয়। তারপর থেকে জেলায় সকল মাদক ব্যবসায়ীরা গাঁ ঢাকা দিয়েছেন। এ জেলায় যে ক’জন মাদক সম্রাট রয়েছেন তাদেরকে এখন আর দেখা যায় না। আর ছোট খাটো মাদক ব্যবসায়ীরা মাদক ব্যবসা ছেড়ে দিয়ে অন্য ব্যবসা শুরু করেছেন।

এদিকে শরীয়তপুরের মাদক ব্যবসায়ীদের ধরার জন্য পুলিশ মড়িয়া হয়ে উঠেছে। যে সকল মাদক ব্যবসায়ী পুলিশকে মাশওয়ারা দিয়ে মাদক ব্যবসা করতেন তারাও এখন আর এলাকায় নেই। অপরদিকে এ অভিযান অব্যাহত রাখার জন্য পুলিশ প্রশাসনের প্রতি দাবী জানিয়েছেন সুশীল সমাজ। সুশীল সমাজের ধারণা, বর্তমান পুলিশ সুপার আবদুল মোমেনের শক্ত অবস্থানের কারণেই নাকি শরীয়তপুর শহরকে মাদক মুক্ত করা সম্ভব হচ্ছে।

এদিকে শুনে আশ্চার্য হবেন, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলার স্বর্ণঘোষ গ্রামের একজন প্রখ্যাত মাদক সেবী মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করেছেন। তার মতে, তিনি মাদক সেবন করে ধ্বংস হয়েছেন। কিন্তু তিনি পরবর্তী প্রজন্মকে যাতে মাদক ছোবল দিতে না পারে সে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তার এলাকায় যাতে মাদক ব্যবসায়ী এবং মাদকসেবীরা প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য রীতিমত পাহারার ব্যবস্থা করেছেন।

গত ১৫ জুন পুলিশের বন্দুক যুদ্ধে মাদক সম্রাট রুহুল আমিন বাঘা নিহত হওয়ার আগে শরীয়তপুর জেলা মাদক ব্যবসার জন্য বিখ্যাত ছিলো। ক্ষমতাশীন দলের কয়েক জন নেতা মাদক ব্যবসায়ীদের প্রত্যক্ষ মদদ দেয়ার কারণে তারা থাকতেন ধরা ছোঁয়ার বাইরে। শুধু তাই নয়, মাদক ব্যবসার সাথে পুলিশ বিভাগের কতিপয় সদস্য জড়িত থাকার কারণে মাদক ব্যবসায়ীরা আরও বেশী বেপরোয়া হয়ে উঠে। এ ব্যাপারটি পুলিশ সুপার আবদুল মোমেন আঁচ করতে পারেন এবং নিজ ঘরে শুদ্ধি অভিযানসহ মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করেন। তারই প্রেক্ষিতে শরীয়তপুর জেলায় মাদক বিরোধী অভিযান শুরু হয়। যার ফলশ্রুতিতে জেলাবাসী তার সুফল পেতে শুরু করেছে।
মাদক এবং মাদক ব্যবসায়ীদের সম্পর্কে অনুসন্ধান করতে গিয়ে জানা যায়, কিছুদিন পূর্বেও মাদক ব্যবসায়ীরা বড় বড় চালান ভারত থেকে বেনাপোল এবং মায়ানমার থেকে চট্টগ্রাম হয়ে এ জেলায় নিয়ে আসতেন। বিশেষ করে ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর থানার নর সিংহপুর আলুর বাজার ফেরী ঘাট, মুন্সিগঞ্জ থেকে মঙ্গল মাঝির ঘাট এবং মাদারীপুর থেকে আংগারিয়া বন্দর হয়ে মাদকের চালান শরীয়তপুর জেলায় প্রবেশ করতো। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন মালবাহী পরিহণের মাধ্যমে মাদক ব্যবসায়ীরা মাদকের চালান নিয়ে আসতেন। আর এ মাদক জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও হাট বাজারে সুকৌশলে সরবরাহ করতেন।
শরীয়তপুর জেলার যে সকল স্থানে প্রতিনিয়ত মাদক পাওয়া যেতো তা হচ্ছে-শরীয়তপুর সদর উপজেলা স্বর্ণঘোষ, ধানুকা বাজার, রাজগঞ্জ ব্রীজ, আংগারিয়া বাজার, মনোহর বাজার, কোর্ট চত্বর, পাকার মাথা, চৌরঙ্গী, কোটা পাড়ার মোড়, আটিপাড়া, আচুড়া, কানার বাজার, বুড়িরহাট, শরীয়তপুর বাসষ্ট্যান্ড, নড়িয়া উপজেলার কাঞ্চনপাড়া, পঞ্চপল্লী, উপসী, অনাখন্ড, পাচক, শিরঙ্গল, চাকধ, ঘড়িষার, মুলফৎগঞ্জ, ভোজেশ্বরের পাইলট মোড়, বিঝারী বাজার, ঈমান খোলা, গোলার বাজার, সুরেশ্বর বাজার, দিনারা, চেয়ারম্যান বাজার, মগর, রাজনগর, সুজাসার, লক্ষ্মীপুর, কদমতলী, পন্ডিতসার, ভেদরগঞ্জ উপজেলার মহিষার, রামভদ্রপুর, ছঁয়গাও, সেনের বাজার, কার্তিকপুর, সাজানপুর, ভেদরগঞ্জ টেকেরহাট, এম.এ রেজা কলেজের ব্রীজের পূর্বপাড়, মোল্যার বাজার, সখিপুর বাজার, গৌরাঙ্গ বাজার, চেয়াম্যান বাজার, কাঁচিকাটা বাজার, বালার বাজার, আলুর বাজার ফেরী ঘাট, ডি.এম.খালী বাজার, উত্তর তারাবুনিয়া, দক্ষিণ তারা বুনিয়া, মনুয়া, ডামুড্যা উপজেলার ডামুড্যা বাজার, মঠেরহাট, ধানকাঠি, সিধল কুড়া বাজার, আমিন বাজার, ইসলামপুর, কেহর ভাঙ্গা, কনেশ্বর বাজার, পূর্ব ডামুড্যা, গোডাউন ঘাট, গোসাইর হাট উপজেলার সামন্তসার, নাগেরপাড়া, কুচাইপট্টি, কোদালপুর, পট্টি বাজার, হাটুরিয়া বাজার, নলমুড়ি, কালিখোলা বাজার, জাজিরা উপজেলার মঙ্গল মাঝির ঘাট, আড়াচন্ডির মোড়, লাউখোলা, কাজিরহাট বাজার, আনন্দবাজার, বাংলা বাজার, জাজিরা বাজার, টি.এন্ড.টি মোড়, পালেরচর বাজার, বিলাসপুর বাজার, নাওডোবা বাজার, জয়নগর বাজার। এ সব এলাকায় নিয়মিত মাদক পাওয়া যেতো। কিন্তু সরকারের মাদক বিরোধী অভিযানের কারণে উল্লেখিত একাকায় এখন আর ভরপুর মাদক পাওয়া যায় না। এসব এলাকার মাদক ব্যবসায়ীরা এখন গাঁ ঢাকা দিয়েছে।
এ ব্যাপারে পুলিশ সুপার আবদুল মোমেন এর সাথে মুঠোফোনে আলাপ কালে তিনি বলেন, মাদকের ব্যাপারে পুলিশ শক্ত অবস্থানে রয়েছে। কোন মাদক ব্যবসায়ীকে ছাড় দেয়া হবে না। শরীয়তপুরকে মাদক মুক্ত শহর করতে মাদক বিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।

Total View: 1157

    আপনার মন্তব্য





সারাদেশ

কক্সবাজার

কিশোরগঞ্জ

কুড়িগ্রাম

কুমিল্লা

কুষ্টিয়া

খাগড়াছড়ি

খুলনা

গাইবান্ধা

গাজীপুর

গোপালগঞ্জ

চট্টগ্রাম

চাঁদপুর

চাঁপাইনবাবগঞ্জ

চুয়াডাঙা

জয়পুরহাট

জামালপুর

ঝালকাঠী

ঝিনাইদহ

টাঙ্গাইল

ঠাকুরগাঁও

ঢাকা

দিনাজপুর

নওগাঁ

নড়াইল

নরসিংদী

নাটোর

নারায়ণগঞ্জ

নীলফামারী

নেত্রকোনা

নোয়াখালী

পঞ্চগড়

পটুয়াখালি

পাবনা

পিরোজপুর

ফরিদপুর

ফেনী

বগুড়া

বরগুনা

বরিশাল

বাগেরহাট

বান্দরবান

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ভোলা

ময়মনসিংহ

মাগুরা

মাদারীপুর

মানিকগঞ্জ

মুন্সিগঞ্জ

মেহেরপুর

মৌলভীবাজার

যশোর

রংপুর

রাঙামাটি

রাজবাড়ী

রাজশাহী

লক্ষ্মীপুর

লালমনিরহাট

শরীয়তপুর

শেরপুর

সাতক্ষীরা

সিরাজগঞ্জ

সিলেট

সুনামগঞ্জ

হবিগঞ্জ

Flag Counter