সোমবার,  ১লা মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ,  ১৬ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,  রাত ৪:১৯

শরীয়তপুর-চাঁদপুর ফেরীঘাটে চাঁদাবাজিতে অতিষ্ট চালকরা

এপ্রিল ৪, ২০১৯ , ১৭:২৫

স্টাফ রিপোর্টার

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার শরীয়তপুর-চাঁদপুর ফেরীঘাটে দুই স্তরের চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে যাতায়াতকারী যানবাহনের চালকরা। বিআইডাব্লিওটিসিতে কর্মরত স্টাফদের চাঁদাবাজি এখন স্বাভাবিক নিয়মে পরিনত হলেও এই চাঁদাবাজিতে পুলিশের গভীর সংশ্লিষ্টতাও রয়েছে বলে দাবী করছেন স্থানীয় চাঁদাবাজরা। জরুরী ভিত্তিতে এসব চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য থামাতে দাবী জানিয়েছেন গাড়ির চালক এবং স্থানীয়রা।

শরীয়তপুর-চাঁদপুর ফেরীঘাটে বিভিন্ন খাত দেখিয়ে চাঁদা উত্তোলন করা হচ্ছে। স্পেশাল সার্ভিসের নামে চাঁদা, বোনাসের নামে চাঁদা এবং রশিদ বিহীন চাঁদা আদায় করতে গিয়ে বিভিন্ন প্রকার অনিয়মে জড়িয়ে পড়ছে ঘাটে কর্মরত স্টাফরা।

অপরদিকে মালামাল বোঝই গাড়ি থেকে স্থানীয় একটি চাঁদাবাজ চক্র প্রতিদিন সকাল থেকে শুরু করে ভোর রাত পর্যন্ত হাজার হাজার টাকা চাঁদা উত্তোলন করছে। আর নিজেকে বাঁচাতে এসব চাঁদাবাজ চক্রের সদস্যেরা নাম ভাঙ্গাচ্ছে বিভিন্ন প্রভাবশালী নেতা এবং স্থানীয় প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের।

সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে, শরীয়তপুর-চাঁদপুর মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন খুলনা, বাগেরহাট, বরিশাল, ফরিদপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, সাতক্ষীরাসহ দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলার হাজার হাজার যানবাহন চট্টগ্রামে যাতায়াত করে। এসব যানবাহন গুলো প্রতিদিন পারাপার হয় শরীয়তপুর-চাঁদপুর ফেরীঘাট দিয়ে। চাঁদাবাজ চক্রের সদস্যরা এসব গাড়ি থেকে ২শ থেকে শুরু করে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা উত্তোলন করে। এক সপ্তাহের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে এ ঘাটের নানা অনিয়মের নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য। জনগনকে সচেতন করতে তার কিছু বর্ণনা এখানে তুলে ধরা হলো।

শরীয়তপুর-চাঁদপুর ফেরী ঘাটের টার্মিনালের চাঁদাবাজিতে সরাসরি সংশ্লিষ্ট রয়েছে বিআইডাব্লিওটিসি’র স্টাফরা। প্রতিটি কাঁচামাল বোঝাই গাড়িকে ১হাজার ৪শ ৫০ টাকার রশিদ দিয়ে ১হাজার ৮শ ৫০ টাকা এবং ১হাজার ৮শ ৫০ টাকার রশিদ দিয়ে ২হাজার ২শ ৫০ টাকা আদায় করছে তারা। এসব অসাধু স্টাফদের নেতৃত্ব দেন শরিফুল ইসলাম তুফান নামে বিআইডাব্লিওটিসি’র এক টার্মিনাল সহকারী।

এ সকল তথ্যের বাস্তব প্রমান নিতে রাত ১২টার দিকে ফেরীঘাটের টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, জাহিদ হাসান নামে এক ব্যাক্তি কাউন্টারে বসে ফেরীর টিকেট বিক্রি করছেন। তিনি শরীয়তপুর-চাঁদপুর ফেরী ঘাটের টার্মিনাল সহকারী জাহিদ হাসান। এ সময় তিনি একটি মাছ বোঝাই ট্রাকের চালককে ১হাজার ৪শ টাকা এবং ১শ ১০ টাকার দুটি রশিদ দিয়ে ১হাজার ৮শ ৫০ টাকা আদায় করেন। এছাড়া কাউন্টারের বাহিরে এক স্টাফ ঐ চালকের কাছ থেকে আদায় করেন আরো ৫০ টাকা।

অতিরিক্ত টাকা আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে টার্মিনাল সহকারী জাহিদ হাসান বলেন, স্পেশাল ভাড়া হিসেবে এ টাকা নেয়া হয়েছে। এ সময় সংবাদকর্মীর পরিচয় পাওয়ার পরে আর কোন উত্তর না দিয়ে তিনি একটি রুমে গিয়ে দ্রুত দরজা বন্ধ করে দেন।

এ সময় মামুন নামে এক গাড়ির চালক বলেন, টার্মিনালের উপরে কারা যেন গাড়ি আটকিয়ে ১ হাজার টাকা নিয়েছে। এখন এরা আবার ১হাজার ৫শ ১০ টাকার রিসিট দিয়ে ১হাজার ৮শ ৫০ টাকা নিলো। তাছাড়া টিকেট কাটার পর আবার টিসির এক স্টাফকে ৫০ টাকা দিতে হয়েছে। আমরা কি আর করবো। ঝামেলা করলেইতো আমাদের মাছ পঁচে নষ্ট হয়ে যাবে।

বিআইডাব্লিওটিসি’র স্টাফদের নিয়মিত চাঁদাবাজিতে যখন চালকরা অতিষ্ঠ, ঠিক তখন স্থানীয় একটি চক্র আরেক ধাপে চাঁদাবাজি শুরু করেছে ঘাটে। স্থানীয়দের দেয়া তথ্যানুযায়ী, সকাল ১১টায় শরীয়তপুর-চাঁদপুর ফেরীঘাটে উপস্থিত হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই চোখে পড়ে গাড়ি থেকে চাঁদা আদায়ের দৃশ্য। দুইজন ব্যাক্তি এক এক করে প্রতিটি গাড়ি থেকে চাঁদা আদায় করছে। আমাদের উপস্থিতি দেখে ক্যামরা বের করার আগেই দৌড়াতে শুরু করে চাঁদাবাজ চক্রের দুই সদস্য হাসান বেপারী এবং স্বপন খালাসী। পরে তাদের ছবি তোলা হয়নি বললে তারা দৌড় থামায়। সংবাদকর্মী নই অর্থাৎ নিজের পরিচয় গোপন করে একটি চায়ের দোকানে বসে চা খেতে খেতে প্রায় ১ ঘন্টা কথা হয় তাদের সাথে। তাদের মুখেই বেরিয়ে আসে নানা তথ্য।

চাঁদাবাজ চক্রের দুই সদস্য হাসান বেপারী নিজেকে ছাত্রলীগ নেতা আর স্বপন খালাসী নিজেকে আওয়ামীলীগ নেতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে বলেন, আমরা এখানে নিয়মিত আসি না। চাঁদা আদায় করার বিনিময়ে দিনে ৩ থেকে ৪শ টাকা পাই। প্রতিটি গাড়ি থেকে ২শ থেকে ৩শ টাকা তুলি। এছাড়া আমাদের সাথে ছমেদ গাজি, আজিজ মাদবর ও চরসেনসাস ইউনিয়নের ০৮ নং ওয়ার্ডের মেম্বার লোকমান মিয়া কাজ করে। আমরা শুধু দিনেই কাজ করি। অন্য একটি গ্রুপ কাজ করে রাতে। খরচ বাদে উত্তোলিত টাকা আমারা মুক্তার দিদারের কাছে জমা দেই। পুলিশ সে চাঁদার অর্ধেক ভাগ নেয় আর বাকি টাকা যায় অন্যান্য বড় বড় নেতাদের কাছে চলে যায়। প্রতিদিনের উত্তোলিত টাকা সন্ধ্যার সময় ভাগাভাগি হয়। আর রাতের উত্তোলিত টাকা ভাগাভাগি হয় সকালে। ভাই, আমরা শুধু শ্রমিক, আমাদের ফাঁসায়েন না। বড় বড় যারা আছে রাতে আসলে তাদেরকে পাবেন। তাদের সাথে মিটমাট কইরেন।

চাঁদাবাজ চক্রের ঐ দুই সদস্যের কথার সূত্র ধরে রাতে গিয়ে দেখা যায়, একটি মাছের গাড়ি আসার সাথে সাথে চাঁদাবাজ সদস্যরা দৌড়ে ছুটে যায় গাড়ির কাছে। চাঁদা দেয়ার আগ পর্যন্ত চলতে থাকে নানা প্রকার হুমকি ধামকি। পরে ১ হাজার টাকা আদায় করে ফেরীতে উঠতে দেয়া হয় গাড়িটি।

এ সময় ঘাটে অবস্থান করতে দেখা যায় চাঁদাবাজ চক্রের সদস্য, মুক্তার দিদার, দেলোয়ার, রতন খালাসী, আমির, ইকবাল খান ও কাদির খানকে। গাড়ির চালক ও স্থানীয়রা জানায়, এরাই এ ঘাটের মূল চাঁদাবাজ। অজ্ঞাত ব্যাক্তির নির্দেশে এরা বছরের পর বছর চাঁদাবাজি করে আসছে এই ঘাটে। এক সময়ের হতোদরিদ্র পরিবারের এ সদস্যরা ঘাটে চাঁদাবাজি করে এখন নাম বসিয়েছেন এলার সবচেয়ে প্রভাবশালী ধনী ব্যাক্তির খাতায়। অনেকের বিরুদ্ধে রয়েছে পূর্বের চাঁদাবাজি মামলা। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক ঘাটের স্থানীয় এক দোকানদার বলেন, এদের ছাড়াও লোকমান বেপারী ও মুক্তার দিদারের ভাতিজা শাহাদাত দিদারের নেতৃত্বে নুরুজ্জামান নামে এক ব্যাক্তি নিয়মিত এ ঘাটে চাঁদাবাজি করে। ড্রাইভারদের সাথে এদের চিৎকার চেঁচামেচিতে রাতে ঠিকমত ঘুমানো যায় না।

জিয়ারুল ইসলাম নামে এক পেঁয়াজের গাড়ির চালক বলেন, ১৫ দিন ৫শ টাকা করে দেয়া লাগছে। পরে চালকদের সাথে চাঁদাবাজদের এক তরফরা মারামারি শেষে এখন ২শ থেকে ৩শ টাকা করে নেয় এখন।

এই চাঁদাবাজির ব্যাপারে ভেদেরগঞ্জ উপজেলার সার্কেল এএসপি কল্লোল কুমার দত্তের সাথে মুঠোফোনে আলাপ কালে তিনি বলেন, আমি আপনাকে পরে কল দিচ্ছি।

এ ব্যাপারে সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ এনামুল হক বলেন, পুলিশের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পূর্ন মিথ্যা। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখবো।

Total View: 463

    আপনার মন্তব্য





সারাদেশ

কক্সবাজার

কিশোরগঞ্জ

কুড়িগ্রাম

কুমিল্লা

কুষ্টিয়া

খাগড়াছড়ি

খুলনা

গাইবান্ধা

গাজীপুর

গোপালগঞ্জ

চট্টগ্রাম

চাঁদপুর

চাঁপাইনবাবগঞ্জ

চুয়াডাঙা

জয়পুরহাট

জামালপুর

ঝালকাঠী

ঝিনাইদহ

টাঙ্গাইল

ঠাকুরগাঁও

ঢাকা

দিনাজপুর

নওগাঁ

নড়াইল

নরসিংদী

নাটোর

নারায়ণগঞ্জ

নীলফামারী

নেত্রকোনা

নোয়াখালী

পঞ্চগড়

পটুয়াখালি

পাবনা

পিরোজপুর

ফরিদপুর

ফেনী

বগুড়া

বরগুনা

বরিশাল

বাগেরহাট

বান্দরবান

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ভোলা

ময়মনসিংহ

মাগুরা

মাদারীপুর

মানিকগঞ্জ

মুন্সিগঞ্জ

মেহেরপুর

মৌলভীবাজার

যশোর

রংপুর

রাঙামাটি

রাজবাড়ী

রাজশাহী

লক্ষ্মীপুর

লালমনিরহাট

শরীয়তপুর

শেরপুর

সাতক্ষীরা

সিরাজগঞ্জ

সিলেট

সুনামগঞ্জ

হবিগঞ্জ

Flag Counter