শুক্রবার,  ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ,  ১০ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,  রাত ৪:৩৬

শরীয়তপুর-চাদঁপুর মহাসড়ক যেন মরণ ফাঁদ

মার্চ ২৮, ২০১৮ , ০৮:০১

বি.এম ইশ্রাফিল

শরীয়তপুর-চাদঁপুর মহাসড়কটিতে বড় বড় গর্ত আর খানাখন্দকের সৃষ্টি হয়ে এখন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। সড়কটিতে যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা জনসাধারণের চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে মেরামতের কোনো উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি।
এদিকে গত ১৩মার্চ জেলার বিভিন্ন দপ্তর প্রধান, জনপ্রতিনিধি, বীর মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক নেতৃবন্দ, শিক্ষাবিদ, ইমাম, পুরোহিত, সুশীল সমাজ, সাংবাদিক এবং সকল শ্রেণীর পেশার মানুষের সাথে নবাগত জেলা প্রশাসক কাজী আবু তাহের মতবিনিময় সভা করেছে। সেখানে সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ জাকির হোসেনকে ৭দিনে মধ্যে শরীয়তপুর-চাদঁপুর মহাসড়কটির কাজ শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু কি এক অদৃশ্য কারণে এখনও কাজ শুরু হয়নি।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শরীয়তপুর-চাঁদপুর মহাসড়ক প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য রাস্তাটি পুরোটাই এখন বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দকে ভরা। যার কারণে সড়কটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। শরীয়তপুর সদর উপজেলার আঙ্গারিয়া বন্দর থেকে শুরু করে ভেদরগঞ্জ উপজেলার আলুর বাজার ফেরিঘাট পর্যন্ত এ মহাসড়কে প্রতিদিন খুলনা, চট্টগ্রাম, সাতক্ষীরা, বেনাপোল, যশোর, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, রাজবাড়ি, ফরিদপুর গোপালগঞ্জ, বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের ২১টি জেলায় সব ধরনের শত শত ভারি যানবাহন ও যাত্রীবাহী বাস চলাচল করে। ফলে এ রাস্তাটি যানবাহন চলাচলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
২০১৪ সালে ২২ কোটি টাকা ব্যয়ে এ মহাসড়কটি সংস্কার করা হলেও নিম্নমানের নির্মাণ-সামগ্রী দিয়ে মহাসড়কটি পুনঃনির্মাণ করার কারণে বছর না ঘুরতেই আবার যানবাহন চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। বিশেষ করে এ রাস্তার ধুলায় আশপাশের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ঢেকে যায়। রাস্তা দিয়ে বড় বড় যানবাহন তো দূরের কথা ছোট ছোট যানবাহন রিকশা ভ্যান গাড়ি বা অটো-টেম্পো চলাচল করতে পারছে না। সামান্য বৃষ্টি হলেই বড় বড় গর্তে পানি জমে থাকে। আর এ সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচল করতে গেলে ময়লা ও কাদা ছিটে আশপাশের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নষ্ট হচ্ছে।

এ অবস্থায় ২০১৬ সালে সড়ক বিভাগ মহাসড়কটির বিভিন্ন স্থানে ভাঙ্গা অংশগুলো মেরামতের জন্য পুণরায় প্রায় ৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়। ঐ বছর জুন মাসের শেষের দিকে ঐ বরাদ্দকৃত টাকা দিয়ে তড়িঘড়ি করে নিজস্ব তিনটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সড়কের ভাঙ্গা অংশগুলো ইটের সলিংয়ের মাধ্যমে সংস্কার করতে দায়িত্ব দেয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গুলো নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে তড়িঘড়ি করে মেরামতের কাজ শেষ করে। ফলে অল্প দিনেই আবারও সড়কটি ভেঙ্গে মরণ ফাঁদে পরিণত হয়। এরপর আর রাস্তার কোনো বড় ধরণের মেরামত বা সংস্কার করা হয়নি। বর্তমানে মহাসড়কটির অবস্থা এতই নাজুক যে স্বাভাবিক যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি প্রতিনিয়তই ঘটছে বড় বড় দুর্ঘটনা। সড়কটির বেহাল দশার কারণে এ সড়কে অনেক যানবাহন চলাচল কমে গেছে। মালবাহী যানবাহন এ সড়ক দিয়ে সহসা আর যেতে চাচ্ছে না। তারা ঢাকা ঘুরে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার কুমিল্লা, নোয়াখালীসহ পূর্বাঞ্চলে যাতায়াত করছে। এতে করে গাড়িতে জ্বালানি বেশি খরচ হচ্ছে। পাশাপাশি সময়ও বেশি লাগছে। এসব কারণে এ এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্য হ্রাস পেয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ এ জেলায় সরকার দলীয় কোনো প্রভাবশালী নেতা বা কোনো মন্ত্রী পর্যায়ের লোক না থাকায় বন্টনে বৈষম্য করা হচ্ছে। যে কারণে এত গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কটি পুনঃনির্মাণের কোনো উদ্যোগ নেই। এলাকাবাসীর দাবি জরুরি ভিত্তিতে এ মহাসড়কটি সংস্কার করা হোক।

সাতক্ষীরা থেকে চট্টগ্রামগামী ট্রাক চালক আলী হায়দার বলেন, গত ১ বছর যাবত সড়কটি এতই খারাপ যে গাড়ি চালানো খুবই কষ্ট কর। একটু জোরে গাড়ি চালানো যাচ্ছে না। তাহলে উল্টে পড়ে যায়। অনেক কষ্টে যাতায়াত করি।

বেনাপোল থেকে আসা বাসের চালক সহিদুল ইসলাম খা বলেন, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাত্রী নিয়ে চলাচল করি। এ রাস্তায় অনেক সময় নষ্ট হয়। যে কোনো সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। সব সময় আতঙ্কে থাকি। রাস্তাটি ঠিক করার কেউ কি নেই ?

খুলনা থেকে চট্টগ্রামগামী কাঁচামালবোঝাই ট্রাক চালক বলেন, এ রাস্তা দিয়ে যাতায়াত যেমন ঝুঁকি, তেমন মালামাল ক্ষতিও হচ্ছে। রাস্তায় বসে থাকার কারণে মাল পঁচে যাচ্ছে।

খুলনা থেকে ছেড়ে আশা শতাব্দি বাসের যাত্রী সুমাইয়া বলেন, এ রাস্তাটি এতোটাই ঝুঁকিপূর্ণ যে জীবন বাজি রেখে চলতে হচ্ছে। আতঙ্কে আছি কখন যেন গাড়ি উল্টে পড়ে। রাস্তাটি জরুরী ঠিক করা দরকার।

আংগারিয়া বাজারের ব্যবসায়ী স্বপন সাহা বলেন, এ সড়কটি এক বছর ধরে খুবই খারাপ অবস্থা। রাস্তা দিয়ে কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। এ কারণে জিনিসপত্রের দাম বেড়ে গেছে। মালামাল পরিবহন করা কষ্টকর। জরুরী ভিত্তিতে রাস্তাটি মেরামত করা আবশ্যক।
আলুর বাজার ফেরিঘাটে কর্মরত বিআইডব্লিউটিসির ম্যানেজার মোঃ আবদুস সাত্তার বলেন, রাস্তাটি এতোটাই খারাপ যে অনেক যানবাহন এ রাস্তায় আসে না। এ কারণে এ ঘাটে রাজস্ব আদায় কমে গেছে।

শরীয়তপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ জাকির হোসেন বলেন, মহাসড়কটির অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী। নিত্যনতুন দুর্ঘটনা ঘটছে। আপাতত মোরামতের জন্য দুই কিস্তিতে ৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। খুব অল্প সময়ের মধ্যে কাজ শুরু করতে পারবো। এ টাকায় ২৭ কি.মি. রাস্তা মেরামত করা যাবে। তাছাড়া সড়কটি পুনঃনির্মাণের জন্য একটি ডিপিপি জমা দেওয়া হয়েছে। এ ডিপিপি অনুমোদন হলে সড়কটি পুনঃনির্মাণ করা সম্ভব হবে।

Total View: 1096

    আপনার মন্তব্য





সারাদেশ

কক্সবাজার

কিশোরগঞ্জ

কুড়িগ্রাম

কুমিল্লা

কুষ্টিয়া

খাগড়াছড়ি

খুলনা

গাইবান্ধা

গাজীপুর

গোপালগঞ্জ

চট্টগ্রাম

চাঁদপুর

চাঁপাইনবাবগঞ্জ

চুয়াডাঙা

জয়পুরহাট

জামালপুর

ঝালকাঠী

ঝিনাইদহ

টাঙ্গাইল

ঠাকুরগাঁও

ঢাকা

দিনাজপুর

নওগাঁ

নড়াইল

নরসিংদী

নাটোর

নারায়ণগঞ্জ

নীলফামারী

নেত্রকোনা

নোয়াখালী

পঞ্চগড়

পটুয়াখালি

পাবনা

পিরোজপুর

ফরিদপুর

ফেনী

বগুড়া

বরগুনা

বরিশাল

বাগেরহাট

বান্দরবান

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ভোলা

ময়মনসিংহ

মাগুরা

মাদারীপুর

মানিকগঞ্জ

মুন্সিগঞ্জ

মেহেরপুর

মৌলভীবাজার

যশোর

রংপুর

রাঙামাটি

রাজবাড়ী

রাজশাহী

লক্ষ্মীপুর

লালমনিরহাট

শরীয়তপুর

শেরপুর

সাতক্ষীরা

সিরাজগঞ্জ

সিলেট

সুনামগঞ্জ

হবিগঞ্জ

Flag Counter