সোমবার,  ১লা মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ,  ১৬ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,  সন্ধ্যা ৬:৩১

শরীয়তপুর জেলা আ.লীগের কর্মক্রম স্থবির, অফিসে তালা

আগস্ট ২৮, ২০১৮ , ২০:৫৯

এস.এম শফিকুল ইসলাম স্বপন

শরীয়তপুর জেলার কিছু দায়িত্বশীল নেতার দায়িত্বহীনতার কারণে জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। আর এই স্থবিরতা চলছে দীর্ঘ দিন যাবৎ। জেলা আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে ঝুলছে তালা। কার্যালয়কে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নেই কোন কেয়ারটেকার। ফলে তুণমূল নেতাকর্মীরা দ্বিধা বিভক্ত হয়ে পড়েছে।

অতি সম্প্রতি জেলার কিছু হাইব্রীড নেতাদের নিয়ে জেলা আওয়ামীলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা হয়েছে। সেই কমিটিতে হাইব্রীড নেতাদের জায়গা দিতে গিয়ে জেলার বেশ কয়েকজন প্রবীণ ও ত্যাগী নেতাদের জায়গা দেয় সম্ভব হয়নি। যার কারণে ঐ সকল প্রবীণ নেতারা এখন ঘরমুখী হয়ে পড়েছে।

এদিকে জেলা আওয়ামীলীগ দীর্ঘদিন যাবৎ দুইটি দলে বিভক্ত হয়ে আছে। এদের মধ্যে একটি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশে আওয়ামীলীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এবং শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য বি.এম মোজাম্মেল হক। অপরটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশে আওয়ামীলীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ইকবাল হোসেন অপু।

জেলা কমিটি ঘোষনার আগে এ দু’টি দলই আলাদা আলাদা ভাবে তাদের সাংগঠনিক কর্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু কমিটি ঘোষনার পর দল নতুন করে চাঙ্গা হওয়ার পরিবর্তে দলটির সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।

তৃণমূল নেতাকর্মীদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, সাবেক সংসদ সদস্য এবং জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাষ্টার মজিবুর রহমান, সাবেক জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি এবং জাজিরা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোবারেক আলী সিকদার, সাবেক জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং শরীয়তপুর পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ কোতোয়াল এবং সাবেক জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এবং শরীয়তপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র আবদুর রব মুন্সির মতো অনেক প্রবীণ রাজনীতিবিদদের এই নতুন কমিটিতে রাখা হয়নি। পাশাপাশি জেলা কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে যে সকল লোক রয়েছেন তাদের বেশীর ভাগ লোকই ঢাকায় অবস্থান করছেন।

পাশাপাশি জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সাবেদুর রহমান খোকা সিকদার বেশীর ভাগ সময়েই ব্যবসায়ীক কাজে ঢাকায় অবস্থান করেন। যার কারণে সাংগঠনিক কর্মকান্ডে তাকে খুব একটা পাওয়া যায় না।

এদিকে সাধারণ সম্পাদক অনল কুমার দে বেশীর ভাগ সময়ই শারীরিক ভাবে অসুস্থ্য থাকেন। বিধায় তৃণমূল নেতাকর্মীরা নেতৃত্বহীনতায় ভুগছেন। অন্যদিকে জেলা সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদককে নিয়মিত না পাওয়ায় কমিটির অন্যান্য দায়িত্বশীল নেতারাও চুপ হয়ে আছেন। বিধায় জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম ঝিমিয়ে পড়েছে। তাদের এ ঝিমিয়ে পড়ার কারণে গত ২৬ মার্চ উপলক্ষে জেলা আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে কোন কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়নি। এমনকি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষনটিও বাজানো হয়নি। যার প্রভাবে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মনে বিভিন্ন ধরণের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

সেই প্রশ্নের উত্তর পেতে না পেতেই চলে আসলো শোকের মাস আগষ্ট। সরকারী ভাবে আগষ্ট মাসকে জাতীয় শোকের মাস হিসেবে পালন করেছে। কিন্তু জেলা আওয়ামীলীগ এই শোকের মাসকে কেন্দ্র করে কোন কার্যক্রমই হাতে নেয়নি। এরপর আসলো ১৫ আগষ্ট। জাতীয় শোক দিবস। এই দিনে জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে নির্মম ভাবে হত্যা করা হয়েছিল।
সরকারী ভাবে সারা দেশের ন্যায় শরীয়তপুরে জাতীয় শোক দিবস পালন করা হয়েছে। সকাল ৯টায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শোক র‌্যালীসহ আলোচনা সভা, কোরআন খানী ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। কিন্তু শরীয়তপুর জেলা আওয়ামীলীগ এ দিনটি উপলক্ষে কোন কার্যক্রম গ্রহণ করেনি।

সকাল থেকে শরীয়তপুর জেলা আওয়ামীলীগের কার্যালয় বন্ধ রয়েছে। জাতীয় পতাকা নিছক দায়সাড়া ভাবে ভবনের ছাদে একটি বাঁকা রডের সাথে টাংগানো হয়েছে। আর শোক দিবস উপলক্ষে কালো পতাকাটি একই ছাদের আরেকটি রডের সাথে টাংগানো রয়েছে। সেখানে আওয়ামীলীগের দলীয় পতাকা টাংগানো হয়নি। আওয়ামীলীগের দলীয় পতাকাটি হোটেল আল সামাদের দেয়ালের সাথে একটি নোংরা বাঁশের সাথে টাংগানো দেখা যায়। শুধু তাই নয়, ১৫ আগষ্ট উপলক্ষে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষনটিও প্রচার করা হয়নি।

জেলা আওয়ামীলীগের এ দুরাবস্থা এবং তৃণমূল নেতাকর্মীদের মনে হতাশা নেমে আসায় বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কার্যনির্বাহী সদস্য ইকবাল হোসেন অপু’র পরামর্শে সদর উপজেলা আওয়ামীলীগ এবং পৌরসভা আওয়ামীলীগ যৌথভাবে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের ৪৩তম শাহাদাৎ বার্ষিকী এবং জাতীয় শোক দিবস পালন উপলক্ষে এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেন। আলোচনা সভায় শরীয়তপুর সদর উপজেলা এবং জাজিরা উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে প্রায় ত্রিশ হাজার সাধারণ জনগন অংশ নেয়। যা একটা সময়ে জনসমুদ্রে রূপান্তরিত হয়। দীর্ঘ দশ বছরের মধ্যে এ ধরণের বড় আয়োজন আর কখনো হয়নি বলে অনেকের ধারণা। আর এ আয়োজনের কারণে তৃণমূল নেতাকর্মীরা পূণরায় উজ্জিবিত হয়ে উঠেছে। অপরদিকে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য বি.এম মোজাম্মেল হক জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে সদর উপজেলা এবং জাজিরা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বঙ্গবন্ধুর জীবনাদর্শ নিয়ে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছেন। কিন্তু জেলা আওয়ামীলীগ জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে কোন কার্যক্রমই পরিচালনা করেননি।

এ ব্যাপারে জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক বাবু অনল কুমার দে’র সাথে মুঠোফোনে আলাপ করতে চাইলে তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। পরবর্তীতে জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট মির্জা হযরত আলী’র সাথে আলাপ করতে চাইলে তার মোবাইলটিও বন্ধ পাওয়া যায়।

অবশেষে জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান উজ্জ্বল আকনের সাথে আলাপ কালে তিনি বলেন, ব্যাপারটি খুবই দুঃখজনক। আমি এর বেশী কিছু মন্তব্য করতে চাই না।

Total View: 1150

    আপনার মন্তব্য





সারাদেশ

কক্সবাজার

কিশোরগঞ্জ

কুড়িগ্রাম

কুমিল্লা

কুষ্টিয়া

খাগড়াছড়ি

খুলনা

গাইবান্ধা

গাজীপুর

গোপালগঞ্জ

চট্টগ্রাম

চাঁদপুর

চাঁপাইনবাবগঞ্জ

চুয়াডাঙা

জয়পুরহাট

জামালপুর

ঝালকাঠী

ঝিনাইদহ

টাঙ্গাইল

ঠাকুরগাঁও

ঢাকা

দিনাজপুর

নওগাঁ

নড়াইল

নরসিংদী

নাটোর

নারায়ণগঞ্জ

নীলফামারী

নেত্রকোনা

নোয়াখালী

পঞ্চগড়

পটুয়াখালি

পাবনা

পিরোজপুর

ফরিদপুর

ফেনী

বগুড়া

বরগুনা

বরিশাল

বাগেরহাট

বান্দরবান

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ভোলা

ময়মনসিংহ

মাগুরা

মাদারীপুর

মানিকগঞ্জ

মুন্সিগঞ্জ

মেহেরপুর

মৌলভীবাজার

যশোর

রংপুর

রাঙামাটি

রাজবাড়ী

রাজশাহী

লক্ষ্মীপুর

লালমনিরহাট

শরীয়তপুর

শেরপুর

সাতক্ষীরা

সিরাজগঞ্জ

সিলেট

সুনামগঞ্জ

হবিগঞ্জ

Flag Counter