বুধবার,  ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ,  ৮ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,  বিকাল ৩:২৬

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে এ্যামবুলেন্স সিন্ডিকেটের কারণে রোগীরা অসহায়

জুন ৪, ২০১৮ , ০১:৪২

স্টাফ রিপোর্টার
শরীয়তপুর সদর আধুনিক হাসপাতালটি বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত। তার মধ্যে এ্যামবুলেন্স সমস্যাটি প্রকট আকার ধারণ করেছে। এ হাসপাতালটি ১০০ শয্যায় উন্নিত হওয়ার পর সরকার একটি এ্যামবুলেন্স বরাদ্দ দিয়েছেন। আরেকটি এ্যামবুলেন্স পাওয়ার জন্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে। বর্তমানে যে এ্যামবুলেন্সটি রয়েছে তা আকারে ছোট হওয়ায় রোগীরা উঠতে চায় না বলে জানান হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আর.এম.ও) ডাঃ শেখ মোস্তফা খোকন। আর এই সুযোগটি কাজে লাগাচ্ছেন এ্যামবুলেন্সের চালক জাহাঙ্গীর হোসেন। তিনি একটি স্বচল এ্যামবুলেন্সকে বিকল করার পায়তারা চালাচ্ছেন। তারই ধারাবাহিকতায় তিনি বাইরের ফেরত এ্যামবুলেন্স এনে একটি বিশাল সিন্ডিকেট তৈরী করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন শরীয়তপুর জেলা মাইক্রোবাস মালিক সমিতি এবং শরীয়তপুর জেলা মাইক্রোবাস শ্রমিক কমিটি।
তাদের ভাষ্য মতে, শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের এ্যামবুলেন্স চালক জাহাঙ্গীর হোসেন বাইরের এ্যামবুলেন্স এনে রোগীদেরকে বিভিন্ন স্থানে পাঠিয়ে মোটা অংকের টাকা কামিয়ে নিচ্ছেন।
হাসপাতালের জরুরী বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এ হাসপাতালে কিছু জটিল রোগী আসেন যা এ হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দেয়া সম্ভব নয়। সে সকল রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে প্রেরণ করতে হয়। তখন রোগীরা জরুরী ভিত্তিতে যাওয়ার জন্য এ্যামবুলেন্সের স্বরণাপন্ন হন। ঠিক সেই সময় হাসপাতালের এ্যামবুলেন্স চালক জাহাঙ্গীর হোসেন হাসপাতালে এ্যামবুলেন্স নেই বলে বাইরের ফেরত এ্যামবুলেন্স খবর দিয়ে আনেন এবং মোটা টাকার বিনিময়ে রোগীদেরকে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বর্তমানে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে যে এ্যামবুলেন্সটি রয়েছে তা সাইজে একটু ছোট হলেও তা পুরাপুরি স্বচল এবং উক্ত এ্যামবুলেন্সটি দিয়ে জেলার প্রত্যেকটি উপজেলার জরুরী রোগী আনা নেয়া সম্ভব। কিন্তু চালক জাহাঙ্গীর হোসেন উক্ত এ্যামবুলেন্সটি ব্যবহার না করে গ্রেজে উঠিয়ে রেখেছেন।
এ ব্যাপারে শরীয়তপুর জেলা মাইক্রোবাস শ্রমিক সমিতির কোষাধক্ষ আবদুর রহমান ঢালী বলেন, হাসপাতালের যে এ্যামবুলেন্সটি রয়েছে তা দিয়ে রোগী আনা নেয়া করলে সরকার একটি বড় ধরণের রাজস্ব পায়। কিন্তু এ্যামবুলেন্স চালক জাহাঙ্গীর হোসেন তা না করে বাইরের ফেরত এ্যামবুলেন্স এনে রোগীদেরকে বিভিন্ন জায়গায় পাঠাচ্ছেন। একটি বাইরের এ্যামবুলেন্সকে ভাড়া বাবদ দিচ্ছেন ২ হাজার ৫শ টাকা। আর রোগীদের কাছ থেকে নিচ্ছেন ৬ হাজার টাকা। ক্ষেত্র বিশেষে ৮ হাজার টাকা।
বাইরের এ্যামবুলেন্সে রোগী পাঠিয়ে সে রোগী প্রতি তিন থেকে চার হাজার টাকা অতিরিক্ত কমাচ্ছেন। প্রতিদিন যদি গড়ে পাঁচটি রোগী পাঠান তাহলে দিন শেষে পনের হাজার টাকা পকেটে নিয়ে বাড়ি ফিরছেন। সে কোন পুঁজি না খাটিয়ে হাজার হাজার টাকা কামিয়ে নিচ্ছেন অথচ আমরা লক্ষ লক্ষ টাকা পুঁজি খাটিয়ে ভাড়া পাচ্ছি না। জরুরী ভিত্তিতে এ্যামবুলেন্স চালক জাহাঙ্গীরের সিন্ডিকেট বন্ধ করার দাবী জানাচ্ছি। তাহলে হাসপাতালের এ্যামবুলেন্সটি স্বচল থাকার পাশাপাশি সরকার মোটা অংকের রাজস্ব পাবে। এদিকে রোগীরা অল্প টাকায় ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় যেতে পারবে।
শরীয়তপুর জেলা মাইক্রোবাস শ্রমিক কমিটির সভাপতি মোঃ মোছলেম আকন এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী সরদার বলেন, হাসপাতালের এ্যামবুলেন্স চালক জাহাঙ্গীর হোসেন ঢাকার ফেরত এ্যামবুলেন্স দিয়ে একটি সিন্ডিকেট তৈরী করেছেন। এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তিনি হাসপাতাল চত্বরে বাইরের ফেরত এ্যামবুলেন্স ঢুকিয়ে রাখেন। হাসপাতাল থেকে যে সকল রোগীরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান, সে সকল রোগীদেরকে ঐ ফেরত এ্যামবুলেন্সে তুলে দিয়ে রোগীদের কাছ থেকে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা নিচ্ছেন। সেক্ষেত্রে এ্যামবুলেন্স মালিক পাচ্ছেন মাত্র আড়াই হাজার টাকা। আর বাকী টাকা জাহাঙ্গীর হোসেন নিজেই হালাল করছেন। একটি রোগীটাকে যদি হাসপাতালের এ্যামবুলেন্সে পাঠানো হতো তাহলে সরকার অনেক টাকা রাজস্ব পেত। রোগীরও অনেক টাকা বাঁচতো। জাহাঙ্গীরের সিন্ডিকেটের কারণে কোন রোগী বাইরে আসতে পারে না। আমরা লক্ষ লক্ষ টাকা দিয়ে গাড়ি কিনে বসে আছি। স্থানীয় গাড়ী চালক হওয়া সত্ত্বেও ভাড়া পাচ্ছি না। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জাহাঙ্গীরের সিন্ডিকেট ভাঙ্গার দাবী জানাচ্ছি।
এ ব্যাপারে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের এ্যামবুলেন্স চালক জাহাঙ্গীর হোসেনের সাথে আলাপ কালে তিনি বলেন, আমি এখানে সিন্ডিকেট বলতে কিছু করিনি। হাসপাতালে যে এ্যামবুলেন্সটি রয়েছে, তা আকারে অনেক ছোট। রোগীরা উঠতে চায় না। পাশাপাশি এ্যামবুলেন্সের কন্ডিশান ভাল না। এই এ্যামবুলেন্স নিয়ে দূরে কোথাও যাওয়া যায় না। তাই ঢাকার ফিরতি এ্যামবুলেন্সে রোগী তুলে দিচ্ছি। এতে করে রোগীর অনেক টাকা স্বাশ্রয় হচ্ছে।
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তিকৃত বিনোদপুর গ্রামের এক রোগীর অভিভাবক মোঃ লিটন মিয়া বলেন, আমার বাবাকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেছিলাম। আমার আব্বার অবস্থা ভাল ছিলো না। তখন ডাঃ নাসির উদ্দিন আমার আব্বাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। জরুরী অবস্থায় আমার আব্বাকে ঢাকা নেয়া প্রয়োজন বিধায় এ্যামবুলেন্স চালক জাহাঙ্গীরের সাথে যোগাযোগ করি। তিনি সাড়ে ছয় হাজার টাকার বিনিময়ে আমার আব্বাকে ঢাকার একটা ফিরতি এ্যামবুলেন্সে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। আমি গরীব, ঐ মুহুর্তে এতো টাকা দেয়ার সামর্থ আমার ছিলো না। তারপরেও যেতে হয়েছে। হাসপাতালে এ্যামবুলেন্স না থাকায় এদেশের মানুষ যে কতোটা অসহায় তা হাসপাতালে না আসলে বোঝা যায় না।
এ ব্যাপারে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আর.এম.ও) ডাঃ শেখ মোস্তফা খোকনের সাথে আলাপ কালে তিনি বলেন, এ হাসপাতালে একটি এ্যামবুলেন্স রয়েছে। তা আকারে ছোট। কিন্তু স্বচল। হাসপাতালের এ্যামবুলেন্স চালক জাহাঙ্গীর হোসেন রোগীদের কাছ হতে ঢাকার ফিরতি এ্যামবুলেন্স দিয়ে সিন্ডিকেট করে টাকা কামাচ্ছে তা আমার জানা ছিলো না। আমরা সারাদিন এতো পরিশ্রম করেও এতো টাকা কামাতে পারি না। যদি সে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে টাকা কামানোর চেষ্টা করে তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Total View: 1265

    আপনার মন্তব্য





সারাদেশ

কক্সবাজার

কিশোরগঞ্জ

কুড়িগ্রাম

কুমিল্লা

কুষ্টিয়া

খাগড়াছড়ি

খুলনা

গাইবান্ধা

গাজীপুর

গোপালগঞ্জ

চট্টগ্রাম

চাঁদপুর

চাঁপাইনবাবগঞ্জ

চুয়াডাঙা

জয়পুরহাট

জামালপুর

ঝালকাঠী

ঝিনাইদহ

টাঙ্গাইল

ঠাকুরগাঁও

ঢাকা

দিনাজপুর

নওগাঁ

নড়াইল

নরসিংদী

নাটোর

নারায়ণগঞ্জ

নীলফামারী

নেত্রকোনা

নোয়াখালী

পঞ্চগড়

পটুয়াখালি

পাবনা

পিরোজপুর

ফরিদপুর

ফেনী

বগুড়া

বরগুনা

বরিশাল

বাগেরহাট

বান্দরবান

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ভোলা

ময়মনসিংহ

মাগুরা

মাদারীপুর

মানিকগঞ্জ

মুন্সিগঞ্জ

মেহেরপুর

মৌলভীবাজার

যশোর

রংপুর

রাঙামাটি

রাজবাড়ী

রাজশাহী

লক্ষ্মীপুর

লালমনিরহাট

শরীয়তপুর

শেরপুর

সাতক্ষীরা

সিরাজগঞ্জ

সিলেট

সুনামগঞ্জ

হবিগঞ্জ

Flag Counter