রবিবার,  ২০শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ,  ৬ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ,  সন্ধ্যা ৬:০৬

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ডাক্তার সংকট

ডিসেম্বর ১৫, ২০১৯ , ১৫:৪৮

স্টাফ রিপোর্টার
নামে আধুনিক সদর হাসপাতাল হলেও কাজে কর্মে আধুনিকতার কোন ছোঁয়া লাগেনি। অনিয়ম এবং অব্যবস্থাপনার কারণে হাসপাতালটি এখন চরম অসুস্থ্য হয়ে পড়েছে। এ হাসপাতালটিতে ডাক্তার সংকটের পাশাপাশি রয়েছে লোকবলের সংকট। ফলে রোগীরা চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
গত শনিবার সকাল শোয়া ১১টায় সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, হাসাপাতালে অনেক রোগীর ভীর। আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ সুমন কুমার পোদ্দার, ডাঃ খাজা হুমায়ুন কবির এবং ডাঃ নজরুল ইসলাম সেই রোগী দেখতে হিমসিম খাচ্ছেন। এতো অল্প সংখ্যক ডাক্তার দিয়ে এতো বড় একটি হাসপাতাল কিভাবে চলছে তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। আর এই ব্যাপারটি নিয়ে সকাল সাড়ে ১১টায় হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ মনীর আহমেদ খানের সাথে আলাপ করতে গেলে তাকে হাসপাতালে পাওয়া যায়নি।
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের অফিস সূত্রে জানা যায়, শরীয়তপুর আধুনিক সদর হাসপতালটি ১৯৯০ সালে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। জনসংখ্যার সাথে পাল্লা দিয়ে ধীরে ধীরে রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। যার ফলে ২০০৩ সালে এ হাসপাতালটি ১০০ শয্যার হাসপাতাল হিসেবে উন্নীত করা হয়। দীর্ঘ ১৬ বছরেও শরীয়তপুর আধুনিক সদর হাসপাতালের ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন, লোকবল ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা বাড়েনি। হাসপাতালে ১০০ শয্যার অনুমতি থাকলেও প্রতিদিন গড়ে রোগী ভর্তি হয় কমপক্ষে ১৫০ থেকে ১৭০ জন। এ সব রোগীদের থাকা খাওয়া ও সেবা দেয়া হয়ে পড়ে খুব দুষ্কর।
এ হাসপাতালে ডাক্তারের জন্য অনুমোদিত পদ রয়েছে ২৬ জন। অথচ ডাক্তার কর্মরত আছে মাত্র ১০ জন। আর এই ১০জন ডাক্তার প্রতিদিন থাকেন না। তার প্রমান মিলছে শনিবার। শনিবার মাত্র ৩জন ডাক্তার দিয়ে হাসপাতালটি পরিচালনা করেছেন। ২/১ জন ডাক্তার সপ্তাহে ২দিন থাকেন হাসপাতালে। বাকি ৫ দিনই থাকেন অনুপস্থিত। সদর হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায় নাম মাত্র ২/১ জন ডাক্তার জরুরী বিভাগ, বর্হি বিভাগসহ রোগী দেখার দায়িত্ব পালন করছেন। বাকিদেরকে হাসপাতালে পাওয়া যায়নি। ফলে দুর-দুরান্ত থেকে আসা রোগীরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
১০০ শয্যার এ হাসপাতালে সিনিয়র কনসালটেন্ট এর পদ রয়েছে ১১জনের। আর কর্মরত আছে মাত্র ২ জন। জুনিয়র কনসালটেন্ড পদ রয়েছে ১৩ জনের। কর্মরত রয়েছে মাত্র ৫ জন। এখানে সার্জারী বিশেষজ্ঞ নেই, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ নেই, মেডিকেল অফিসার সহ ১০ জন মেডিকেল অফিসার নেই দীর্ঘদিন যাবৎ। বিভিন্ন বিভাগের এ সব ডাক্তারের পদ শূন্য থাকায় মুমুর্ষ রোগীকে হাসপাতালে আনলে জরুরী বিভাগে ঘন্টার পর ঘন্টা পড়ে থাকতে হয়। ভর্তি করার পরও অনেক রোগী সেবা না পেয়ে বাধ্য হয়ে ছাড়পত্র নিয়ে ঢাকা, বরিশাল, ফরিদপুরসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চলে যায়। তাতে করে রোগীর যেমন আর্থিক ক্ষতি হয় তেমন ভোগান্তি হয়।
ভর্তি রোগীদের সেবা দেয়ার জন্য ৭২ জন নার্স এর পদ রয়েছে। এরমধ্যে সিনিয়র স্টাফ নার্স ৬১ জন এবং স্টাফ নার্স ১১ জন। কর্মরত আছে মাত্র ৪৮ জন। রোগীর তুলনায় নার্সদের সংখ্যা অনেক কম থাকায় রোগীরা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার হলেই অধিকাংশ ডাক্তাররা ছুটি ছাড়াই জেলার বাইরে চলে যান। ফলে বৃহস্পতিবার থেকে রোববার পর্যন্ত হাসপাতালে অনেক ডাক্তারই থাকে না।
এ ব্যাপারে সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ সুমন কুমার পোদ্দার বলেন, হাসপাতালে ডাক্তার সংকট রয়েছে। আজ আমরা তিনজন মিলে হাসপাতালটি চালাচ্ছি। এতো রোগী দেখা আমাদের জন্য কষ্টকর। তাই জরুরী ভিত্তিতে ডাক্তার নিয়োগ দেয়া প্রয়োজন।

Total View: 303

    আপনার মন্তব্য





সারাদেশ

কক্সবাজার

কিশোরগঞ্জ

কুড়িগ্রাম

কুমিল্লা

কুষ্টিয়া

খাগড়াছড়ি

খুলনা

গাইবান্ধা

গাজীপুর

গোপালগঞ্জ

চট্টগ্রাম

চাঁদপুর

চাঁপাইনবাবগঞ্জ

চুয়াডাঙা

জয়পুরহাট

জামালপুর

ঝালকাঠী

ঝিনাইদহ

টাঙ্গাইল

ঠাকুরগাঁও

ঢাকা

দিনাজপুর

নওগাঁ

নড়াইল

নরসিংদী

নাটোর

নারায়ণগঞ্জ

নীলফামারী

নেত্রকোনা

নোয়াখালী

পঞ্চগড়

পটুয়াখালি

পাবনা

পিরোজপুর

ফরিদপুর

ফেনী

বগুড়া

বরগুনা

বরিশাল

বাগেরহাট

বান্দরবান

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ভোলা

ময়মনসিংহ

মাগুরা

মাদারীপুর

মানিকগঞ্জ

মুন্সিগঞ্জ

মেহেরপুর

মৌলভীবাজার

যশোর

রংপুর

রাঙামাটি

রাজবাড়ী

রাজশাহী

লক্ষ্মীপুর

লালমনিরহাট

শরীয়তপুর

শেরপুর

সাতক্ষীরা

সিরাজগঞ্জ

সিলেট

সুনামগঞ্জ

হবিগঞ্জ

Flag Counter