বুধবার,  ২১শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ,  ৫ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,  রাত ১০:২০

শরীয়তপুর-২ আসনে আ.লীগের কোন্দল রয়েছে চরমে

মার্চ ২০, ২০১৮ , ২৩:০৯

স্টাফ রিপোর্টার
শরীয়তপুর-২ আসনে সরকারী দলের সঙ্গে বিরোধী দলের তেমন কোন বিরোধ না থাকলেও উপজেলা আওয়ামীলীগ দু’টি পক্ষে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। আর এই দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন যাবৎ দলীয় কোন্দল বিরাজ করছে। উপজেলা পর্যায়ের নেতা কর্মীদের মধ্যে থেকে শুরু করে ওয়ার্ডের তৃণমূল নেতা কর্মীদের মাঝেও এ কোন্দল ছড়িয়ে পড়েছে। এ দিকে আওয়ামীলীগের নেতৃত্বদানকারী দুই নেতাই দলীয় কোন্দলের কথা অস্বীকার করেছেন। কিন্তু বাস্তবে শরীয়তপুর-২ আসনটি এখন দলীয় কোন্দলের ফেক্টোরীতে পরিণত হয়েছে।
এক পক্ষের নেতা স্থানীয় সংসদ সদস্য (অবঃ) কর্নেল শওকত আলী এবং অপর পক্ষের নেতা বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এ.কে.এম এনামুল হক শামীম। উভয় পক্ষের সমর্থকরা দীর্ঘ আট বছর ধরে এ কোন্দলে জড়িয়ে রয়েছে। আর এ কোন্দলের কারণে দলীয় কর্মসূচির বিপরীতে পাল্টা কর্মসূচি এবং নতুন কমিটির বিপরীতে পাল্টা নতুন কমিটি করা এখন তাদের স্বাভাবিক নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন কর্মসূচীকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের নেতা কর্মীদের মধ্যে সংর্ঘষের মত ঘটনাও ঘটছে। ফলে আওয়ামীলীগের জন্য এ আসনটি এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ২০০৮ সালের উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এ কোন্দল শুরু হয়। কিন্তু কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে এ সব কোন্দল সমাধানে কোন উদ্যোগ গ্রহণ না করায় তৃণমূল নেতা কর্মীদের মাঝে চরম ক্ষোভ আর হতাশা বিরাজ করছে।
তৃণমূল নেতা কর্মীদের সাথে আলাপ কালে জানা যায়, শরীয়তপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রবীন রাজনীতিবিদ (অবঃ) কর্নেল শওকত আলী এ আসন থেকে ৭ বার নির্বাচিত হয়ে সংসদ সদস্যের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। অন্যদিকে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক এ.কে.এম এনামুল হক শামীম দীর্ঘ দিন ধরে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব শেষে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কার্যনির্বাহী সদস্য নির্বাচিত হন। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
শরীয়তপুর-২ আসনে যখন এনামুল হক শামীমের সমর্থকরা সখিপুর থানা যুবলীগের কমিটি ঘোষনা করার শেষ পর্যায়ে ঠিক তখন কর্ণেল (অবঃ) শওকত আলীর সমর্থকরা ২৯ মার্চ মতিউর রহমান মাঝিকে আহ্বায়ক করে ২১ সদস্যর একটি আহ্বায়ক কমিটি কেন্দ্র থেকে অনুমোদন নিয়ে আসে। ফলে শামীম সমর্থকদের মাঝে চরম ক্ষোভ আর হতাশা সৃষ্টি হয়। এনামুল হক শামীমের সমর্থিত থানা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী রাসেল আহমেদ পলাশ অভিযোগ করে বলেন, বর্তমান থানা যুবলীগের কমিটিতে আমাদের লোকজনকে বাদ দিয়ে বিএনপি ও জামায়াত কর্মীদের নিয়ে গঠিত করা হয়েছে। কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক সেকুল সরকার গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ধানের শীষের এজেন্ট ছিলেন।
এ ব্যাপারে কর্ণেল (অবঃ) শওকত আলীর সমর্থক সখিপুর থানা যুবলীগের আহ্বায়ক মতিউর রহমান মাঝি বলেন, সেকুল সরকার ২০০৮ সালে সকল নেতা কর্মীদের উপস্থিতিতে আওয়ামীলীগে যোগদান করেন।
গত বছর মার্চ মাসে সখিপুর থানার চরভাগা ইউনিয়নের মমিন আলী মোল্যার বাজারে আওয়ামীলীগের দুটি গ্রুপ পাল্টাপাল্টি কর্মসূচী ঘোষনা করে। এনামুল হক শামীমের সমর্থক চরভাগা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শামীম গাজী বলেন, আমরা বাংলাদেশ ছাত্রলীগের উপ-বিজ্ঞান বিষয়ক সম্পাদক শিপন শিকদারকে সংবর্ধনা প্রদানের লক্ষ্যে থানা থেকে অনুমতি নিয়ে আলোচনা শুরু করি। ঐ সময় যুবলীগ কর্মীরা আমাদের বিপরীতে আরেকটি সভা করতে চাইলে পুলিশ তা করতে দেয়নি।
সাংসদ শওকত আলীর সমর্থক সখিপুর থানা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মাঈনউদ্দিন লস্কর বলেন, ঐদিন আমাদের যুবলীগ কর্মীরা মমিন আলী মোল্যার বাজারে সভা করতে চাইলে পুলিশের বাঁধায় তা পন্ড হয়ে যায়। থানা যুবলীগের যুগ্ম আহব্বায়ক সেকুল সরকার অভিযোগ করে বলেন, কিছুদিন আগে আমরা উত্তর তারাবুনিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বাজারে যুবলীগের কর্মকান্ড এগিয়ে নেয়ার লক্ষ্যে আলোচনা সভার আয়োজন করি, সেখানে এনামুল হক শামীম সমর্থিত ছাত্রলীগ কর্মীরা আমাদের সভার বিপরীতে আর একটি সভা করে।
২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামীলীগ সমর্থিত প্রার্থীর পরাজয়ের কারণ হিসেবে আওয়ামীলীগের দলীয় কোন্দলকে দায়ী করেন অনেক নেতাকর্মীরা। ঐ নির্বাচনে তিনজন প্রার্থীর মধ্যে বিএনপি’র প্রার্থী আনোয়ার হোসেন মাঝিসহ আওয়ামীলীগের দুইজন প্রার্থী ছিল। একাধিক নেতাকর্মীদের দাবি, নির্বাচনে আলতাফ ছৈয়াল অথবা হাবিবুর রহমান শিকদারের মধ্যে যেকোন একজন আওয়ামীলীগের হয়ে প্রতিদ্বন্ধিতা করলে বিএনপি’র প্রার্থী আনোয়ার হোসেন মাঝির জয় সম্ভব হতো না। ঐ নির্বাচনে এনামুল হক শাামীমের সমর্থকরা বিদ্রোহী প্রার্থী হাবিবুর রহমান শিকদারের সমর্থন করায় আওয়ামীলীগ প্রার্থী আলতাফ ছৈয়ালের পরাজয় হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন নেতাকর্মীরা।
ঐসব নেতাকর্মীরা আরো জানায়, বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করায় ঐ সময় জেলা আওয়ামীলীগ মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমানকে দল থেকে বহিস্কার করেছিল। কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাবেক সদস্য আলতাফ হোসেন ছৈয়াল বলেন, ঐ নির্বাচনে প্রত্যেকটি ইউনিয়নে আমি জয়ী হলেও সখিপুর থানা আওয়ামীলীগের বর্তমান সভাপতি হুমায়ূন কবির মোল্যার চরকুমারিয়া ইউনিয়ন ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীমের চরভাগা ইউনিয়ন ও মোস্তাফিজুর রহমান সরদারের সখিপুর ইউনিয়নে তারা চক্রান্ত করে আমাকে পরাজিত করে। তাই স্পষ্ট হয় ঐ নির্বাচনে তারা শুধু আমার সাথে নয় পুরো আওয়ামীলীগ পরিবারের সাথে বেঈমানী করে বিএনপি’র প্রার্থীকে জয়ী হতে সাহায্য করেছিল। জানা গেছে, ঐ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আলতাফ ছৈয়াল ও হাবিবুর রহমান শিকদার গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষও ঘটেছিল। এদের মধ্যে আলতাফ ছৈয়াল ছিলেন কর্ণেল (অবঃ) শওকত আলীর সমর্থক এবং হাবিবুর রহমান শিকদার এনামুল হক শামীম সমর্থক ছিলেন।
ছয় বছর পূর্বে সখিপুর থানা আওয়ামীলীগের সম্মেলনে সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয় এনামুল হক শামীমের সমর্থক মোস্তাফিজুর রহমান সরদার। অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হয় শরীয়তপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য শওকত আলীর সমর্থক আতিকুর রহমান মানিক সরকার। অভিযোগ রয়েছে মোস্তাফিজ সরদারের অকাল মৃত্যুর কারণে সেখানে কোন রকম নির্বাচন ছাড়াই এনামুল হক শামীমের সমর্থক সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির মোল্যাকে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়। পরে প্রায় ১১ বছরের বেশী সময় ধরে এ.কে.এম এনামুল হক শামীমের সমর্থনে সখিপুর থানা ছাত্রলীগের কমিটি কেন্দ্র থেকে পাশ করিয়ে আনা হয়। ঐ কমিটির বিপরীতে শরীয়তপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য কর্ণেল (অবঃ) শওকত আলীর সুপারিশ ক্রমে সখিপুর থানা ছাত্রলীগের আরও একটি কমিটি ঘোষনা করে তার সমর্থকরা। সাংসদ শওকত আলী সমর্থিত থানা ছাত্রলীগের কমিটি বর্তমানে নিস্ক্রীয় থাকলেও এনামুল হক শামীমের সমর্থিত কমিটি মাঠ পর্যায়ে শক্ত অবস্থানে রয়েছে।
এ বিষয়ে এনামুল হক শামীম সমর্থক উত্তর তারাবুনিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি প্রার্থী ইয়াসিন সরকার বলেন, পূর্ব নির্ধারিত সময় অনুযায়ী আমরা ছাত্রলীগ কর্মীরা উত্তর তারাবুনিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বাজারে আলোচনা সভা করেছিলাম।
সখিপুর থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জনি মাঝি বলেন, আমাদের কমিটি কেন্দ্র থেকে অনুমোদন করা হলেও এমপি’র গ্রুপ আমাদের কমিটির বিপরীতে অন্য একটি কমিটি গঠন করে দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে।
সখিপুর থানা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খায়ের সরদার বলেন, প্রত্যেক এলাকাতেই এমপি’র সুপারিশ করা কমিটি কেন্দ্র থেকে অনুমোদন করা হয়। কিন্তু আমাদের থানা কমিটিতে এমপি’র সুপারিশ উপেক্ষা করে কেন্দ্রকে ভুল বুঝিয়ে অনুমোদন নেয়া হয়েছে।
শরীয়তপুর-২ আসনের আওয়ামীলীগ ও অঙ্গ সংগঠনের মাঝে দলীয় কোন্দল বিরাজমান থাকলেও ইউপি নির্বাচনে তেমন কোন প্রভাব লক্ষ্য করা যায়নি। ঐ নির্বাচনে বিভিন্ন ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ প্রার্থীর বিপরীতে কর্ণেল (অবঃ) শওকত আলীর সমর্থনে একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী ঘোষনা করার অভিযোগ রয়েছে। যদিও ঐ নির্বাচনে দু’একটি ইউনিয়ন ব্যতিত অন্যান্য ইউনিয়নে এনামুল হক শামীম সমর্থিত আওয়ামীলীগ প্রার্থীরাই একচেটিয়া বিজয় লাভ করেছে।
সখিপুর থানা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান মানিক সরকার বলেন, বিদ্যমান কোন্দল নিরসনে আমরা বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করছি। এই সব কোন্দল সমাধানে আমাদের কেন্দ্রীয় নেতা এনামুল হক শামীম ও আমাদের এম.পি কর্ণেল (অবঃ) শওকত আলীর মধ্যে বার বার আলোচনা হয়েছে কিন্তু কোন সমাধান হয়নি। আমরা চাই কেন্দ্র থেকে এসব কোন্দল নিরসন করা হোক। কারণ এ কোন্দলের কারণেই গত উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামীলীগের পরাজয় হয়েছিল।
এ ব্যাপারে সখিপুর থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি হুমায়ুন কবির মোল্যা বলেন, শরীয়তপুর-২ আসনে কোন প্রকার কোন্দল নেই। ছয় বছর আগে ছিল এখন তা সমাধান হয়ে গেছে। আগামী নির্বাচনে যাকে মনোনয়ন দেয়া হবে সকলেই তার পক্ষ হয়েই জন্য কাজ করবে।
শরীয়তপুর-২ আসনে এই দুই প্রভাবশালী নেতা দুটি পক্ষে বিভক্ত থাকায় আগামী নির্বাচনে এর বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছে অনেকেই। শরীয়তপুর জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ছাবেদুর রহমান খোকা শিকদার বলেন, আওয়ামীলীগ একটি বড় দল। এখানে মতের পার্থক্য থাকাটা স্বাভাবিক। আগামী নির্বাচনে নেত্রী যাকে মনোনয়ন দিবেন আমরা তার পক্ষেই কাজ করবো। এ আসনে কোন কোন্দল নেই।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এ.কে.এম এনামুল হক শামীম বলেন, এম.পি সাহেব মুরুব্বি মানুষ। তিনি তার মত করে কিছু লোকজন নিয়ে মিছিল মিটিং করেন। আমাদের লোকজন তার সকল কাজে সব সময় সহযোগিতা করেছে। আমাদের কোন কোন্দল নেই।
এ ব্যাপারে শরীয়তপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য কর্ণেল (অবঃ) শওকত আলীর সাথে মুঠো ফোনে আলাপ কালে তিনি বলেন, শরীয়তপুর-২ আসনে কোন কোন্দল নেই। এই আসনে আমার নেতৃত্বে নৌকার প্রতীক নিয়ে সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করছে।

Total View: 1272

    আপনার মন্তব্য





সারাদেশ

কক্সবাজার

কিশোরগঞ্জ

কুড়িগ্রাম

কুমিল্লা

কুষ্টিয়া

খাগড়াছড়ি

খুলনা

গাইবান্ধা

গাজীপুর

গোপালগঞ্জ

চট্টগ্রাম

চাঁদপুর

চাঁপাইনবাবগঞ্জ

চুয়াডাঙা

জয়পুরহাট

জামালপুর

ঝালকাঠী

ঝিনাইদহ

টাঙ্গাইল

ঠাকুরগাঁও

ঢাকা

দিনাজপুর

নওগাঁ

নড়াইল

নরসিংদী

নাটোর

নারায়ণগঞ্জ

নীলফামারী

নেত্রকোনা

নোয়াখালী

পঞ্চগড়

পটুয়াখালি

পাবনা

পিরোজপুর

ফরিদপুর

ফেনী

বগুড়া

বরগুনা

বরিশাল

বাগেরহাট

বান্দরবান

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ভোলা

ময়মনসিংহ

মাগুরা

মাদারীপুর

মানিকগঞ্জ

মুন্সিগঞ্জ

মেহেরপুর

মৌলভীবাজার

যশোর

রংপুর

রাঙামাটি

রাজবাড়ী

রাজশাহী

লক্ষ্মীপুর

লালমনিরহাট

শরীয়তপুর

শেরপুর

সাতক্ষীরা

সিরাজগঞ্জ

সিলেট

সুনামগঞ্জ

হবিগঞ্জ

Flag Counter