শুক্রবার,  ৩রা জুলাই, ২০২০ ইং,  ১৯শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,  রাত ৪:৩৮

সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ‘সাইবার যুদ্ধের’ আশঙ্কা

সেপ্টেম্বর ৯, ২০১৮ , ২১:৫৩

স্টাফ রিপোর্টার
বাংলাদেশে রাজনৈতিক প্রচার-প্রচারণার ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে। আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে ইন্টারনেট-ভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগের এ মাধ্যমটি বড় প্লাটফর্ম হিসেবে ব্যবহৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। দেশের রাজনৈতিক দলগুলো বিষয়টি নিয়ে বেশ মনোযোগী, যা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাদের বক্তব্যে ফুটে উঠেছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম ৮ সেপ্টেম্বর, শনিবার যশোরে দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আসছে নির্বাচনে সাইবার যুদ্ধ হবে।’

এমন প্রেক্ষাপটে দলটির কর্মী-সমর্থকদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশি সক্রিয় হতে পরামর্শ দিয়েছেন এইচ টি ইমাম। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টাকে উদ্ধৃত করে একটি দৈনিক লিখেছে, ‘তারা যদি মিথ্যা একটি লেখে, আপনার ১০টি জবাব লিখুন। আপনারা কেন পিছিয়ে থাকবেন। আগামী নির্বাচনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাংঘাতিক লড়াই হবে। আপনাদেরকে প্রস্তুত থাকতে হবে।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে আওয়ামী লীগ যথেষ্ট গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে, যা তাদের কর্মকাণ্ডে প্রতীয়মান হচ্ছে। তাদের ধারণা, সরকারবিরোধীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ‘অপপ্রচারে’ লিপ্ত। বিপরীতে আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকরা ততটা সোচ্চার নয় বলেই ধারণা দলের।

সম্প্রতি আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সাইবার ব্রিগেড গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছে। এ ব্রিগেড গঠনের পক্ষে তাদের যুক্তি হলো, এর মূল লক্ষ্য হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘গুজব ছড়ানো প্রতিহত’ করা। এ ছাড়া আগামী নির্বাচনের জন্য ‘সরকারের উন্নয়ন’ প্রচার করা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক আসিফ নজরুল মনে করেন, আসছে নির্বাচনে অনলাইন, বিশেষ করে করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। বর্তমান সময়ে মাধ্যমগুলো পৃথিবীতে নির্বাচনি প্রচারণা এবং খবর আদান-প্রদানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এর দুটো কারণের কথা বলেছেন অধ্যাপক নজরুল।
প্রথম কারণ হচ্ছে, বাংলাদেশের মূলধারার গণমাধ্যমে একাংশ বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে। অপর অংশ সরকারের বিভিন্ন কালাকানুনের ভয়ে স্বাধীন মতো সাংবাদিকতা করতে পারছে না।

অধ্যাপক নজরুলের মতে, নিয়মতান্ত্রিকভাবে প্রতিবাদ করার জায়গা চরমভাবে সংকুচিত হওয়ার কারণে বিকল্প হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের শিক্ষক বিএম মইনুল হোসেন। তিনি বলেন, ‘এবারের নির্বাচনকে সামনে রেখে ফেসবুকে রাজনৈতিক দলের প্রার্থিরা নিজেদের প্রচারণা জোরেশোরে শুরু করেছেন। কোন পোস্টে কয়টি লাইক পড়ছে, কতগুলো শেয়ার হচ্ছে- এটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এর মাধ্যমে একটি ইমপ্যাক্ট (প্রভাব) তৈরি হয়।’

মইনুল হোসেনের মতে, ফেসবুক এমন একটি মাধ্যম, যার সাহায্যে কম সময়ে অনেক মানুষের কাছে বার্তা পৌঁছে দেওয়া যায়।

সাইবার যুদ্ধ সম্পর্কে বলতে গিয়ে মইনুল হোসেন বলেন, ‘সাইবার যুদ্ধ বলতে তো আর প্রথাগত যুদ্ধ বোঝায় না। ইন্টারনেট ব্যবহার করে নিজেদের প্রচার-প্রচারণা করা এবং প্রতিপক্ষের ভুল চিহ্নিত করাটাই হবে এর উদ্দেশ্য।’

সম্প্রতি কোটা সংস্কার এবং নিরাপদ সড়কের দাবিতে ছাত্র আন্দোলনের সময় বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বহুল ব্যবহার লক্ষ্য করা গেছে। তা নিয়ে সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকে খোলাখুলি বিরক্তি প্রকাশ এবং নেতিবাচক মন্তব্যও করা হয়েছে।

এ প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিশেষ করে ফেসবুক নিয়ে সরকার বাড়তি সতর্ক হয়ে উঠেছে। মাসখানেক আগে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর হলে ফেসবুকসহ যে কোনো কিছু বন্ধ করতে হবে।

ফেসবুকে অনেক গ্রুপ এবং পেজ আছে, যেখানে আওয়ামী লীগ, বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীর কর্মকাণ্ডের সমর্থন করা কিংবা প্রতিপক্ষের সমালোচনা করা হয়।

‘বিএনপি সমর্থক গোষ্ঠী’, ‘বিএনপি-দেশনায়ক তারেক রহমান’ কিংবা ‘শেখ হাসিনা-মাদার অব হিউম্যানিটি’, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ অনলাইন ফোরাম’- এ ধরনের বহু ফেসবুক পেজ রয়েছে। যেগুলোতে নিজেদের কর্মকাণ্ডের প্রচার-প্রচারণার পাশাপাশি প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নানা প্রচারণার বিষয়ও দেখা যায়।

জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রচারণা সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রভাব তৈরি করে। এ বিষয়ে অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, ‘যখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটা জিনিস প্রচণ্ড আলোচিত হয়, এমনকি মূল গণমাধ্যমও সেটা দ্বারা প্রভাবিত হয়।’

বাংলাদেশ রাজনৈতিক অঙ্গনে ‘সাইবার যুদ্ধ’ প্রথমবারের মতো ব্যাপক আকার ধারণ করে ২০১২ সালে যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবিতে ঢাকার শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনের সময়।

গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনকারীরা যেভাবে অনলাইন ব্লগ এবং সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয় ছিলেন, তেমনি ফেসবুকসহ ইন্টারনেটভিত্তিক বিভিন্ন মাধ্যমে ব্যাপকভাবে সক্রিয় ছিল জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকরাও।

‘বাঁশের কেল্লা’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে বিচারের সমালোচনা করা হতো প্রতিনিয়ত। ফেসবুক পেজটিকে জামায়াতে ইসলামীর মদদপুষ্ট বলে মনে করা হয়।

এর পর থেকে ফেসবুকে নানা ধরনের গ্রুপ তৈরি করেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মী-সমর্থকরা।

Total View: 925

    আপনার মন্তব্য





সারাদেশ

কক্সবাজার

কিশোরগঞ্জ

কুড়িগ্রাম

কুমিল্লা

কুষ্টিয়া

খাগড়াছড়ি

খুলনা

গাইবান্ধা

গাজীপুর

গোপালগঞ্জ

চট্টগ্রাম

চাঁদপুর

চাঁপাইনবাবগঞ্জ

চুয়াডাঙা

জয়পুরহাট

জামালপুর

ঝালকাঠী

ঝিনাইদহ

টাঙ্গাইল

ঠাকুরগাঁও

ঢাকা

দিনাজপুর

নওগাঁ

নড়াইল

নরসিংদী

নাটোর

নারায়ণগঞ্জ

নীলফামারী

নেত্রকোনা

নোয়াখালী

পঞ্চগড়

পটুয়াখালি

পাবনা

পিরোজপুর

ফরিদপুর

ফেনী

বগুড়া

বরগুনা

বরিশাল

বাগেরহাট

বান্দরবান

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ভোলা

ময়মনসিংহ

মাগুরা

মাদারীপুর

মানিকগঞ্জ

মুন্সিগঞ্জ

মেহেরপুর

মৌলভীবাজার

যশোর

রংপুর

রাঙামাটি

রাজবাড়ী

রাজশাহী

লক্ষ্মীপুর

লালমনিরহাট

শরীয়তপুর

শেরপুর

সাতক্ষীরা

সিরাজগঞ্জ

সিলেট

সুনামগঞ্জ

হবিগঞ্জ

Flag Counter