বুধবার,  ২৭শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ,  ১৩ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,  সন্ধ্যা ৭:৫৮

সন্ত্রাসের আরেক নাম ইরানী মল্লিক, তার খুঁটির জোড় কোথায় !

এপ্রিল ২৩, ২০২০ , ০০:৪৭

স্টাফ রিপোর্টার
দলীয় কোন পদ পদবী ছাড়াই রাজনীতির মুখোশ পড়ে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন শরীয়তপুর সদর উপজেলার পশ্চিম কাশাভোগ গ্রামের বাসিন্দা শাহিন তালুকদারের স্ত্রী ইরানী মল্লিক। শুধু তাই নয়, যুবতী মেয়েদের দিয়ে দেহ ব্যবসা, চাঁদাবাজি, নিয়োগ বাণিজ্য এবং বিভিন্ন অফিসে দালালী করাই হচ্ছে তার মূল পেশা। ইরানী মল্লিকের চাঁদাবাজি এবং সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে অতিষ্ঠ হয়ে এলাকার ভূক্তভোগী জনগন পালং মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছে।

ইরানী মল্লিকের কার্যক্রমের বর্ণনা করতে গিয়ে স্থানীয় গফুর শেখ বলেন, ইরানী মল্লিক নিজ বাড়িতে পার্শ্ববর্তী মাদারীপুর থেকে যুবতী মেয়েদের এনে দেহ ব্যবসা করে। সে দীর্ঘ দিন যাবৎ এ অসামাজিক কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছে। বাঁধা দিলে তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে হুমকি দেয়। সে এমন কোন খারাপ কাজ নেই যে করে না। সে কোন চাকুরী করে না। কিন্তু এতো ধন সম্পদের মালিক কিভাবে হয়। সে সব সময় মানুষের মধ্যে দ্বন্দ্ব লাগিয়ে রাখে। কাউকে শান্তিতে থাকতে দেয় না। তার অত্যাচারে এলাকায় মান সম্মান নিয়ে বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় মোস্তফা শেখ, মনির শেখ এবং রূবেল সরদার বলেন, চাঁদাবাজি, নিয়োগ বাণিজ্য এবং অফিসে দালালী করাই হচ্ছে তার মূল পেশা। ইরানী মল্লিক রাজনৈতিক পরিচয়ের অন্তরালে চাঁদাবাজি করে বেড়ায়। যদি কেউ চাঁদা দিতে অপারগতা স্বীকার করেন তাহলে তাকে ইয়াবা দিয়ে ধরিয়ে দেয়াসহ মিথ্যা মামলায় জড়ানোর চেষ্টা করেন। কথায় কথায় তিনি বলেন, আমার মেয়ের জামাই র‌্যাবে চাকুরী করে।

সম্প্রতি সাবেক পুলিশ সুপার আবদুল মোমেন শরীয়তপুর জেলায় পুলিশের কনস্টেবল নিয়েগের ক্ষেত্রে কোন প্রকার দুর্ণীতি এবং অনিয়ম ছাড়াই শতভাগ স্বচ্ছতা বজায় রেখে নিয়োগ কার্য সম্পন্ন করেছেন। এদিকে ইরানী মল্লিক নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগেই একজনকে কনস্টেবলে চাকুরী দেয়ার কথা বলে ৭ লক্ষ টাকা নিয়েছেন। যদিও সেই কনস্টেবলের ঘুষ ছাড়াই নিজ যোগ্যতা বলে চাকুরী হয়েছে। কিন্তু মাঝ থেকে ইরানী মল্লিক ঐ কনস্টেবলকে চাকুরী চলে যাওয়ার ভয় দেখিয়ে ৭ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

জাকির শেখ এবং ইসমাইল শেখ বলেন, ইরানী মল্লিক এতোটাই খারাপ যে, কারো সাথে কোন কিছু ঘটলেই সে মেয়ে লোক দিয়ে ফাসানোর চেষ্টা করে। রাস্তায় মানুষদেরকে অপমান করতেও পিছ পা হয় না। দলীয় কোন পদ পদবী ছাড়াই ইরানী মল্লিক এতো অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে কোন খুঁটির জোড়ে তা ভেবে পাই না।

ইরানী মল্লিকের ব্যাপারে সরেজমিনে অনুসন্ধান করতে গিয়ে স্থানীয়দের সাথে আলাপ করে জানা যায়, ইরানী মল্লিকের স্বামীর বাড়ি হচ্ছে শরীয়তপুর সদর উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নে। তিনি ৭ বছর যাবৎ পশ্চিম কাশাভোগ গ্রামে জমি কিনে বাড়ি করে বসবাস করছেন। আর এখানে থেকেই বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামীলীগের নেত্রী হিসেবে পরিচয় দিয়ে যুবতী মেয়েদের দিয়ে দেহ ব্যবসা, চাঁদাবাজি, নিয়োগ বাণিজ্য এবং বিভিন্ন অফিসে দালালীর কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। অতি সম্প্রতি যুবতী মেয়েদের দিয়ে দেহ ব্যবসা করানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে পালং মডেল থানায় বেশ কয়েক বার সালিশ দরবার হয়েছে।

তিনি এলাকায় একটি সন্ত্রাসী বাহিনী তৈরী করেছেন। যা দিয়ে তিনি এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করেন। অতি সম্প্রতি তার এই সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে প্রতিবেশী ইদ্রিস শেখের বাড়িতে একটি সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করেন। সেই কার্যক্রমের অংশ হিসেবে প্রতিবেশী ইদ্রিস শেখকে দিয়েই আবার থানায় একটি অভিযোগ পত্র দাখিল করিয়েছেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অভিযোগ পত্রে যাদেরকে আসামী করা হয়েছে তারা এলাকার খুবই শান্ত প্রকৃতির মানুষ।

অভিযোগ পত্রের বিশ্লেষন এবং তদন্তকারী কর্মকর্তার বক্তব্য থেকে বুঝা যায়, পুরো ঘটনাটাই মিথ্যা এবং নাটক। মানুষকে হয়রানী করার জন্য এই সন্ত্রাসী কার্যক্রম এবং অভিযোগ পত্র দাখিল করা হয়েছে। আর এ সবের মূলে রয়েছে ইরানী মল্লিক। তার স্বার্থের পরিপন্থ কোন কাজ হলেই তিনি সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

এ ব্যাপারে ইরানী মল্লিকের সাথে আলাপ করতে গেলে তাকে এলাকায় পাওয়া যায়নি। পরে তার মোবাইলে কল দিলে মোবাইলটি বন্ধ পাওয়া যায়। যার প্রেক্ষিতে তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মহিলা আওয়ামীলীগের একজন দায়িত্বশীল নেত্রী বলেন, ইরানী মল্লিকের দলীয় কোন পদ নেই। সে আমার নাম বিক্রি করে অনেক অপকর্ম করে তা আমি শুনেছি এবং তার প্রমাণও পেয়েছি। অতি সম্প্রতি ডাঃ মনিরুল ইসলামকে একটি মিথ্যা অপবাদ দিয়ে ফাসানোর চেষ্টা করেছিল। কিন্তু তার সে চেষ্টা সফল হয়নি। যার কারণে আমি তাকে আমাদের দলীয় কার্যক্রমে আসতে নিষেধ করেছি।

শরীয়তপুর পৌরসভার প্যানেল মেয়র বাচ্চু বেপারী বলেন, দলীয় পরিচয় দিয়ে কেউ যদি অপকর্ম করে বেড়ায় এবং জনগনের শান্তি বিঘ্নিত করে তাহলে কোন ভাবেই তাকে ছাড় দেয়া হবে না। এটা এমপি সাহেবের নির্দেশ।

Total View: 1585

    আপনার মন্তব্য





সারাদেশ

কক্সবাজার

কিশোরগঞ্জ

কুড়িগ্রাম

কুমিল্লা

কুষ্টিয়া

খাগড়াছড়ি

খুলনা

গাইবান্ধা

গাজীপুর

গোপালগঞ্জ

চট্টগ্রাম

চাঁদপুর

চাঁপাইনবাবগঞ্জ

চুয়াডাঙা

জয়পুরহাট

জামালপুর

ঝালকাঠী

ঝিনাইদহ

টাঙ্গাইল

ঠাকুরগাঁও

ঢাকা

দিনাজপুর

নওগাঁ

নড়াইল

নরসিংদী

নাটোর

নারায়ণগঞ্জ

নীলফামারী

নেত্রকোনা

নোয়াখালী

পঞ্চগড়

পটুয়াখালি

পাবনা

পিরোজপুর

ফরিদপুর

ফেনী

বগুড়া

বরগুনা

বরিশাল

বাগেরহাট

বান্দরবান

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ভোলা

ময়মনসিংহ

মাগুরা

মাদারীপুর

মানিকগঞ্জ

মুন্সিগঞ্জ

মেহেরপুর

মৌলভীবাজার

যশোর

রংপুর

রাঙামাটি

রাজবাড়ী

রাজশাহী

লক্ষ্মীপুর

লালমনিরহাট

শরীয়তপুর

শেরপুর

সাতক্ষীরা

সিরাজগঞ্জ

সিলেট

সুনামগঞ্জ

হবিগঞ্জ

Flag Counter