বৃহস্পতিবার,  ২২শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ,  ৬ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,  রাত ৯:২১

সহকারী শিক্ষিকা রিনা বেগমের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ

সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৯ , ০১:২৯

স্টাফ রিপোর্টার
শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার ৩৬নং দক্ষিণ চরকুমারিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা রিনা বেগমের বিরুদ্ধে জালিয়াতি, তথ্য গোপন এবং সরকারী টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, রিনা বেগমের স্বামী এম.এ মালেক টিআইবি’র সদস্য পরিচয় দিয়ে কর্মকর্তাদের ভয়-ভীতি দেখাচ্ছেন এবং তাদের সাথে ঔধাত্যপূর্ণ আচরণ করছেন। যে সকল কর্মকর্তা তার এ অনৈতিক আচরণের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়ার চেষ্টা করছেন, তাদেরকেই তার স্বামীর মাধ্যমে বদলী করে দিবেন বা ঘুষের মামলায় জড়াবেন বলে হুমকি দিচ্ছেন। কোন সাংবাদিক তার কাছে বক্তব্য চাইতে গেলে তাদেরকে অশ্লিল ভাষায় গালিগালাজ করছেন।

এদিকে টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ইফতিখারুজ্জামান বলেন, আমি শতভাগ নিশ্চয়তা দিয়ে বলছি এম.এ মালেক নামে টিআইবি’র কোন সদস্য বা প্রতিনিধি নেই। আমি এর আগেও শুনেছি টিআইবি’র পরিচয় দিয়ে অনেক লোক এদেশের মানুষের সাথে প্রতারণা করেছে। মালেক সেই প্রতারকদেরই একজন। তাকে অবশ্যই আমরা আইনের আওতায় নিয়ে আসবো।

অপরদিকে একজন সহকারী শিক্ষিকা দীর্ঘ ৫ বছর বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকে পূণরায় স্বপদে কিভাবে বহাল হলেন এবং সরকারী টাকা কিভাবে আত্মসাৎ করলেন তা গভীর ভাবে খতিয়ে দেখার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার প্রতি দাবী জানিয়েছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান জুয়েল।
ভেদরগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, ৩৬নং দক্ষিণ চরকুমারিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা রিনা বেগম ১৯৯৬ সালের ২রা জানুয়ারী কমিউনিটি শিক্ষক হিসেবে ১০৮নং লক্ষ্মী নারায়ণ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। এই যোগদানের ক্ষেত্রে সে বড় ধরণের জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন। পরবর্তীতে তিনি ১৯৯৭ সালে বদলী হয়ে ৩৬নং দক্ষিণ চরকুমারিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চলে আসেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সহকারী শিক্ষিকা রিনা বেগমের বাড়ি শরীয়তপুর জেলার গোসাইরহাট উপজেলায়। তিনি ভেদরগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা দেখিয়ে চাকরীতে যোগদান করেছেন। সরকারী বিধি মোতাবেক কমিউনিটি শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে চাকরী প্রার্থীদের বাড়ি যে এলাকায়, তারা ঠিক সেই এলাকায় অবস্থিত বিদ্যালয়ের শুণ্যপদ পূরণের জন্য শিক্ষক হিসেবে আবেদন করবেন। এক এলাকার লোক অন্য এলাকার শূণ্য কোঠা পূরণ দেখিয়ে আবেদন করতে পারবেন না। শুধু তাই নয়, এক উপজেলার বাসিন্দা অন্য উপজেলার বাসিন্দা হয়ে চাকরী নিতে পারবেন না। কিন্তু সহকারী শিক্ষক রিনা বেগম গোসাইরহাট উপজেলার বাসিন্দা হয়ে তথ্য গোপন করে ভেদরগঞ্জ উপজেলায় চাকরী নিয়েছেন। এ ব্যাপারটি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাসহ নিয়োগ বোর্ডের কেন নজরে এলো না তা জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

সহকারী শিক্ষক রিনা বেগম ১৯৯৬ সালের চাকরীতে যোগদানের পর বেশীর ভাগ সময়েই তিনি বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকতেন। তারই ধারাবাহিকতায় তিনি ২০০৮ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত তিনি বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ছিলেন। বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকাকালীন ২০১৩ সালে যখন সরকার কমিউনিটি শিক্ষকদেরকে জাতীয়করণ করেন তখন তিনি পূণরায় বিদ্যালয়ে যোগদানের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠেন। তখন উপায়ান্ত না দেখে তার কথিত স্বামী এম.এ মালেককে ব্যবহার করেন। তার কথিত স্বামী মালেককে দিয়ে তৎকালীন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে বিভিন্ন ধরণের ভয়-ভীতি দেখাতে শুরু করেন। এক পর্যায়ে তাকে পূণরায় বিদ্যালয়ে যোগদানের অনুমতি দিতে বাধ্য হন।

চাকরীতে যোগদানের পর ২০০৮ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ৫ বছর তিনি যে অনুপস্থিত ছিলেন তার বৈধতা দেখিয়ে উক্ত ৫ বছরের এরিয়া বিলের জন্য উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে চাপ সৃষ্টি করেন। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা তাকে ৫ বছরের এরিয়া বিল দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তখন সহকারী শিক্ষিকা রিনা বেগমের কথিত স্বামী এম.এ মালেক উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে টিআইবি’র পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন ধরণের ভয়-ভীতি দেখিয়ে চাপ সৃষ্টি করছেন এবং মোটা অংকের চাঁদা দাবী করছেন। এদিকে রিনা বেগম তার কথিত স্বামীর মাধ্যমে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে চাপ দিয়ে ৫ বছরের এরিয়া বিলের কিছু অংশ তুলে নিয়ে আত্মসাৎ করেছেন। বাকী অংশ আত্মসাতের পায়তারা করছেন। এই সংবাদের ভিত্তিতে দুইজন সাংবাদিক ৩৬নং দক্ষিণ চরকুমারিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা রিনা বেগমের কাছে বক্তব্য চাইলে তিনি সাংবাদিকদের সাথে ঔধত্যপূর্ণ আচরণ করেন এবং মোবাইলের মাধ্যমে তার কথিত স্বামী এম.এ মালেককে ধরিয়ে দেন। মোবাইলে এম.এ মালেক বলেন, আমি টিআইবি’র সদস্য। আমার স্ত্রীর বিরুদ্ধে যদি আপনি নিউজ করেন তাহলে টিআইবি’র চেয়ারম্যান ইফতিখারুজ্জামানকে দিয়ে আপনার পত্রিকার রেজিষ্ট্রেশন বাদ করে দেবো।

এ ব্যাপারে টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ইফতিখারুজ্জামান এর সাথে মুঠোফোনে আলাপকালে তিনি বলেন, আমি শতভাগ নিশ্চয়তা দিয়ে বলছি এম.এ মালেক নামে টিআইবি’র কোন সদস্য বা প্রতিনিধি নেই। আমি এর আগেও শুনেছি টিআইবি’র পরিচয় দিয়ে অনেক লোক এদেশের মানুষের সাথে প্রতারণা করেছে। মালেক সেই প্রতারকদেরই একজন। আপনারা আমাকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করুন। যারা টিআইবি’র নাম ব্যবহার করে প্রতারণা করছে অবশ্যই আমরা এইসব প্রতারকদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসবো।

এ ব্যাপারে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, রিনা বেগমের ব্যাপারে যাতে কোন তদন্ত না করা হয় সে জন্য টিআইবি’র সদস্য দাবী করে তার স্বামী এম.এ মালেক বার বার ফোন করে বিরক্ত করছেন। আমাকে বিভিন্ন ধরণের ভয়-ভীতি দেখাচ্ছেন।

Total View: 206

    আপনার মন্তব্য





সারাদেশ

কক্সবাজার

কিশোরগঞ্জ

কুড়িগ্রাম

কুমিল্লা

কুষ্টিয়া

খাগড়াছড়ি

খুলনা

গাইবান্ধা

গাজীপুর

গোপালগঞ্জ

চট্টগ্রাম

চাঁদপুর

চাঁপাইনবাবগঞ্জ

চুয়াডাঙা

জয়পুরহাট

জামালপুর

ঝালকাঠী

ঝিনাইদহ

টাঙ্গাইল

ঠাকুরগাঁও

ঢাকা

দিনাজপুর

নওগাঁ

নড়াইল

নরসিংদী

নাটোর

নারায়ণগঞ্জ

নীলফামারী

নেত্রকোনা

নোয়াখালী

পঞ্চগড়

পটুয়াখালি

পাবনা

পিরোজপুর

ফরিদপুর

ফেনী

বগুড়া

বরগুনা

বরিশাল

বাগেরহাট

বান্দরবান

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ভোলা

ময়মনসিংহ

মাগুরা

মাদারীপুর

মানিকগঞ্জ

মুন্সিগঞ্জ

মেহেরপুর

মৌলভীবাজার

যশোর

রংপুর

রাঙামাটি

রাজবাড়ী

রাজশাহী

লক্ষ্মীপুর

লালমনিরহাট

শরীয়তপুর

শেরপুর

সাতক্ষীরা

সিরাজগঞ্জ

সিলেট

সুনামগঞ্জ

হবিগঞ্জ

Flag Counter