শুক্রবার,  ২৩শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ,  ১০ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ,  দুপুর ২:২৩

সাতক্ষীরার ৩৯ ব্যক্তির অর্থের উৎস খোঁজে বাংলাদেশ ব্যাংক

সেপ্টেম্বর ৪, ২০১৮ , ১৪:৩৫


স্টাফ রিপোর্টার
অস্বাভাবিক লেনদেনে সাতক্ষীরার ৩৯ জন ব্যবসায়ীর ব্যাংক একাউন্ট তদন্ত করতে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকের উচ্চ পর্যায়ের তিন সদস্যের একটি তদন্ত টিম ৩ সেপ্টেম্বর, সোমবার সাতক্ষীরায় পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে।

তিন সদস্যের ওই তদন্ত টিমে রয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের উপ-পরিচালক গাজী মনিরুদ্দীন, বাংলাদেশ ব্যাংকের উপ-পরিচালক সালেহ উদ্দীন ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ড. এম ডি বাশিরুল আলম।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যাংক কর্মকর্তা জানান, তদন্ত টিম আসার আগেই গত সপ্তাহে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সাতক্ষীরার বিভিন্ন ব্যাংকে পাঠানো তালিকাভূক্ত ৩৯ ব্যবসায়ীর লেনদেনের পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব চাওয়া হয়েছে। এরপর থেকেই সাতক্ষীরায় ব্যবসায়ী ও ব্যাংকগুলোতে তোলপাড় শুরু হয়।

হিসাব তলব করা ব্যবসায়ীর মধ্যে সাতক্ষীরা শহরসহ জেলার বিভিন্ন এলাকার জুয়েলার্স মালিক, ভোমরার একাধিক সিএন্ডএফ ব্যবসায়ী, কয়েকজন গরু ব্যবসায়ী, কয়েকজন (বর্তমান ও সাবেক) ইউনিয়ন চেয়ারম্যান, একজন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও একজন জেলা পরিষদ সদস্য রয়েছেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, যে ৩৯ জনের ব্যাংক একাউন্ট নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে, তাদের অনেকেই রাতারাতি আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়েছেন। কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। অল্প দিনেই বিলাশবহুল গাড়ি ও বাড়ির মালিক হয়েছেন। ভারতেও এদের অনেকের রয়েছে বাড়ি-গাড়ি, অঢেল সম্পদ। অথচ ৫ থেকে ১০ বছর আগেও এদের সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরাতো।

সরকারের একাধিক গোয়েন্দা বিভাগও ওই সব ব্যবসায়ীর টাকার উৎস খুঁজতে অনুসন্ধান শুরু করেছে বলে জানা গেছে।

ব্যাংক সূত্র থেকে জানা যায়, সাতক্ষীরার যেসব ব্যবসায়ীর একাউন্ট তদন্ত শুরু হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন জেলা শহরের খান মার্কেটের অংকন জুয়েলার্সের স্বত্বাধিকারী গৌর দত্ত, অমিত জুয়েলার্সের স্বত্বাধিকারী জয়দেব দত্ত, তালার কুমিরার আদিত্য মজুমদার, ব্রাদার্স জুয়েলার্সের স্বত্বাধিকারী আশুতোষ দে, আলিপুরের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ, জনপ্রিয় জুয়েলার্সের স্বত্বাধিকারী সুমন কর্মকার ও বাবু কর্মকার, শ্যামনগরের নকীপুরের বিশ্বজিৎ মন্ডল, সাতক্ষীরা সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান গোলাম মোর্শেদ, শ্রী জুয়েলার্সের স্বত্বাধিকারী দীন বন্ধু মিত্র, ঝাউডাঙ্গার এম ভি জুয়েলার্সের স্বত্বাধিকারী মুকুন্দ ভারতী।

এই তালিকায় রয়েছেন ঝাউডাঙ্গার সাগর জুয়েলার্সের স্বত্বাধিকারী রবিন্দ্র নাথ দে, আশাশুনির নিউ দে জুয়েলার্সের স্বত্বাধিকারী দেব কুমার দে, কলারোয়ার সন্ধ্যা জুয়েলার্সের স্বত্বাধিকারী হরেন্দ্র নাথ রায়, আধুনিক জুয়েলার্সের গোপাল চন্দ্র দে, তালার দীপা জুয়েলার্সের গনেশ চন্দ্র শীল, তালার নিউ জুয়েলার্সের বাসুদেব দত্ত, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বৈকারীর মো. রাশেদুল ইসলাম, পদ্মশাখরার মো. লিয়াকত হোসেন, ঘোনার মো. হাবিবুর রহমান, কলারোয়ার বলিয়ানপুরের জালালউদ্দিন গাজী, কলারোয়ার চন্দ্রনপুরের গরু ব্যবসায়ী নাসির, একই উপজেলার কাকডাঙ্গার গরু ব্যবসায়ী ইয়ার আলী মেম্বর, ভোমরা সিএন্ডএফ এজেন্ট এ্যাসোশিয়েশনের সভাপতি কাজী নওশাদ দিলওয়ার রাজু, সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ সদস্য আল ফেরদৌস আলফা, বৈকারীর ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান অসলে, ভোমরার ইউপি চেয়ারম্যান ইসরাইল গাজী, কলারোয়ার সোনাবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম।

এই তালিকায় আরও রয়েছেন সাতক্ষীরা জেলা শহরের রয়েল স্যানিটারির স্বত্বাধিকারী মো. নজরুল ইসলাম, ভোমরার এ এস ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী আজিজুল ইসলাম, বাঁকালের ফিরোজ ইন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী ফিরোজ হোসেন, বাঁকালের কে হাসান ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী খালিদ কামাল, ভোমরার মামা-ভাগ্নে ভান্ডারের আজহারুল ইসলাম, মেসার্স কাজী ইন্টারপ্রাইজের কাজী নওশাদ দিলওয়ার রাজু, মেসার্স সুলতান ইন্টারপ্রাইজের ইসরাইল গাজী, মেসার্স সাব্বির ইন্টারপ্রাইজের শাহানুর ইসলাম শাহিন, মেসার্স নাজিম ইন্টারপ্রাইজের গোলাম ফারুক বাবু (দেবহাটার পারুলিয়ার সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান), মেসার্স রিজু এন্টারপ্রাইজের আবু মুসা এবং মেসার্স রোহিত ট্রেডার্সের রাম প্রসাদ।

ওই ৩৯ ব্যক্তির বিভিন্ন ব্যাংকের একাউন্টে লেনদেন অস্বাভাবিক এবং সন্দেহজনক বলে সূত্র জানিয়েছে।

সূত্র আরও জানায়, এসব একাউন্টে কি ধরনের লেনদেন হয়েছে। এসব টাকা কোথা থেকে একাউন্টে জমা হয়েছে। কি পরিমাণ টাকা লেনদেন হয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তালিকাভূক্তদের বিরুদ্ধে ভারতে হুন্ডির টাকা পাচারের অভিযোগও রয়েছে।

নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত টিম প্রথম দিন ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড সাতক্ষীরা শাখায় তদন্ত শুরু করেছেন। তালিকার মধ্যে অন্তত ১০ জন ব্যবসায়ীর ব্যাংক একাউন্ট রয়েছে ইসলামী ব্যাংকের এই শাখায়। বাকিদের একাউন্ট অন্যান্য ব্যাংকে রয়েছে।

প্রসঙ্গত সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে একটি দৈনিকে হুণ্ডির টাকা পাচারকারীদের একটি তালিকা সম্বলিত সংবাদ প্রকাশ হয়। প্রকাশিত সংবাদে উপরে উল্লেখিত সাতক্ষীরার ওই ৩৯ জন ব্যবসায়ীর নাম উল্লেখ ছিল।

Total View: 985

    আপনার মন্তব্য





সারাদেশ

কক্সবাজার

কিশোরগঞ্জ

কুড়িগ্রাম

কুমিল্লা

কুষ্টিয়া

খাগড়াছড়ি

খুলনা

গাইবান্ধা

গাজীপুর

গোপালগঞ্জ

চট্টগ্রাম

চাঁদপুর

চাঁপাইনবাবগঞ্জ

চুয়াডাঙা

জয়পুরহাট

জামালপুর

ঝালকাঠী

ঝিনাইদহ

টাঙ্গাইল

ঠাকুরগাঁও

ঢাকা

দিনাজপুর

নওগাঁ

নড়াইল

নরসিংদী

নাটোর

নারায়ণগঞ্জ

নীলফামারী

নেত্রকোনা

নোয়াখালী

পঞ্চগড়

পটুয়াখালি

পাবনা

পিরোজপুর

ফরিদপুর

ফেনী

বগুড়া

বরগুনা

বরিশাল

বাগেরহাট

বান্দরবান

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ভোলা

ময়মনসিংহ

মাগুরা

মাদারীপুর

মানিকগঞ্জ

মুন্সিগঞ্জ

মেহেরপুর

মৌলভীবাজার

যশোর

রংপুর

রাঙামাটি

রাজবাড়ী

রাজশাহী

লক্ষ্মীপুর

লালমনিরহাট

শরীয়তপুর

শেরপুর

সাতক্ষীরা

সিরাজগঞ্জ

সিলেট

সুনামগঞ্জ

হবিগঞ্জ

Flag Counter