মঙ্গলবার,  ২৪শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ,  ৯ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,  রাত ৩:২৪

সৌদি ফেরত নারীরা, নির্বাক-বিপর্যস্ত

জানুয়ারি ২৫, ২০১৯ , ১০:১১

স্টাফ রিপোর্টার
হালিমা আকতার শারিরীক ও মানসিকভাবে এতটাই আঘাত পেয়েছেন যে যখন হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামেন তিনি হাঁটতেই পারছিলেন না। তাকে নেয়ার জন্য কোনো আত্মীয়ও যাননি সেখানে।

সৌদি আরব থেকে ফিরে আসা ৮১ নারীর মধ্যে হালিমা একজন। তারা সবাই সেখানে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতেন এবং বিভিন্ন শারিরীক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

ফেরত আসাদের মধ্যে ২০ বছরের কম বয়সের তিন নারী শ্রমিক এতোটাই দুর্বল যে তাদেরকে দ্রুত কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) রেফার করে

বিমানবন্দরে প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের সহকারী পরিচালক তানভীর হোসেন বলেন, ‘৮১ জনের মধ্যে তিনজনকে আমরা শারিরীক ও মানসিকভাবে অত্যন্ত বিপর্যস্ত অবস্থায় পেয়েছি। একজন নারী শ্রমিক এতোটাই দুর্বল যে তিনি একটি কথাও বলতে পারছিলেন না।’

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের সমন্বয়ক ডা. বিলকিস বেগম সোমবার বিকেলে বলেন, তিনজনের একজন শুধু বলতে পেরেছেন তিনি রিয়াদ থেকে ফিরেছেন। অন্য দুজন কোনো কথাই বলতে পারেননি। তাদের চিকিৎসা চলছে।

তবে তারা কথা না বলা পর্যন্ত ঠিকমতো পরীক্ষা-নিরীক্ষাও করা যাচ্ছে না বলে জানান বিলকিস বেগম।

তিনজনের একজন হালিমার বাবা ইউনুস আলী সুনামগঞ্জ থেকে টেলিফোনে জানান, তার মেয়ে এক বছর আগে সৌদি আরব গিয়েছিলেন। এই সময়ের মধ্যে তিনবার তাকে কাজ পাল্টাতে হয়।

ইউনুস আলী বলেন, ‘তিন-চার মাস আগে সে যখন আমার সাথে কথা বলে তখন জানিয়েছিল সে বিপদে আছে। তার নিয়োগকর্তা তাকে নিপীড়ন করে। আমি জানি না কী ধরনের নিপীড়ন…।’

ইউনুস আলী পেশায় দিনমজুর। তার চার মেয়ে আছে। হালিমা তাদের মধ্যে বড়।

ইউনুস বলেন, ‘হালিমা যখন সৌদি আরব যায় তখন তার বয়স ছিল ১৮ বছর। আমি দালাল রাজুকে বলেছিলাম হালিমা তো খুব ছোট, কিন্তু সে বলে এটা কোনো সমস্যা না।’

তবে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নিয়ম অনুযায়ী ২৫ বছরের নিচের কেউ কাজের জন্য বিদেশে যেতে পারবে না।

কাগজপত্র মতে, অন্য দুজনের মধ্যে ফাতেমা আক্তারের বাড়ি হবিগঞ্জ এবং আদুরী খাতুনের বাড়ি নারায়ণগঞ্জ।

তবে বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্র্রামের প্রধান শরিফুল হাসান জানিয়েছেন, ‘পাসপোর্টে নারায়ণগঞ্জ বলা হলেও তার আসল বাড়ি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে। তিন মাস ধরে পরিবারের সাথে তার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। পরিবার জানিয়েছে, শরিয়তপুরের এক দালাল এবং পরে ঢাকার এক দালালের মাধ্যমে তাকে বিদেশে পাঠানো হয়। এক্ষেত্রে সব কাগজপত্র জাল করা হয়ছে।’

ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে হাসান বলেন, ‘আমরা পরিবারটির (আদুরী) সাথে যোগাযোগ করেছি। তারা আজ রাতে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেবে।’

বিআরএসি মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের মতে, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রায় দেড় হাজার নারী গত বছর সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরেছেন।

ব্যুরোর এক কর্মকর্তার আরও জানান যে প্রবাসী পুরুষ শ্রমিকদেরও অভিযোগ রয়েছে। তাদের অভিযোগ, রেসিডেন্সি পারমিট থাকা সত্ত্বেও সৌদি পুলিশ তাদেরকে আটক করে এবং দেশে ফেরত পাঠায়।

Total View: 419

    আপনার মন্তব্য





সারাদেশ

কক্সবাজার

কিশোরগঞ্জ

কুড়িগ্রাম

কুমিল্লা

কুষ্টিয়া

খাগড়াছড়ি

খুলনা

গাইবান্ধা

গাজীপুর

গোপালগঞ্জ

চট্টগ্রাম

চাঁদপুর

চাঁপাইনবাবগঞ্জ

চুয়াডাঙা

জয়পুরহাট

জামালপুর

ঝালকাঠী

ঝিনাইদহ

টাঙ্গাইল

ঠাকুরগাঁও

ঢাকা

দিনাজপুর

নওগাঁ

নড়াইল

নরসিংদী

নাটোর

নারায়ণগঞ্জ

নীলফামারী

নেত্রকোনা

নোয়াখালী

পঞ্চগড়

পটুয়াখালি

পাবনা

পিরোজপুর

ফরিদপুর

ফেনী

বগুড়া

বরগুনা

বরিশাল

বাগেরহাট

বান্দরবান

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ভোলা

ময়মনসিংহ

মাগুরা

মাদারীপুর

মানিকগঞ্জ

মুন্সিগঞ্জ

মেহেরপুর

মৌলভীবাজার

যশোর

রংপুর

রাঙামাটি

রাজবাড়ী

রাজশাহী

লক্ষ্মীপুর

লালমনিরহাট

শরীয়তপুর

শেরপুর

সাতক্ষীরা

সিরাজগঞ্জ

সিলেট

সুনামগঞ্জ

হবিগঞ্জ

Flag Counter