শুক্রবার,  ৩রা জুলাই, ২০২০ ইং,  ১৯শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,  রাত ৪:৩৭

স্মৃতিতে ভোজেশ্বরের সেকাল এবং একাল পর্ব-১

জুন ২৮, ২০২০ , ০৮:০৮

আবদুস সোবহান
কৈশোরের সেইসব দিনগুলো সবাইকে আপ্লুত করে; আমিও এর ব্যতিক্রম নই। ছোটবেলার সেই সোনালী আনন্দময় দিনগুলোকে এখন ভীষন মিস করি। আহ্! কতোই না রোমাঞ্চকর ছিল সেই সব দিনগুলো!

আমরা, যারা ভোজেশ্বর বাজারে বসবাস করতাম, তাদের বাড়ী গুলোকে বলা হতো বাসা; বিপরীতে পার্শ্ববর্তী গ্রামীণ লোকালয়ের বাসস্থান গুলো পরিচিত হতো বাড়ী হিসেবে। বাসা নামকরণের কারণও অনেকটা যৌক্তিক, সামনে দোকান; পিছনে ছোট্ট আবাসন। ভিতরে প্রবেশের জন্য একটা সরু পথ। এতো সরু যে, একসাথে দু’জন পাশাপাশি চলতে পাওে না। প্রবেশপথে টানানো থাকত পর্দা; যেন বাজারের গলি থেকে পথচারীরা ভিতরের কাউকে দেখতে না পায়। নারীগণেরা দিনের বেলা বাসা থেকে বের হতেন না। কোন আত্মীয়স্বজনের বাসায় বেড়াতে গেলে মহিলারা রাতকেই বেছে নিতেন। অনেকটা খাঁচায় বন্দি জীবন, আর কি!

তখন বাজার কেন্দ্রিক বসবাসকারী পরিবারের সংখ্যা ছিল হাতে গোনা কয়েকটি। এর মধ্যে নদীর পাড়ে কাঠ পট্টিতে ছিল হুমায়ুনদের বাসা। ওঁর বাবা ছিল চেয়ারম্যান। বড় সজ্জন ব্যাক্তি ছিলেন তিনি। নড়িয়ার সার্কেল অফিসার (উন্নয়ন) হুমায়ুনদের বাসায় থেকে নিয়মিত নড়িয়ায় অফিস করতেন। তখনও নড়িয়ায় সরকারী বাসা তেমন তৈরী হয়নি।

খলিফা পট্টি মসজিদের পাশে ছিল সহপাঠী রশিদ দেওয়ান ও আমার ছোটভাই শাহজাহানের সহপাঠী করিম দেওয়ানদের বাসা। ওদের বাবা ছিলেন একজন স্বনামধন্য চক্ষু চিকিৎসক। আশে পাশে কোন এলাকায় অন্য কোন চক্ষু চিকিৎসক না থাকায় বহু দুর দুরান্ত হতে রোগীরা এসে তাঁর কাছে চিকিৎসা নিতেন। তাঁর তেমন কোন চাহিদা ছিল না; রোগীরা খুশী হয়ে দক্ষিনা যাই দিতেন হৃষ্ট চিত্তে তাই নিতেন। তাঁর সদা হাস্যময় চেহারাটা এখনও মানসপটে ভেসে উঠে।

পরবর্তীতে রশিদ দেওয়ানরা ধানাপট্টিতে বাসা স্থানান্তর করে। ওঁদের পুরো পরিবার আওয়ামী লীগকে সমর্থন করায় মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকবাহিনী পুরো বাড়ী পুড়িয়ে দেয়।

ঈদের দিনে বড় মসজিদে ঈদের নামাজ পড়ে সহপাঠী বন্ধুরা মিলে রশিদদের বাসায় প্রথম সেমাই পোলাও খেয়ে বাসায় ফিরতাম।

উত্তর মাথায় শাহজাহান চোকদার ভাইদের টিনের ঘরের ভাড়াটে বাসা; সম্ভবতঃ এটা বর্তমানে একটি বিল্ডিং এবং ফার্মেসী। পরে শাহজাহান ভাইয়েরা কেশব দে, হরমোহন দে’র বাড়ী কিনে ওই বাড়ীতে চলে যায়। শাহজাহান ভাইয়ের বাবা ছিলেন ভোজেশ্বরের একজন বড় ব্যবসায়ী।

বর্তমান দুধ বাজারের পুর্বপাশে খুশী ঘোষদের ঘি, মাঠা, ঘিরসা ইত্যাদির দোকান ছিল, পিছনে তাঁদের বাসা। সম্ভবতঃ এটা এখন একটা ব্যাংকের অফিস। সময়ের সাথে কত পরিবর্তন। তার বাবা হরি ঘোষ বড়ই সদালাপী এবং ভাল মানুষ ছিলেন। আমরা দোকানে গেলে ফ্রি খিরা খাওয়াতেন। মনে হয়, সেই স্বাদ এখনও জিভে লেগে আছে।

ভেজালহীন ঘি, ছানা, দধি খেয়ে খেয়ে এই ঘরের সত্যদাসহ প্রত্যেক সন্তান ছিল অত্যন্ত মেধাবী। এই ঘরের দ্বিতীয় সন্তান সত্যরঞ্জন ঘোষ যাকে আমরা সত্যদা হিসেবেই জানতাম; ছিলেন প্রখর মেধাবী; ক্লাশে মোটামুটি বরাবরই হতেন প্রথম। তবে, প্রথম স্থান ধরে রাখার জন্য প্রচন্ড রকমের প্রতিযোগীতা হতো চান্দনীর এ্যডভোকেট নুরুল ইসলাম ভাইয়ের সাথে। কখনও সত্যদা, কখনো নুরুল ইসলাম ভাই, এই ইদুর বিড়াল খেলা হতো দুজনের মধ্যে। এই কনটেষ্টে আরো থাকতেন নর কলিকাতার প্রয়াত ফ্লাইট ল্যাফটেন্যান্ট শাহাবুদ্দিন ভাই, ব্যাংকার গিয়াস সিকদার ভাই, কলকাতা প্রবাসী বিজয় দা ও নসাশনের ব্যাংকার জয়নাল হাওলাদার ভাই।

এলাকায় রাস্তাঘাট তেমন ছিলনা বললেই চলে; কাঁচা রাস্তা যা ছিল তা অনেকটা মেঠো-পায়ে চলার পথ। বর্ষায় চলাচল করা ছিল কষ্টসাধ্য। পড়াশুনার সুবিধার্থে শাহাবুদ্দিন ভাই, গিয়াস ভাই তাঁদের গ্রামের বাড়ী হতে ভোজেশ্বর এসে প্রয়াত শিবু ডাক্তারের বিনাপানি ফার্মেসীর পিছেনে একটি রুমে থাকতেন। ওনারা ছিলেন উপসী স্কুলের ১৯৬৭ ব্যাচ।

তখনকার দিনে সকল ছাত্ররাই উচ্চস্বরে পড়ত। উচ্চস্বরে না পড়লে নাকি কারো মুখস্ত হতো না। সন্ধ্যার পরে বাজারে কোন ছাত্র বের হতো না। কারণ অভিভাবকদের ছিল কড়া শাসন।
চলবে

লেখকঃ আবদুস সোবহান মাতবর, তিনি শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলার ভোজেশ্বরের সন্তান। তিনি দীর্ঘদিন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনে উপ মহাব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি অবসর জীবন যাপন করছেন। তার দুই কন্যা ও এক পুত্র সন্তান রয়েছে।
তার পুত্র ডাঃ নাফিজ ইমতিয়াজ একজন দন্ত বিশেষজ্ঞ এবং এক কন্যা ডাঃ নিশাত তামান্না কনক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মেডিকেল অফিসার হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। অপর কন্যা ঢাবির আইন স্নাতকোত্তর নিয়াজ তামান্না লন্ডন প্রবাসী।

Total View: 377

    আপনার মন্তব্য





সারাদেশ

কক্সবাজার

কিশোরগঞ্জ

কুড়িগ্রাম

কুমিল্লা

কুষ্টিয়া

খাগড়াছড়ি

খুলনা

গাইবান্ধা

গাজীপুর

গোপালগঞ্জ

চট্টগ্রাম

চাঁদপুর

চাঁপাইনবাবগঞ্জ

চুয়াডাঙা

জয়পুরহাট

জামালপুর

ঝালকাঠী

ঝিনাইদহ

টাঙ্গাইল

ঠাকুরগাঁও

ঢাকা

দিনাজপুর

নওগাঁ

নড়াইল

নরসিংদী

নাটোর

নারায়ণগঞ্জ

নীলফামারী

নেত্রকোনা

নোয়াখালী

পঞ্চগড়

পটুয়াখালি

পাবনা

পিরোজপুর

ফরিদপুর

ফেনী

বগুড়া

বরগুনা

বরিশাল

বাগেরহাট

বান্দরবান

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ভোলা

ময়মনসিংহ

মাগুরা

মাদারীপুর

মানিকগঞ্জ

মুন্সিগঞ্জ

মেহেরপুর

মৌলভীবাজার

যশোর

রংপুর

রাঙামাটি

রাজবাড়ী

রাজশাহী

লক্ষ্মীপুর

লালমনিরহাট

শরীয়তপুর

শেরপুর

সাতক্ষীরা

সিরাজগঞ্জ

সিলেট

সুনামগঞ্জ

হবিগঞ্জ

Flag Counter