শুক্রবার,  ৩রা জুলাই, ২০২০ ইং,  ১৯শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,  রাত ১২:৫৭

স্মৃতিতে ভোজেশ্বরের সেকাল এবং একাল, পর্ব-৩

জুন ৩০, ২০২০ , ১৭:১৮

আবদুস সোবহান
১৯৭৮ সালের আগ পর্যন্ত শরীয়তপুর অঞ্চল মহকুমা কিংবা জেলায় পরিণত হয়নি।
১৯৭৮ সালে প্রশাসনিক সুবিধার্থে মাদারীপুর মহকুমাকে দু’ভাগ করে পুর্ব মাদারীপুরের বিস্তীর্ন অঞ্চল নিয়ে গড়ে তোলা হয় নতুন মহকুমা শরীয়তপুর। শিবচরের আধ্যাত্ত্বিক পুরুষ ফারায়েজী আন্দোলনের পথিকৃৎ হাজী শরীয়তউল্লাহর নামানুসারে নতুন মহকুমার নামকরণ করা হয় শরীয়তপুর।

সম্ভবতঃ ১৯৭৬ সালের দিকে সরকার বাহাদুর মাদারীপুরকে ভেঙ্গে দুর্গম পুর্বাঞ্চলের ৫টি থানা যথাক্রমে নড়িয়া, পালং, ভেদেরগঞ্জ, গোসাইরহাট ও ডামুড্যা নিয়ে একটি নতুন মহকুমা গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। জাজিরা থানাকে তখনও প্রস্তাবিত নতুন মহকুমায় সম্পৃক্ত করা হয়নি।

মহকুমা সদর দফতর কোথায় হবে তা নির্ধারণের জন্য মন্ত্রণালয় হতে একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে ছিলেন সংস্থাপন মন্ত্রণালয় কর্তৃক গঠিত যুন্মসচিব পদমর্যাদার পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তা মোঃ আবদুর রহিম, তৎকালীন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক এ.এম.এম মুয়ীদ সহ উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ। রহিম চাকুরী জীবনে পালংয়ে চাকুরী করে গেছেন বিধায় পালংয়ের প্রতি তাঁর কিছুটা দুর্বলতা ছিল।

মহকুমার সদর দফতর কোথায় হবে, এই প্রশ্ন নিয়ে পুর্ব মাদারীপুরের জনগন ও নেতৃত্বের মধ্যে এ নিয়ে শুরু হয়ে গেল বাদানুবাদ, যুক্তিতর্ক। সকলেরই ইচ্ছে স্ব স্ব এলাকায় মহকুমার সদর দফতর প্রতিষ্ঠা করতে। সকলেই যার যার অবস্থানের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। তবে, পাঁচটি স্থানের মধ্যেই মুলতঃ এই প্রতিযোগীতা চলতে থাকে। জায়গাগুলো হল–
১. ভোজেশ্বর ২. নড়িয়া ৩. পালং ৪. মহিশার ও ৫. ডামুড্যা

ভোজেশ্বরের পক্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রাক্তন পার্লামেণ্ট সদস্য ডাঃ আবুল কাশেম। মন্ত্রনালয়ের সাইট সিলেকশন কমিটির কর্মকর্তাগণ মহকুমার দপ্তর সাইট সিলেকসন কমিটি প্রস্তাবিত স্থানসমুহ পরিদর্শনে আসবেন। ভোজেশ্বরের আসার দিন তারিখ ধার্য্য হল।

ডাঃ আবুল কাশেম বন্দরের সকল ব্যবসায়ী ও ছাত্র জনতাকে তাঁর চেম্বারে ডেকে নিয়ে আগত কমিটিকে উষ্ণ অভিনন্দন ও সংবর্ধনা জানাতে অনুরোধ করলেন। তখন অত্র এলাকায় গাড়ী চলার মত এক ইঞ্চিও পাকা রাস্তাঘাট ছিলনা; তাই কমিটির লোকজন লঞ্চযোগে পালং হয়ে ভোজেশ্বর পরিদর্শনে আসবেন।

তিনি আমাদের যুব সমাজকে নদীর পাড়ে একটি সুদৃশ্য গেট সাজাতে নির্দেশ দিয়ে কিছু অর্থ দিলেন। যেখানটায় পাকা রাস্তার সিড়িটা নদীতে গিয়ে মিশেছে, সেখানটায় একটা সুউচ্চ দৃষ্টিনন্দন গেট সাজানো হয়েছিল। গেট প্রস্ততের সাথে এলাকার ছাত্র জনতা সকলের অংশগ্রহণ ছিল স্বতঃস্ফুর্ত। তখন কোন ডেকোরেটর ছিল না। তাই কয়েক দিনের আপ্রান চেষ্টায় গেটটি নির্মিত হয়ে যায়।

এখন ভোজেশ্বরবাসীর সেই মাহেন্দ্র ক্ষণের অপেক্ষা। সাইট সিলেকশন কমিটির সদস্যগণ আসবেন, প্রস্তাবিত সকল স্থান পরিদর্শন করবেন। যে স্থান মহকুমার সদর দফতরের জন্য উপযুক্ত মনে করবেন – সে স্থানটিকে সরকার বাহাদুরের কাছে সুপারিশ করবেন।

নির্দিষ্ট দিনে হাজার হাজার ভোজেশ্বরবাসী নদীর পাড়ে জমায়েত হল। দাবী সম্বলিত নানা শ্লোগানে প্রকম্পিত কীর্তিনাশার পাড়। সে এক অভাবনীয় দৃশ্য। একটা দাবীতে সকল মানুষ একতা বদ্ধ।
দাবী একটাই — “ভোজেশ্বরে মহকুমা চাই। ভোজেশ্বরে মহকুমার বিকল্প নাই।”

পালং এলাকা পরিদর্শন শেষে ওঁনারা ভোজেশ্বরে আসবেন। শত শত চোখ দক্ষিন দিকে। কখন এসে যায়। হঠাৎ দুরে দেখা গেল ধুম্র উদগীরনকৃত লঞ্চের সুউচ্চ চিমনি। সাথে সাথে কমিটির প্রতি জয়ধ্বনি দিয়ে হাজারো জনতার গগনবিদারী মুহুর্মহু শ্লোগানে শ্লোগানে প্রকম্পিত হলো পুরো কৃতিনাশার পাড়।

লঞ্চ এসে ভোজেশ্বর ঘাটে ভিড়ল, ডাঃ আবুল কাশেমের নেতৃত্বে অন্যান্য নেতৃবৃন্দ আগত অতিথিদের সাথে করমর্দন পূর্বক তাঁদের সাথে লঞ্চ থেকে নামলেন। অদুরেই কয়েকটি ত্রিচক্রযান প্রস্তত ছিল। সন্মানিত মেহমানগণ রিকসায় চড়ে পুরো বাজার ঘুরে দেখবেন, মহকুমার অবকাঠামো নির্মাণের উপযোগীতা বিবেচনা করবেন। অবশেষে পাচানী বাবুর বাড়ী পরিদর্শন করবেন, যেখানটায় হবে ভোজেশ্বর বাসীর প্রস্তাবিত মহকুমার সদর দফতর।

রিকসা চলছে ওঁনাদের নিয়ে, সাথে আমাদের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। আমরা রিকসার পিছনে পিছনে হাজার ছাত্র জনতা দৌড়াচ্ছি। রিকসা চলায় বাঁধ সাধল দক্ষিন বাজারের সংকীর্ন কাঠের সাঁকোটি। সরুর কারণে রিকশা পার হতে পারবে না সাঁকোর উপর দিয়ে। কমিটির নেতৃবৃন্দ নেমে হেটে যেতে চাইলেন, কিন্তু উজ্জিবিত জনতা নাছোড়বান্দা। এ কি করে হয়! এতবড় মেহমান হেঁটে যাবেন খালের ওপার। সকলে ধরাধরি করে হৈ হৈ করে যাত্রীসহ রিকসা উচিয়ে খালের ওপারে নিয়ে গেলেন সকলকে। মেহমানগণ রীতিমত তাজ্জব, বিস্মিত!

সে এক অভূতপুর্ব দৃশ্য! রিকসা চলতে শুরু করল বাবুর বাড়ীর দিকে। পুরো স্থাপনা, বাড়ী ঘর, পতিত জমি সব দেখলেন। তাজা ডাব পেড়ে রাখা হয়েছিল আপ্যায়নের জন্য। সাথে ছিল ভোজেশ্বরের স্পেশাল সন্দেশ। আমাদের আনন্দের উচ্ছ্বাস, ওঁনাদের প্রতি আতিথিয়তা, সব কিছু মিলে সকলের চোখে মুখে ছিল সন্তুষ্টির স্মিত হাসি। পরে, চাকুরী জীবনে দেখেছি বড় কর্তারা নাকি এভাবেই হাসেন।

কমিটির সদস্যগণ তেমন কিছুই খেলেন না; সময় কম, এরপর যাবেন নড়িয়া। সেখানে নড়িয়ার দাবী নিয়ে কর্নেল শওকতের নেতৃত্বে অপেক্ষা করছে হাজারো জনতা।

কি আর করা! রিকসায় উঠানো হল সবুজ, সতেজ সদ্য গাছ হতে পাড়া ডাব, ঐতিহ্যবাহী ভোজেশ্বরের সন্দেশ, রসমালাই। বড় মসজিদের পুকুরের বিশালাকৃতির কিছু মাছ ধরা হয়েছিলো তাঁদের উপহার দেবার জন্যে। সেগুলিও লঞ্চে তুলে দেয়া হল। সেই লঞ্চে আমরাও তাঁদের সংগী হলাম নড়িয়ার সমাবেশে যোগ দেয়ার জন্যে।

ভোজেশ্বরবাসীর ভরসা ছিল, ভোজেশ্বর ফরিদপুর জেলার মধ্যে সর্ববৃহৎ বাজার ও নদী বন্দর। নদীপথে রাজধানী ঢাকার সাথে আছে যোগাযোগের সুব্যবস্থা। তাছাড়া, পালং, নড়িয়া, মহিশার, জাজিরা অঞ্চলের জনসাধারণ ভোজেশ্বর বাজারকে কেন্দ্র করেই তাঁদের ব্যবসায়িক কর্মকান্ড পরিচালনা করে থাকেন। এক কথায় ডামুড্যা ব্যাতিরেকে ভোজেশ্বরই পুর্ব মাদারীপুরের অন্যতম কেন্দ্র বিন্দু।

শোনা যাচ্ছিল, ভোজেশ্বর প্রস্তাবিত মহকুমার মধ্যবর্তী স্থান নয় বিধায় এখানে মহকুমার দফতর হওয়ার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীন। এ বিবেচনায় মরহুম ডাঃ আবুল কাশেম জাজিরার বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের প্রতি তাঁর লিখিত কয়েকটি চিঠি নিয়ে মাসুক আলী দেওয়ান, নিরঞ্জন ঘোষ ও আমাকে পাঠালেন জাজিরায়। চিঠির বিষয়বস্তু ছিল জাজিরার চেয়ারম্যানগন যেন জাজিরাকে প্রস্তাবিত নতুন মহকুমায় অন্তর্ভুক্তি করতে ইচ্ছুক হয়।

নৌকা যোগে আমরা প্রথমেই গেলাম বিলাসপুর ইউনিয়নের তৎকালীন চেয়ারম্যান ফজলুল হক মাতবরের বাড়ীতে। তিনি আমাদের জন্য দুপুরের আপ্যায়নের ব্যবস্থা করলেন। তিনি বললেন, ভোজেশ্বরের সাথে জাজিরা অঞ্চলের মানুষের হৃদয়ের সম্পর্ক। তাঁদের পূর্বপুরুষগণ হাট বাজারসহ যাবতীয় কেনাকাটা সবই ভোজেশ্বরের উপর নির্ভরশীল ছিলেন। সে ধারা এখনও বহমান। তিনি ভোজেশ্বরকে মহকুমার দপ্তর নির্মাণের পক্ষে তাঁর একটি সন্মতিপত্র আমাদের হাতে তুলে দিলেন। পরবর্তীতে ডাঃ আবুল কাশেম জাজিরার অন্যান্য জনপ্রতিনিধিদের সন্মতিপত্রও সংগ্রহ করেন।

মরহুম ডাঃ আবুল কাশেম একদিন আমাদের ডেকে পাঠালেন তাঁর ভোজেশ্বরের চেম্বারে। জাজিরার চেয়ারম্যানদের কয়েকটি সন্মতি পত্র আমাদের হাতে দিয়ে বললেন, নড়িয়া গিয়ে চেয়ারম্যানদের নামে নতুন মহকুমায় জাজিরার অন্তর্ভূক্তির দাবী সম্বলিত টেলিগ্রাম মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করো। আমরা তাই করেছিলাম। কাকতালীয় কিনা জানি না, তবে কিছুদিন পরেই নতুন মহকুমায় জাজিরার অনর্ভুক্তির খবর রেডিওতে প্রচার হয়। এতে ভোজেশ্বরাসী আস্থা ফিরে পায়। ভোজেশ্বর এখন মধ্যবর্তী। মহকুমার দাবী জোড়ালো হয়ে উঠে।

নড়িয়ার নেতৃত্বে আছেন কর্নেল শওকত আলী। তিনি সাইট সিলেকশন কমিটির উপস্থিতিতে নড়িয়াতে বিশাল জনসমাবেশে নড়িয়াকে মহকুমা হেড কোয়ার্টার করার জোড় দাবী তুললেন। আবুল দেওয়ানের ছোট ভাই বিমান বাহিনীর কর্মকর্তা এ্যাডভোকেট শাহ আলম কর্তৃক পঠিত প্রদত্ত মানপত্রে নতুন মহকুমার নামকরণ হবে ঈশাপুর সে প্রস্তাবও তুললেন।

যাহোক, সময় যায়, দিন যায়। সকলেই অপেক্ষা করছে, কোথায় হতে যাচ্ছে- নতুন মহকুমার সদর দফতর।

হঠাৎ একদিন রেডিওতে প্রচারিত হল মাদারীপুর দ্বিখন্ডিত হয়ে নুতন মহকুমার সদর দফতর হবে পালং। নতুন মহকুমার নাম হবে শরীয়তপুর। খুশী না হলেও অখুশী হয় নাই ভোজেশ্বরের মানুষ। কারণ পালং যে তাদেরই দোড়গোড়ায়।

১৯৭৮ সনে যেদিন নতুন শরীয়তপুর মহকুমা উদ্ধোধন করা হয়, সেদিনও সহস্র জনতার সাথে উপস্থিত থাকার সৌভাগ্য হয়েছিলো আমার। সাইট সিলেকসন কমিটির সদস্যবৃন্দ তাঁদের বক্তব্যের মাঝে ভোজেশ্বরের মানুষের আতিথেয়তার ভূযসী প্রশংসা করলেন জনসভায়। ভোজেশ্বরের সুস্বাদু সন্দেশের কথাও বলতে ভুললেন না।

৭৮ এ মহকুমা, ৮৪ তে জেলায় উন্নীত, শরীয়তপুর বাসীর সাথে আমরা ভোজেশ্বর বাসীও আনন্দিত। প্রশাসন আজ বাড়ীর দোর গোড়ায়। সুযোগ সুবিধা আজ হাতের মুঠোয়।

তবে, নদী বিধৌত শরীয়তপুরের কিছু এলাকা আজও দুর্গম, চরাঞ্চল। যেমন, চরআত্রা, নওপাড়া, সখিপুর, বড়কান্দি, কুন্ডেরচর, পালেরচর, বিলাসপুর ইত্যাদি এলাকা। এ এলাকার জনগনকে জেলার পুরোপুরি সুবিধা দিতে হলে জেলা শহরের পরবর্তী অফিসগুলো কিংবা সরকারী বিশ্ববিদ্যালয় অথবা মেডিকেল কলেজ শহরের উত্তর ও পূর্বদিকে গড়ে তোলাই অর্থবহ হবে।
চলবে-

লেখকঃ আবদুস সোবহান মাতবর। তিনি শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলার ভোজেশ্বর ইউনিয়নের সন্তান। তিনি দীর্ঘদিন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনে উপ মহাব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি অবসর জীবন যাপন করছেন। তার দুই কন্যা ও এক পুত্র সন্তান রয়েছে।

তার পুত্র ডাঃ নাফিজ ইমতিয়াজ একজন দন্ত বিশেষজ্ঞ এবং এক কন্যা ডাঃ নিশাত তামান্না কনক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মেডিকেল অফিসার হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। অপর কন্যা নিয়াজ তামান্না ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে এখন লন্ডনে অবস্থান করছেন।

Total View: 133

    আপনার মন্তব্য





সারাদেশ

কক্সবাজার

কিশোরগঞ্জ

কুড়িগ্রাম

কুমিল্লা

কুষ্টিয়া

খাগড়াছড়ি

খুলনা

গাইবান্ধা

গাজীপুর

গোপালগঞ্জ

চট্টগ্রাম

চাঁদপুর

চাঁপাইনবাবগঞ্জ

চুয়াডাঙা

জয়পুরহাট

জামালপুর

ঝালকাঠী

ঝিনাইদহ

টাঙ্গাইল

ঠাকুরগাঁও

ঢাকা

দিনাজপুর

নওগাঁ

নড়াইল

নরসিংদী

নাটোর

নারায়ণগঞ্জ

নীলফামারী

নেত্রকোনা

নোয়াখালী

পঞ্চগড়

পটুয়াখালি

পাবনা

পিরোজপুর

ফরিদপুর

ফেনী

বগুড়া

বরগুনা

বরিশাল

বাগেরহাট

বান্দরবান

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ভোলা

ময়মনসিংহ

মাগুরা

মাদারীপুর

মানিকগঞ্জ

মুন্সিগঞ্জ

মেহেরপুর

মৌলভীবাজার

যশোর

রংপুর

রাঙামাটি

রাজবাড়ী

রাজশাহী

লক্ষ্মীপুর

লালমনিরহাট

শরীয়তপুর

শেরপুর

সাতক্ষীরা

সিরাজগঞ্জ

সিলেট

সুনামগঞ্জ

হবিগঞ্জ

Flag Counter