বৃহস্পতিবার,  ৪ঠা মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ,  ১৯শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,  বিকাল ৪:১৮

হবিগঞ্জে কমেছে শুটকির উৎপাদন

জানুয়ারি ১৩, ২০১৮ , ১৭:২৭

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাব এবং ব্যাংকের ঋণ না পাওয়ায় হবিগঞ্জে কমেছে শুটকির উৎপাদন। বর্ষার শেষেই এখানে পুরোদমে শুরু হয় শুঁটকি উৎপাদন। প্রতি বছর শুটকি উৎপাদনের পরিমাণ এতো বেশী হয় যে দেশের চাহিদা মিটিয়ে ৫ থেকে ৬ কোটি টাকার শুঁটকি বিদেশে রপ্তানি করা হয়।

জেলার বানিয়াচং, আজমিরিগঞ্জ, নবীগঞ্জ ও লাখাই উপজেলার অন্তত ৫ শতাধিক পরিবার শুটকি উৎপাদনের সাথে জড়িত রয়েছেন। এখানকার উৎপাদিত শুঁটকিতে কোন ধরণের কেমিক্যাল ব্যবহার না করায় এর স্বাদ ও কদর আলাদা। কিন্তু এ বছর শুটকি উৎপাদনকারীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম হতাশা।

এ বছর অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, ঠান্ড আবহাওয়া এবং জলাবদ্ধতার কারণে কাঁচা মাছের চেয়ে শুটকির দাম অনেক কমে গেছে। একের পর এক লোকসানের মুখে পড়ায় তারা সঠিক সময়ে দিতে পারছেন না শ্রমিকদের বেতন। ফলে দেখা দিয়েছে শ্রমিক সঙ্কট। এদিকে, শুকনো মৌসুমেও হাওরের পানি না কমায় অন্য বছরের তুলনায় পর্যাপ্ত পরিমাণ মাছ ধরা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে মাছের অভাবে কাঙ্খিত হারে শুটকি উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে না।

হবিগঞ্জের শুটকি উৎপাদনকারীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ডিসেম্বর মাসের টানা তিন দিনের বৃষ্টিতে বিরাট অংকের লোকসান গুণতে হয়েছে তাদের। সেই সাথে ঠান্ডা আবহাওয়ার কারণে দিনের অধিকাংশ সময়ই সূর্য্যের দেখা মিলছে না। ফলে শুটকি শুকাতে না পারায় অনেক শুটকি নষ্ট হয়ে গেছে

অনেক শুটকি ব্যবসায়ী এবং উৎপাদনকারী সরকারি ভাবে ঋণ না পাওয়ার তারা মহাজনদের কাছ থেকে অধিক সুদে ঋণ নিয়ে শুটকি উৎপাদন করছেন। ফলে প্রতি মাসেই মহানজনকে অধিক হারে সুদ দিতে হচ্ছে। অনেক ব্যবসায়ী সরকারি সহযোগিতা না পাওয়ায় এ ব্যবসা ছেড়ে দিয়ে অন্য ব্যবসায় ঝুকে পড়ছেন।

এ ব্যাপারে শুটকি উৎপাদনকারী বানিয়াচং উপজেলার ভাটিপাড়া গ্রামের ইন্দ্রজিত দাস জানান, ‘এ বছর মাছের দাম বেশি। অথচ শুটকির দাম কম। তাই শুটকি উৎপাদন করে লাভবান হওয়া যাচ্ছে না।তিনি আরও বলেন, ‘লোকসান হলেও বাপ-দাদার এ ব্যবসা আমরা ছাড়তে পারছি না।

একই এলাকার আরতি বালা দাস বলেন- ‘সরকার থেকে আমাদের মাঝে মধ্যে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। কিন্তু কোন ধরণের ঋণ আমরা পাই না। আমদের আর্থিক সংকটের কারণে শুটকি উৎপাদন করতে হিমশিম খাচ্ছি।
বানু বালা দাস জানান- ‘মহাজনদের কাছ থেকে বেশি সুদে টাকা আনতে হয়। ফলে আমাদের যা লাভ হয় তা মহাজনদের দিয়ে দিতে হয়।

উমেদ নগর এলাকার নজরুল ইসলাম জানান, ‘গত মাসের তিন দিনের বৃষ্টির কারণে আমাদের অনেক টাকা লোকসান হয়েছে। প্রচন্ড শীতের কারণে দিনের বেশির ভাগ সময়ই রোদের দেখা মিলছে না। ফলে ঠিক সময় শুটকি শুকাতে পারছি না। বেশির ভাগ সময় শুটকি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

শুটকির পাইকারি ব্যবসায়ি মহিউদ্দিন জানান- ‘অন্য বছর এই পৌষ মাসে হাওরের পানি শুকিয়ে যায়। কিন্তু এ বছর হাওরের পানি রয়ে গেছে। ফলে মাছ ধরা সম্ভব হচ্ছে না। যার কারণে পর্যপ্ত পরিমাণে শুটকি বাজারে উঠছে না।

শুটকি পাইকারি ব্যবসায়ি চাঁন মিয়া বলেন ‘এক সময় আমাদের এলাকায় প্রচুর পরিমাণে মাছ ধরা পড়ত। কিন্তু বিল-জলাশয় ভরাট হয়ে যাওয়া এবং তা শুকিয়ে মাছ শিকার করার কারণে মাছ কমে গেছে’। শুটকি ব্যবসায়ি এবং উৎপাদনকারীদের কথা বিবেচনা করে, নদী-জলাশয় ভরাট রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান তিনি।

এ ব্যাপারে জেলা মৎস কর্মকর্তা মো. এনামূল হক বলেন, ‘মৎস অফিসের উদ্যোগে নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন এবং শুটকি উৎপাদকারীদের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। তবে সরকারি কোন আর্থিক সহযোগিতা করা হচ্ছে না। শুটকি উৎপাদনকারিদের জন্য ঋণ দানের ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানিয়েছি সংম্লিষ্ট দপ্তরে। আশা করছি আগামি বছর থেকে সরকারি ভাবে ঋণের ব্যবস্থা হবে।

Total View: 1200

    আপনার মন্তব্য





সারাদেশ

কক্সবাজার

কিশোরগঞ্জ

কুড়িগ্রাম

কুমিল্লা

কুষ্টিয়া

খাগড়াছড়ি

খুলনা

গাইবান্ধা

গাজীপুর

গোপালগঞ্জ

চট্টগ্রাম

চাঁদপুর

চাঁপাইনবাবগঞ্জ

চুয়াডাঙা

জয়পুরহাট

জামালপুর

ঝালকাঠী

ঝিনাইদহ

টাঙ্গাইল

ঠাকুরগাঁও

ঢাকা

দিনাজপুর

নওগাঁ

নড়াইল

নরসিংদী

নাটোর

নারায়ণগঞ্জ

নীলফামারী

নেত্রকোনা

নোয়াখালী

পঞ্চগড়

পটুয়াখালি

পাবনা

পিরোজপুর

ফরিদপুর

ফেনী

বগুড়া

বরগুনা

বরিশাল

বাগেরহাট

বান্দরবান

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ভোলা

ময়মনসিংহ

মাগুরা

মাদারীপুর

মানিকগঞ্জ

মুন্সিগঞ্জ

মেহেরপুর

মৌলভীবাজার

যশোর

রংপুর

রাঙামাটি

রাজবাড়ী

রাজশাহী

লক্ষ্মীপুর

লালমনিরহাট

শরীয়তপুর

শেরপুর

সাতক্ষীরা

সিরাজগঞ্জ

সিলেট

সুনামগঞ্জ

হবিগঞ্জ

Flag Counter