বুধবার,  ২৫শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ,  ১০ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,  ভোর ৫:৩৫

১৯ বছর পর শরীয়তপুরের চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার শুনানি চলছে

অক্টোবর ২৩, ২০২০ , ০৯:২৩

স্টাফ রিপোর্টার
উচ্চ আদালতের নির্দেশে ১৯ বছর পর শরীয়তপুরের চাঞ্চল্যকর জোড়া খুনের মামলার শুনানি শুরু করেছে শরীয়তপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালত।
মামলায় ন্যায় বিচার পেতে আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন নিহত এ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমানের ছেলে এ্যাডভোকেট পারভেজ রহমান জন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এ্যাডভোকেট মির্জা হযরত আলী ও নিহত হাবিবুর রহমানের ছেলে এ্যাডভোকেট পারভেজ রহমান জন বলেন, ২০০১ সালের ১ অক্টোবর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ প্রার্থী মোবারক আলী সিকদারের সাথে বিএনপি’র সমর্থিত স্বতন্ত্রপ্রার্থী হেমায়েত উল্লাহ আওরঙ্গ নির্বাচনে প্রার্থী হন। ভোট গ্রহণের দিন শরীয়তপুর ৮টি কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ স্থগিত হলে তা পুণরায় ৮ অক্টোবর ভোট গ্রহণের দিন ধার্য হয়।
সেই নির্বাচনে সুষ্ঠুভাবে ভোট গ্রহণের জন্য আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের দায়িত্ব ভাগের জন্য তৎকালীন জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এবং পাবলিক প্রসিকিউটর হাবিবুর রহমানের বাড়ির আঙ্গিনায় ২০০১ সালের ৫ অক্টোবর একটি জরুরি সভা বসে। সেই সভা চলাকালীন দিনে দুপুরে সতন্ত্রপ্রার্থী হেমায়েত উল্লাহ আওরঙ্গ এর সমর্থক এবং বেশকিছু চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা এ্যাডভোকেট মোঃ হাবিবুর রহমানের বাড়িতে সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে বাড়িঘরে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে এবং এ্যাডভোকেট মোঃ হাবিবুর রহমান ও তার ছোট ভাই মোঃ মনির হোসেন মুন্সীকে গুলি করে নির্মমভাবে হত্যা করে।
সেই দিন রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বাড়ির ২শ’ গজ দুরের পালং থানা পুলিশ রক্ষার্থে এগিয়ে আসেনি। নিরাপত্তার জন্য সন্ত্রাসীদের ভয়ে জীবিত অবস্থায় তাদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিতে পারেনি পরিবার। তাদের মৃত্যুর পরে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেন।
এরপর এ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমানের স্ত্রী মিসেস জিন্নাত রহমান বাদী হয়ে স্বামী ও দেবরের হত্যার বিচার দাবিতে মামলা করেন।
পরে নির্বাচনে হেমায়েত উল্লাহ আওরঙ্গ জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হয়ে প্রভাব বিস্তার করেন। ২০০৩ সালে পুলিশের চার্জশিটে জড়িত আসামিদের নাম বাদ দেয়া হলে বাদী জিন্নাত রহমান নারাজি দেন। নারাজির দরখাস্ত শরীয়তপুরের আদালতে না মঞ্জুর হলে বাদী উচ্চ আদালতে আবেদন করেন। ২০১৩ সালে মামলাটি পূর্ণ তদন্তের আদেশ দেন সুপ্রিমকোর্টের আপিল ডিভিশন। পুণরায় তদন্ত করে বাদপড়া আসামিদের নাম ভুক্ত করে পুণরায় চার্জশিট দেন। মামলার বাদী ২০১৭ সালে ব্রেইন স্টোক করে মারা যায়।
যার প্রেক্ষিতে বাদীর পক্ষে ছেলে এ্যাডভোকেট পারভেজ রহমান জন আদালতে মামলাটির বাদী হিসেবে দায়িত্ব নেন।
অবশেষে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ৬ মাসের মধ্যে মামলাটির সাক্ষ্য গ্রহণ নিয়ে রায় প্রদানের নির্দেশ দেন। তারই প্রেক্ষাপটে করোনা পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে বর্তমানে মামলাটির শুনানি শুরু হয়েছে দীর্ঘ ১৯ বছর পরে। বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষ আশাবাদী যে জটিলতা কাটিয়ে বর্তমানে যেভাবে মামলাটির শুনানি ও সাক্ষ্য গ্রহণ ও জেরা চলছে এতে ন্যায় বিচার পাবে এবং খুনিদের সর্বোচ্চ বিচার হবে।
মামলায় আসামি পক্ষের আইনজীবী মাসুদুর রহমান জানান, বর্তমানে সে ৫৬ জনের জন্য লড়ছেন। তিনিও দাবি করেন প্রকৃত খুনিদের বিচার হোক। কিন্তু কোনো নিরীহ লোক যেন না ফেঁসে না যান। ন্যায় বিচারের আশাবাদ ব্যক্ত করেন আসামী পক্ষের আইনজীবী মাসুদুর রহমান।
উল্লেখ্য ঃ বর্তমান মামলার ১ম আসামি সাবেক সংসদ সদস্য হেমায়েত উল্লাহ আওরঙ্গ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। এছাড়াও মামলার আরও ২ আসামির মৃত্যু হয়েছে।

Total View: 225

    আপনার মন্তব্য





সারাদেশ

কক্সবাজার

কিশোরগঞ্জ

কুড়িগ্রাম

কুমিল্লা

কুষ্টিয়া

খাগড়াছড়ি

খুলনা

গাইবান্ধা

গাজীপুর

গোপালগঞ্জ

চট্টগ্রাম

চাঁদপুর

চাঁপাইনবাবগঞ্জ

চুয়াডাঙা

জয়পুরহাট

জামালপুর

ঝালকাঠী

ঝিনাইদহ

টাঙ্গাইল

ঠাকুরগাঁও

ঢাকা

দিনাজপুর

নওগাঁ

নড়াইল

নরসিংদী

নাটোর

নারায়ণগঞ্জ

নীলফামারী

নেত্রকোনা

নোয়াখালী

পঞ্চগড়

পটুয়াখালি

পাবনা

পিরোজপুর

ফরিদপুর

ফেনী

বগুড়া

বরগুনা

বরিশাল

বাগেরহাট

বান্দরবান

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ভোলা

ময়মনসিংহ

মাগুরা

মাদারীপুর

মানিকগঞ্জ

মুন্সিগঞ্জ

মেহেরপুর

মৌলভীবাজার

যশোর

রংপুর

রাঙামাটি

রাজবাড়ী

রাজশাহী

লক্ষ্মীপুর

লালমনিরহাট

শরীয়তপুর

শেরপুর

সাতক্ষীরা

সিরাজগঞ্জ

সিলেট

সুনামগঞ্জ

হবিগঞ্জ

Flag Counter