শনিবার,  ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ,  ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,  রাত ৯:২৯

৫ হাজার টাকার বায়োমেট্রিক ডিভাইস ১৫ হাজার টাকায়!

ডিসেম্বর ১৭, ২০১৯ , ২৩:০৮

শাকিল আহম্মেদ
শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোতে ডিজিটাল বায়োমেট্রিক ডিভাস স্থাপনে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
ভেদরগঞ্জ উপজেলায় ৫৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা ৫ হাজার টাকা দামের এক একটি ডিভা্ইস বসিয়ে ১৫ হাজার টাকা করে ভাউচার করেছেন। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা জুড়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। তবে শিক্ষকরা বলছে, একটি প্রভাবশালী চক্রের চাপের কারণে বাধ্য হয়ে তারা কম মূল্যের এ ডিভাইস গুলো বেশী মূল্যে কিনতে বাধ্য হয়েছেন। কিন্তু চক্রের সদস্যরা প্রভাবশালী হওয়ায় নূন্যতম প্রতিবাদও করতে পারছে না তারা।
বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, দেশের প্রত্যেকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতির বিষয়টি শতভাগ নিশ্চিত করতে এ বছর বিদ্যালয় গুলোতে ডিজিটাল বায়োমেট্রিক ডিভাইস বসানোর নির্দেশনা দেয় সরকার। সে অনুযায়ী ভেদরগঞ্জ থানাধীন ৫৪টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা স্লীপ প্রকল্পের টাকায় ডিভাইস গুলো কেনার উদ্যোগ নেয়। তবে এ সময় একটি চক্র এসব বিদ্যালয় গুলোতে বায়োমেট্রিক ডিভাস সরবরাহ করার জন্য উপস্থিত হয়। ১৫ হাজার টাকার একটি প্যাকেজে এ চক্রটি বিদ্যালয় গুলোতে বায়োমেট্রিক ডিভাইস সরবরাহের পাশাপাশি সিসি ক্যামরা ও আনুষাঙ্গিক যন্ত্রপাতি বসানোরও আশ্বাস প্রদান করে। কিন্তু পরবর্তীতে কোন প্রকার সিসি ক্যামরা না বসিয়ে একটি নিম্নমানের বায়েমেট্রিক ডিভাস বসিয়ে ১৫ হাজার টাকা করে আদায় করে নেয় চক্রটি। জানা গেছে, ”রিয়েল টাইম” নামে ঐ ডিভাইসটির খুচরা বাজার মূল্য রয়েছে ৫ হাজার ৩শ টাকা। এছাড়া পাশ্ববর্তী উপজেলা ডামুড্যা ও গোসাইরহাটের প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোতেও এ চক্রটি এসব নিম্নমানের ডিভাইস সরবরাহ করে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। চক্রটির অন্যতম সদস্য রিয়াদ নামে এক ব্যাক্তি বিদ্যালয় গুলোতে গিয়ে এসব ডিভাইসের টাকা নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষকরা।
এদিকে রহস্যজনক কারণে নিম্নমানের ডিভাইস সরবরাহকারী এ চক্রটির বিষয়ে মুখ খুলতে চায় না কোন শিক্ষক ও কর্মচারী।
নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক ভেদরগঞ্জ থানাধীন একাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা বলেন, উপজেলা শিক্ষা অফিসের নির্দেশেই চক্রটির কাছ থেকে আমারা নিম্নমানের এসব ডিভাইস গুলো ক্রয় করেছি। এসব ডিভাইসের সাথে সিসি ক্যামরা দেয়ার কথা থাকলেও, এসব না দিয়েই ১৫ হাজার টাকা করে নিয়ে গেছে ঐ চক্রের সদস্যরা। এখন আমরা বিপাকে পড়েছি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কোন প্রকার বক্তব্য দিয়ে রাজি হয়নি ভেদরগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষ কর্মকর্তা সুলতানা রাজিয়া।
ডিভাইস স্থাপনকারী রিয়াদ মিয়া বলেন, ডিভাইসটির সাথে আমরা সকল শিক্ষককে পান্স কার্ড দিয়েছি, অন্য ডিভাইসের গ্যারান্টি ১ বছর দিলেও আমরা এ ডিভাইসের ৩ বছর গ্যারান্টি দিয়েছি। এছাড়া আমরা বিদ্যালয় গুলোতে পর্যায়ক্রমে সিসি ক্যামরাও দিবো।
এ বিষয়ে ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ তানভীর আল নাসীফ বলেন, বিষয়টি আমি তদন্ত করে দেখবো। যদি কোন অনিয়ম হয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Total View: 339

    আপনার মন্তব্য





সারাদেশ

কক্সবাজার

কিশোরগঞ্জ

কুড়িগ্রাম

কুমিল্লা

কুষ্টিয়া

খাগড়াছড়ি

খুলনা

গাইবান্ধা

গাজীপুর

গোপালগঞ্জ

চট্টগ্রাম

চাঁদপুর

চাঁপাইনবাবগঞ্জ

চুয়াডাঙা

জয়পুরহাট

জামালপুর

ঝালকাঠী

ঝিনাইদহ

টাঙ্গাইল

ঠাকুরগাঁও

ঢাকা

দিনাজপুর

নওগাঁ

নড়াইল

নরসিংদী

নাটোর

নারায়ণগঞ্জ

নীলফামারী

নেত্রকোনা

নোয়াখালী

পঞ্চগড়

পটুয়াখালি

পাবনা

পিরোজপুর

ফরিদপুর

ফেনী

বগুড়া

বরগুনা

বরিশাল

বাগেরহাট

বান্দরবান

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ভোলা

ময়মনসিংহ

মাগুরা

মাদারীপুর

মানিকগঞ্জ

মুন্সিগঞ্জ

মেহেরপুর

মৌলভীবাজার

যশোর

রংপুর

রাঙামাটি

রাজবাড়ী

রাজশাহী

লক্ষ্মীপুর

লালমনিরহাট

শরীয়তপুর

শেরপুর

সাতক্ষীরা

সিরাজগঞ্জ

সিলেট

সুনামগঞ্জ

হবিগঞ্জ

Flag Counter