মঙ্গলবার,  ২৪শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ,  ৯ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,  রাত ৪:৫২

৯ বছরে মামলা ৯০ হাজার, আসামি ২৫ লাখ: বিএনপি

অক্টোবর ৬, ২০১৮ , ১৭:৩৬

স্টাফ রিপোর্টার
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন, ২০০৯ সাল থেকে থেকে ২০১৮ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ৯০ হাজার ৩৪০ মামলা করা হয়েছে এবং এসব মামলায় আসামি হয়েছেন ২৫ লাখ ৭০ হাজার ৫৪৭ জন।

৬ অক্টোবর, শনিবার বেলা সা‌ড়ে ১১টার দি‌কে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এই পরিসংখ্যান তুলে ধরেন মির্জা ফখরুল ইসলাম।

সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল জানান, ২০০৯ সাল থেকে ২০১৮ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিহত হয়েছেন বিএনপির ১ হাজার ৫১২ জন নেতাকর্মী। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্বারা নেতাকর্মীদের নিহত হওয়ার সংখ্যা ৭৮২ জন। মোট গুম হয়েছেন ১ হাজার ২০৪ জন। এর মধ্যে ৫৮১ জনকে পরবর্তী সময়ে (অনেকদিন পর) গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। গুম হয়ে আছে এখন পর্যন্ত ৪২৩ জন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গুরুতর জখম হয়েছেন ১০ হাজার ১২৬ জন। এই পরিসংখ্যানের রেকর্ড রয়েছে বলে জানান তিনি।

মির্জা ফখরুল জানান, ১ সেপ্টেম্বর থেকে গত এক মাসে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ‘গায়েবি’ মামলা করা হয়েছে ৪ হাজার ১৪৯টি। এসব মামলায় জ্ঞাত আসামির সংখ্যা ৮৬ হাজার ৬৯২ জন, অজ্ঞাত সংখ্যা ২ লাখ ৭৬ হাজার ২৭৭ জন। জ্ঞাত ও অজ্ঞাত মিলিয়ে ৩ লাখ ৬২ হাজার ৯৬৯ জন। এখন পর্যন্ত গ্রেফতার হয়েছে ৪ হাজার ৬৮৪ জন, রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে ২৪৭ জনকে।

বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এসব মামলা ‘গায়েবি ও মিথ্যা’ দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সরকারের একবারও বোধোদয় হচ্ছে না যে, এই কাজগুলো করে তারা সবাইকে বিপদে ফেলছে। এই কাজগুলোর সঙ্গে যারা জড়িত, যারা এই মামলা দিয়েছেন বা লিখেছেন, যারা এই মামলাগুলো করছেন; এসব মিথ্যা মামলা সম্পর্কে ভবিষ্যতে যদি কোনো দিন চ্যালেঞ্জ করে কোনো কিছু করা হয়, প্রমাণ করা যায়, তাহলে সবাই বিপদে পড়বে, আইনত বিপদে পড়বে।’

সরকার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন একতরফা করার জন্য সম্ভাব্য সব ধরনের ষড়যন্ত্র করছে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘আজকে এ দেশের জনগণের মধ্যে যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা সৃষ্টি করেছে এবং এই আশঙ্কা সৃষ্টি করেছে যে, আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তারা আরেকটি ভোটারবিহীন বিরোধী দল-বিহীন নির্বাচনের কূটকৌশল নিচ্ছে।’

আলাপ আলোচনার মাধ্যমে রাজনৈতিক সংকটের সমাধানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘বাংলাদেশে যে রাজনৈতিক সংকট, সে সম্পর্কে আমরা বহুবার বলেছি। আমরা বলেছি যে, জনগণের ভোটাধিকার হরণ করে জনগণের মৌলিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কখনো নির্মাণ করা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে জনগণের আশা আকাঙ্খা প্রতিফলন ঘটে না, এই ধরনের কোনো নির্বাচন হলে কখনো গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব না।’

‘সেই জন্যই আমরা বারবার বলে আসছি যে, আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে আসা উচিত ছিল। ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে থেকে বলছি। কিন্তু এই সরকার জনগণকে তাদের চিন্তার মধ্যেই আনে না। জনগণকে তাদের প্রয়োজন নেই। সেজন্য রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে দখলদারিত্বের মাধ্যমে ক্ষমতায় টিকে আছে।’

আগামী নির্বাচন নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দেশে বিদেশে বক্তৃতা দেওয়ার সময় তারা সবাই বলছে যে, একটা অবাধ নির্বাচন হবে, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে এবং লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি থাকবে, সবাই ভোট দিতে পারবে। আজকের এই পরিসংখ্যানে, এই তথ্যে, একটা জিনিসই প্রমাণিত হয় যে, সরকার সম্ভাব্য সব রকমের প্রচেষ্টা চালাচ্ছে যেন বিএনপি নির্বাচনে যেতে না পারে। যেন বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে।’

‘দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে তাকে কারাগারে আটকে রাখা যায়, তারেক রহমানকে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে নির্বাচিত করে রাখা যায় এবং সিনিয়র নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে হওয়া মামলাগুলো দ্রুত শেষ করা যাতে করে আগেই মামলাগুলো নিষ্পত্তি হয়ে যায়। এর উদ্দেশ্য তাদের নির্বাচন থেকে দূরে রাখা, তারা একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চায়।’

‘জনগণ এই অবস্থার পরিবর্তন চায়। এই সরকার পরিবর্তন করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে চায় তারা। কিন্তু সেই নির্বাচন যেন বিরোধী দল অংশগ্রহণ করতে না পারে সরকার তার সব রকম ষড়যন্ত্র তৈরি করে রেখেছে।’

সরকারকে উদ্দেশ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আবার আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করতে হবে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে এবং সকল মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। বিএনপি যে ৭ দফা দিয়েছে সেই দাবিগুলো মেনে নিলে তাহলেই কেবল নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হতে পারে তার আগে নয়।’

‘আমরা একটা সুষ্ঠু নির্বাচন চাই। দেশের মানুষ ভোট দিতে পারুক এবং নির্বাচনের মধ্য দিয়ে যাতে সরকার পরিবর্তন হয় এবং জনগণের আশা-আকাঙ্খা পূরণ হয় সেটিই চাই।’

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘সরকার নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করার জন্য যত ধরনের কূটকৌশল ও কর্মকাণ্ড আছে, সবগুলোই তারা চালাচ্ছে। পৃথিবীর কোথাও এমন দৃশ্য নেই যে, নির্বাচনের আগে নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করার জন্য সরকার যা যা করা দরকার তাই তাই করছে। সরকার বিএনপিকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার জন্য এই কর্মকাণ্ডগুলো করছে।’

খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি সরকার গুম-খুন-রাহাজানি-লুটপাট-ব্যাংক ডাকাতিসহ যেসব কাজ করেছে, সেসব কাজে তারা আজ আতঙ্কিত। যদি জনগণ ভোট দিতে পারে তাহলে আওয়ামী লীগের যে পাত্তা থাকবে না এবং তাদের অধিকাংশ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হবে, তারা তা জানে। সেই জন্যই তারা বেশি আতঙ্কিত। এ জন্য তারা বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রাখতে চায়।

এ ছাড়া মিথ্যা মামলা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, ‘যে অফিসার বাদী হয়ে এই মামলা দায়ের করেছেন তার বিরুদ্ধে কেন সরকার ডিপার্টমেন্টাল অ্যাকশন নেবে না, তার বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তাকে কেন শাস্তি দেয়া হবে না; এই আলোকে আমরা একটি রিট পিটিশন করার চিন্তা করছি।’

Total View: 761

    আপনার মন্তব্য





সারাদেশ

কক্সবাজার

কিশোরগঞ্জ

কুড়িগ্রাম

কুমিল্লা

কুষ্টিয়া

খাগড়াছড়ি

খুলনা

গাইবান্ধা

গাজীপুর

গোপালগঞ্জ

চট্টগ্রাম

চাঁদপুর

চাঁপাইনবাবগঞ্জ

চুয়াডাঙা

জয়পুরহাট

জামালপুর

ঝালকাঠী

ঝিনাইদহ

টাঙ্গাইল

ঠাকুরগাঁও

ঢাকা

দিনাজপুর

নওগাঁ

নড়াইল

নরসিংদী

নাটোর

নারায়ণগঞ্জ

নীলফামারী

নেত্রকোনা

নোয়াখালী

পঞ্চগড়

পটুয়াখালি

পাবনা

পিরোজপুর

ফরিদপুর

ফেনী

বগুড়া

বরগুনা

বরিশাল

বাগেরহাট

বান্দরবান

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ভোলা

ময়মনসিংহ

মাগুরা

মাদারীপুর

মানিকগঞ্জ

মুন্সিগঞ্জ

মেহেরপুর

মৌলভীবাজার

যশোর

রংপুর

রাঙামাটি

রাজবাড়ী

রাজশাহী

লক্ষ্মীপুর

লালমনিরহাট

শরীয়তপুর

শেরপুর

সাতক্ষীরা

সিরাজগঞ্জ

সিলেট

সুনামগঞ্জ

হবিগঞ্জ

Flag Counter